ঢাকা, বৃহস্পতিবার 29 March 2018, ১৫ চৈত্র ১৪২৪, ১০ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কয়রা উপজেলার অসহায় মানুষের কান্না থামছে না

 

খুলনা অফিস : আইলা দুর্গত কয়রা উপজেলার অসহায় মানুষের কান্না যেন থামছে না। বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপজেলাবাসী একরকম যুদ্ধ করে টিকে আছে। এইসব দুর্যোগের রেশ কাটতে না কাটতেই মানবসৃষ্ট চিংড়ি ঘেরের দুর্যোগের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। যে রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, জমি উদ্ধার, নোনা পানি প্রবেশ রোধের পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য সেই বাঁধের রাস্তা ছিদ্র করে নোনা পানি প্রবেশের উৎসবে পরিণত করেছে প্রভাবশালীরা। উপকূলীয় জনপদ কয়রায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৩-১৪/১ ও ১৩-১৪/২ পোল্ডারে বেড়িবাঁধের শতাধিক স্থানে ছিদ্র করে বাঁধের তলদেশে পাইপ ঢুকিয়ে নোনা পানি ঢুকানোর কারণে ওয়াপদা বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ছে। অপরদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং ব্যাপক চিংড়ি চাষের কারণে মাটি ও পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে ফলদ ও বনজ গাছপালা মরে যাচ্ছে। বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবে এলাকার দরিদ্র ও প্রান্তিক আয়ের অনেক মানুষ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। হাজার হাজার হেক্টর আবাদী জমি যা চাষিদের বেঁচে থাকার অবলম্বন তা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। লবণাক্ত এলাকায় সবুজের চিহ্ন নেই, মানবসৃষ্ট দুর্যোগে এ অঞ্চলে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে কৃষি ও বনভূমিতে জোরপূর্বক নোনা পানি তুলে চিংড়ি চাষ অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিল হাইকোর্ট। উচ্চ আদালতের এ নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও চিংড়ি ঘেরে নোনা পানি তোলার জন্য বেড়িবাঁধের সর্বনাশ করেই চলেছে ঘের মালিকরা। কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশি, গোলখালি, আংটিহারা উত্তর বেদকাশির হরিহরপুর, কাটকাটা, গাববুনি, গাজীপাড়া, কাশিরহাট, কয়রা সদরের হরিণখোলা-ঘাটাখালি, গোবরা, ৬নং কয়রা, মহারাজপুরের দশালিয়া, মঠবাড়ি, মহেশ্বরীপুরের কালিবাড়ি, শিকারিবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় পাইপ বসানোর দৃশ্য চোখে পড়ে। এ সব এলাকার অর্ধশত কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ারও উপক্রম। পাউবো কর্মকর্তারা অবশেষে জনপদগুলো রক্ষার জন্য মূল ক্লোজারের কাজ বন্ধ রেখে অনেক স্থানে রিং বাঁধ তৈরি করে জনপদগুলো রক্ষা করেছে। ফলে বহু জায়গা জমি ওয়াপদার বাইরে চলে গেছে। নদীর পানিতে গ্রাস করেছে বহু গ্রাম। ওয়াপদা বেড়িবাধের অবৈধ বোরিং ও নাইনটি পাইপ এর ব্যাপারে কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল কুমার সাহা বলেন, অব্যাহত নদী ভাঙনের কারণে বেড়িবাঁধের অবস্থা নাজুক। ইতোমধ্যে সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে অবৈধ পাইপ অপসারণের জন্য মাইকিং করা হয়েছে। এরপরেও যারা বাঁধ ছিদ্র করে ঘের ব্যবসা করছে তাদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মো. সেলিম আহমেদ বলেন, আমরা বেড়িবাঁধে বোরিং ও নাইনটি পাইপ মালিকদের তালিকা প্রস্তুত করছি, শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনসচেতনতা ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা : বিভাগীয় পর্যায়ে ট্যুরিজম সম্পর্কিত জনসচেতনতা ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা গতকাল বুধবার সকালে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া। খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ ফারুক হোসেন এতে সভাপতিত্ব করেন। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব নিখিল রঞ্জন রায়। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মাহাবুব হাকিম, অতিরিক্ত ডিআইজি এ কে এম নাহিদুল ইসলাম, কেএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সরদার রকিবুল ইসলাম এবং জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান। স্বাগত বক্তৃতা করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নিশ্চিন্ত কুমার পোদ্দার। এতে খুলনা ও যশোরের জেলা প্রশাসকদ্বয় তাঁদের নিজ নিজ জেলা পর্যটনের বিভিন্ন স¤ভাবনাময় ও দর্শনীয় স্থাপনা ও স্থানগুলো পাওয়ার পয়েন্টে উপস্থাপন করেন। কর্মশালায় বক্তারা বলেন, এতদঞ্চলে সুন্দরবন আমাদের পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ। কক্সবাজার, সুন্দরবনসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আর্কষণীয় স্থানগুলোকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে ২০১০ সালে ট্যুরিজম বোর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গঠন করা হয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ বিভাগ। সরকার পর্যটন শিল্পের বিকাশে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাতে দুই হাজার তিনশত কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এছাড়া ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অর্থাৎ সক্ষমতা বাড়াতে দুইশত কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।  কর্মশালায় বিভাগীয় পর্যায়ের সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, হোটেলের প্রতিনিধি, এভারগ্রীন ট্যুরস, সাংবাদিক, স্টেকহোল্ডার, এনজিও এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ