ঢাকা, বৃহস্পতিবার 29 March 2018, ১৫ চৈত্র ১৪২৪, ১০ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিশ্ব ক্রিকেট এবং কিছু কথা

মোহাম্মদ সুমন বাকী : ক্রিকেট সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে। তা নিয়ে সবাই মেতে উঠবে। অংশগ্রহণকারী দল বাড়বে লড়াইকে ঘিরে। জনপ্রিয়তার গুণগান চলবে বিশ্বের একা প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে। আইসিসি এমন প্রত্যাশা করবে। এই ক্রীড়ায় দল না বাড়লে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে না। একই জায়গায় স্থান পাবে। এর বিপরীতে সেটা কমে যেতে পারে। যা স্বাভাবিক। এক সময় বিশ্বকাপ ক্রিকেটের চূড়ান্ত পর্বে ১৪ টি দল আকর্ষনীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার মহাআমেজ নিয়ে মাঠে নামতো। পিছনে ফেলা আসরগুলোতে চোখ রাখলেই সেই সব আনন্দময় দৃশ্য ফুটে উঠে বার বার। ক্রিকেট বিশ্বায়ন আইসিসির স্বপ্ন। তা বাস্থবায়ন করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তারা। যা ধাপে ধাপে। সেটা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এর নিজস্ব ফান্ড এবং বিখ্যাত বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহায়তায়। এ ক্রীড়া ডিসিপ্লিন বিশ্বায়নের মুখ কি দেখবে ? প্রশ্নটি উঁকি দেয় কলমের কালির ছোঁয়ার অক্ষরেরঅক্ষরের স্পর্শে! সেটাও আবার হঠাৎ !! যা ভাবা যায় না!!! এখানে একটি কথা অবশ্যই ঊল্লেখ করা প্রয়োজন।
তা অপ্রিয় সত্য। সেটা হলো ক্রিকেট বিশ্বায়নের পরিবর্তে পূর্বের ন্যায় ঘরায়ন হয়ে যাচ্ছে। এর পারফেক্ট উদাহরন ২০১৯ ইংল্যান্ড ওয়ানডে বিশ্বকাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। যেখানে মাত্র ১০টি দল অংশ নিবে। তা বিশ্ব ক্রীড়া প্রেমীদের মাঝে কতটুকু সাড়া ফেলবে ? প্রশ্নের উত্তর খোঁজ করার মাধ্যমে সেটাই এখন দেখার বিষয়! তবে এশিয়া মহাদেশ খুশির জোয়ারে নেচে গেয়ে আসন্ন ক্রিকেট বিশ্বকাপ বরনের অপেক্ষায় থাকবে। যা বলা যায় নিঃসন্দেহে। কারণ ২০১৯ বিশ্বকাপে এশিয়া অঞ্চলের পাঁচ দেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শরীক হবে। তারা হলো ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ও আফগানিস্তান। প্রথম চার দল আইসিসির শীর্ষ তালিকার নিয়ম অনুযায়ী এই যোগ্যতা অর্জন করে। যা সকলের জানা রয়েছে। আফগানিস্তান বাছাই পর্ব টপকে চূড়ান্ত লড়াইয়ে পা রাখে। যার পাশাপাশি আপসেট ঘটে। সেটা এ খেলার রোমাঞ্চকর দৃশ্যকে কাঁদিয়ে। দুঃখজনক ধারায় ইতিহাসের পাতা স্বাক্ষী রেখে। এন্ড্রু ফ্লাওয়ার, হুইটাল, গ্রান্ট ফ্লাওয়ার, ক্যামবেল, হিথ স্ট্রিক ওলেঙ্গাদের সুপার পারফর্মের স্মৃতির বাহক জিম্বাবুয়ের বিদায়ের মাধ্যমে। এর ফলে প্রথম, দ্বিতীয় আসরের ন্যায় দেখা যাবে না ২০১৯ বিশ্বকাপে। সত্যি, দুঃখজনক ঘটনা এটা।
তা ঘটে জিম্বাবুয়ে প্রতিপক্ষ টিম আরব আমিরাতের কাছে পরাজিত হলে। যা দেখা যায় সুপার সিক্স পর্বের অন্তিম মুহুর্তে। ক্রিকেট বিশ্ব বলে বিদায় বিদায় জিম্বাবুয়ে। ইতিমধ্যে যারা কান্নার রাজ্যে হারিয়ে গেছে। বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে। অস্ট্রেলিয়া, সাউথ আফ্রিকা, ভারত, পাকিস্তান এবং ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলও পরাজিত হয়েছে তাদের কাছে। জিম্বাবুয়ে আয় বলে বিশ্বকাপ কি ডাকবে? না, সেটা এবার সম্ভব নয়। এর পরিবর্তে ২০২৩ বিশ্বকাপে ক্রিকেট লড়াইয়ের মূল পর্বে যাবার জন্য প্রস্তুত হবে তারা। কম না, আবার পাঁচ বছর অপেক্ষা! তা এই ক্রীড়ার বিশ্বায়নের মসৃন পথে বড় ধাক্কা। যা খেয়েছে নেদারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, আয়ারল্যান্ড এবং স্কটল্যান্ডের মতো অসাধারন নৈপূণ্য প্রদর্শন করা টিম। যাদের কথা না লিখলে অন্যায় হয়ে যায়। তাদের কাছ থেকে ক্রিকেট পেয়েছিলো বিশ্ব তারকা। আসিফ, আব্রাহামরা সে তালিকায় অন্যতম। এর মাঝেই ছন্দ পতন ঘটে আফ্রিকা মহাদেশের কেনিয়া! ক্রিকেট বিশ্বায়নের পথে আস্থার প্রতীক দল। পারফরম্যান্স করার ধারায় এক কথায় চমৎকার। যে দলে দেখা গেছে একের পর এক তারকার বাহার। মরিস ওদুম্বে, টমাস, স্টিভ টিকালোদের আবিষ্কার। যারা নন টেস্ট প্লেয়িং দেশ হিসেবে কেনিয়াকে ২০০৩ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় সেমিফাইনালে উঠায়। এমন অর্জন গোটা দুনিয়াকে তাক লাগায়। স্বাগতিক সাউথ আফ্রিকা, পাকিস্তান, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডের ন্যায় সুপার পাওয়ার টিম বাদ পড়ে তখন। তাই কেনিয়ার এই অর্জনকে সাফল্যের অন্যতম সেরা মুকুট বলে অভিহিত করা যায়। এমন চমক দেখাবার বিষয়ে আইসিসির বর্তমান কর্তাবাবুদের অভিমত কি? বিশ্বকাপ চূড়ান্ত পর্বে দলের সংখ্যা কমানো কি ঠিক হয়েছে? কি বলেন? যেখানে ফুটবল ৩২ এর জায়গায় ৪৮ দল করেছে বহৎ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে। সেখানে ক্রিকেট উল্টো পথে হেঁটেছে। সংখ্যা ১৪ হতে ১০ এ নামিয়ে এনেছে। যার ফলে দুই টেস্ট কান্ট্রি জিম্বাবুয়ে এবং আয়ারল্যান্ড ২০১৯ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ ক্রিকেট লড়াইয়ে দর্শক হয়ে থাকবে। এমন পরিস্থিতিতে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে না।
এর ওপর এই ভুবনে চলেছে আক্রমণাত্মক তারকা সংকট। যা ভাবিয়ে তুলেছে সকলকে। ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকারকে নিয়ে লেখা হতো দুই ডব্লিউর বোলিং তান্ডব ও জয়। গতির রাজা শোয়েব, ব্রেট লি, বন্ড। বিশ্ব ব্যাটিং জগতের আস্থার প্রতীক শচীন টেন্ডুলকার। মিস্টার ওয়াল দ্রাবিড়। কুইকার অনিল কুম্বলে। গুগলি আব্দুল কাদির, বিগ টার্ন সেন ওয়ার্ন। সর্বকালের সেরা চার অল রাউন্ডার কপিল দেব, রিচার্ড হ্যাডলি, ইয়ান বোথাম ও ইমরান খান, বা হাতি এ্যাটাকের ব্রায়ান চার্লস, লারা, সৌরভ গাঙ্গুঁলী, আমির সোহেল, সাইদ আনোয়ার, এ্যাডাম গিলক্রিস্ট, লেহম্যানদের নৈপূণ্যের প্রশংসা স্থান পায় আলোকিত ধারায় মিডিয়ার পাতায়। ডোনাল্ড, পোলকের ইয়র্কার। তাদের ছায়াতলে সুপার অল রাউন্ডার ল্যান্স ক্লুজনার। রমিজ রাজার মুখে খুনি এম এস ধনি আবিষ্কার। তারা ছিলেন ক্রিকেট রাজ্যে আলোচনার পাত্র ঘেরা বাহার। সে সময় বাংলাদেশ টিম ২০০ করতে পারলেই মহাখুশি।
এখন যাদের লক্ষ্য জয়। প্রতিপক্ষ যে হোক তাতে কি? বড় দলের সঙ্গে ছোট টিমগুলোর নৈপূণ্যের ব্যবধান অনেকে কমেছে। সেটা প্রমান করে। তা বলাবাহুল্য। এ অবস্থায় অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, আফ্রিকা, ভারত, পাকিস্তান দলে তারকা ঘাটতি যেখানে, তামিম, সাকিব, রুবেল, রিয়াদ, সাব্বির, মাশরাফি, নবী, রশিদদের একই ধারায় পদচারনা সেখানে। কথাটি শতভাগ সত্য। এর মানে ক্রিকেটের অন্য দেশগুলো দ্রুত উন্নতি করছে। যা স্বীকার করতে হবে আইসিসিকে। এখন প্রশ্ন হলো বিশ্বকাপ মূল পর্ব ঘিরে কেন দল কমিয়েছে? আর্থিক সংকটের কারণে! নাকি বিশেষ বিশেষ টিমকে শিরোপা পাইয়ে দিতে? সেটা দেখা যায় ঘুরে ফিরে। ক্রীড়া পাগল প্রেমিরা কি বলেন? একমাত্র কেনিয়া বাদে স্কটল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, আমিরাত, আয়ারল্যান্ড পারফর্মের মান ধরে রেখেছে। যাদের দলে সুপার তারকা রয়েছে। ব্যাট-বলের যুদ্ধে জয়ী হয়ে মন জয় করেছে। তারা ক্রিকেট হিরো বনে গেছেন ইতিমধ্যে। অথচ আসন্ন বিশ্বকাপে দেখা যাবে না। সেটা খুবই দুঃখজনক। এর আয়োজন সাড়া ফেলবে না পৃথিবীর উত্তেজনার স্পর্শে। ইউরোপ হতে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের আঁচলের তলে নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা মহাদেশের প্রতিনিধি দক্ষিন আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা অঞ্চলের ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং এশিয়া থেকে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, আফগানিস্তান ব্যাট-বলের বহৎ আসরে অংশ নিবে। তা সকলের বোধগম্য। একদিনের ৫০ ওভারের খেলা এটা। যা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। তিন মহাদেশ হতে মাত্র ৩টি দল! সেটা বিশ্বায়নতো দূরের কথা ঘরায়নের ভিত ধরে রাখতে পারবে না। সুতরাং আইসিসি সাবধান। তা না হলে কেনিয়ার মতো ক্রিকেটও হারিয়ে যাবে। আর সেটা ঠেকাতে ওয়ানডে ঘরনার বিশ্বকাপে দল সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। এমন অভিমত সাবেক মেগা তারকা শচীন রমেশ টেন্ডুলকারসহ ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ