ঢাকা, শুক্রবার 30 March 2018, ১৬ চৈত্র ১৪২৪, ১১ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কবিতা

ভালবাসি আজও

কবির কাঞ্চন

 

আজও আমি জানালার পাশে বসে থাকি

তোমার আসার প্রতীক্ষায়

বাইরের একটু মৃদু সমীরণে কেঁপে উঠে বুক

না জানি তুমি এলে নিরালায়।

 

আজও আমি  সারারাত নির্ঘুম জেগে থাকি

তোমার আসার অপেক্ষায়

মনের অজান্তে তন্দ্রাচ্ছলে কেঁপে ওঠে বুক

না জানি তুমি এলে স্বপ্নের নায়।

 

আজও আকাশ পানে নিষ্পলক চেয়ে থাকি

তোমার অস্তিত্ব খুঁজি

মনে মনে অনুভব করতেই কেঁপে ওঠে বুক

না জানি অলক্ষ্যে আসো রোজই।

 

আজও সাগর পানে দুর্বার ছুটতে থাকি

তোমায় ফিরে পাওয়ার আশে

কাছে পাওয়ার বাসনায় কেঁপে ওঠে বুক

না জানি হাঁটবে আবার পাশেপাশে।

 

আজও  রেস্টুরেন্টে একেলা বসে থাকি

কোন অবেলায় হয়তো আসবে

চোখে চোখ পড়তেই আজ কেঁপে ওঠে বুক

না জানি আড়াল থেকে দেখবে।

 

আজও বিকেলে সীবীচ কিবা উদ্যানে থাকি

উদ্দেশ্যহীন ঘুরিফিরি

কাছে পেয়ে হারানোর ভয়ে কেঁপে ওঠে বুক

না জানি ধরবে হাত আমারি।

 

আজও হৃদয় জমিনে ভালবাসা বুনি

শুধু তোমায় পাওয়ার তরে

হারানোর কথা ভাবতেই কেঁপে ওঠে বুক

না জানি হারাই তব চিরতরে।

 

 

সকালের স্নিগ্ধতায় তুমি

হাফিজ ইকবাল

 

ক'য়েকটি পাখির কূজন,

মৌনতার কাল,

স্নিগ্ধতায় পূর্ণ বিহান বেলা,

শিশিরে সিক্ত পত্র-পল্লব,

কোমলতা ও পেলবতায় ভরপুর,

সজীব ও উপাদেয় সমীরণ,

সূর্যহীন এই প্রত্যুষ,

সবই তো তোমার অস্তিত্বের কথা বলে,

তুমিই মহান,

তুমি কবুল করো আমার সকল প্রার্থনা!

এরকম সজীব হতে চাই নিয়তই,

তুমি তোমার কাছেই রেখো সেদিন!

 

রহস্যের অন্তরালে

জাফর পাঠান

 

রহস্যের অন্তরালে রহস্য থাকলেও

অন্তরালে তার আছে কি?

খুঁজতে খুঁজতে তটিনীর তট পেলেও

উৎস থাকে দেখা বাকি। 

 

ভাবতে ভাবতে ভাবের অসীম অতলে

একান্তে ডুব দিয়ে ভাবি,

পেয়ে গেছি বুঝি ভাবনার প্রান্তকে আমি

পরক্ষণেই খাই খাবি।

 

মনের বহুরূপী রূপকে- ধরতে গিয়ে 

রূপক যদি হতে হয়,

চাওয়া পাওয়ার সীমান্তকে ছুঁতে গেলে

অপূর্ণতাই বেঁচে রয়।

 

কোথায় শুরু কোথায় গিয়ে হবে যে শেষ

আমি-তুমি আর সে জন,

অন্দর- বাহির- গ্রহ- গ্রহান্তরে ঘুরেও

থাকে অন্ধকারেই মন।

 

ধরে বিজ্ঞান সুত্র, যত-ই যাই শিখরে 

মহীতলকে দেখি আমি, কনিষ্ঠ নখরে।

 

সুখ খুঁজে ফিরি

স্বপন শর্মা

 

আঁধারের কারফিউ ভেঙ্গে যায়

জোনাক পাখির আলোয়

জানালার পর্দায় নেমে আসে স্ফুরণ

ঠোঁটের নীরবতা ঘনিয়ে আনে আলোকিত ভয়।

একটু উঠে, চুপিসারে চেয়ে থাকি, দেখি-

নিস্তব্ধ ঝাউবনের নিকষকৃষ্ণ রঙের রাত

কেমন করে ক্ষুদে জোনাক পাখির আলোয়

স্বঘোষিত কারফিউ ভেঙ্গে দেয়।

ভেতরে চড়ুইপাখি- অন্ধকারে;

সুখের সন্ধানে অবিরত, খড়কুটোয় ওম দিয়ে যায়।

চড়ুই পাখির ডানায় সুখের আধার;

খুঁজে ফিরি জোনাক পাখির নীরব আলোয়।

 

ঠিকানা

শাফিউল কায়েস

 

ও মেঘনা, ও যমুনা, 

কোনদিন তোমাদের ভুলবো না। 

তোমরা তো আমাদের প্রিয় ঠিকানা, 

তোমাদের গল্প কখনো ফুরাবে না। 

ও মেঘনা, ও যমুনা।

একাত্তরে কালজয়ীর মাঝে,

আজও আমাদের কানে বাজে। 

তোমরা আমাদের প্রিয় ঠিকানা,

কোনদিন তোমাদের ভুলবো না।

 

আমাকে কষ্ট দেয়

মালেক মল্লিক

 

আমাকে কষ্ট দেয়না নীল আকাশ

অথবা নির্জন মুহূর্ত।

আমাকে কষ্ট দেয় না পড়ন্ত বিকেল

অথবা গোধুলী লগ্ন।

 

আমাকে কষ্ট দেয় না ব্যস্ত দুপুর

অথবা স্বপ্ন দেখা ভোর।

আমাকে কষ্ট দেয় না নদীর গতি

অথবা সমুদ্রের ঢেউ।

 

আমাকে কষ্ট দেয়না ঝর্ণাপ্রপাত

অথবা মোহনার জল।

আমাকে কষ্ট দেয় না তপ্ত রোদ্দুর

অথবা মেঘে ঢাকা সূর্য।

 

আমাকে কষ্ট দেয় না সবুজ প্রান্তর

অথবা তৃষ্ণার্ত মরু।

আমাকে কষ্ট দেয় না রাতের চাঁদ

অথবা দিনের সূর্য।

 

আমাকে কষ্ট দেয় না সাইক্লোন

অথবা সিডোর ঝড়োও

অথচ আমাকে কষ্ট দেয় বড় বেশি কষ্ট দেয়

তোমার নিস্পৃহ ভালোবাসা।

 

প্রহরী

জ্যাসমিন কানন

 

বেদনা আমার সজল মেঘদল

উড়িছে নিত্য নীল নভোতল,

অতীত দিন এমনই ছিল

বসন্তে আমার কাঁদিত নিখিল।

দলিত রয়েছি ঝরা পাতার মত

সদা লাজ, সদা ন¤্র নত।

 

কুহেলিকা ভয় যত করেছি আড়াল

সামনে এসেছে তলোয়ার সম ধারাল।

একটি রাত জেগেছি জানালার পাশে

কিছু চাহিব তোমার কাছে, নীরব আশে,

চাইনি অবশেষে, সবই তুমি জান

হৃদয় কাননে তুমিই প্রহরী ধ্যান!

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ