ঢাকা, শুক্রবার 30 March 2018, ১৬ চৈত্র ১৪২৪, ১১ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধির রিভিউ পিটিশন  সম্পূণ  হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক  ----রিজভী 

 

স্টাফ রিপোর্টার : দলের চেয়ারপার্সন কারাবন্দী খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধির জন্য দুদক কর্তৃক রিভিউ পিটিশন দাখিল সম্পূর্ণরূপে বেআইনী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, এটি দুদকের আইনে নেই। উচ্চ আদালতের বিচারপতিদ্বয় বলেছেন-বিষয়টি আইনে আছে কী না সেটির ব্যাখা প্রয়োজন। আমি বলতে চাই, যেহেতু উচ্চ আদালতের বিচারকদ্বয় এ বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তাহলে এটি অত্যন্ত সুষ্পষ্ট যে, দুদক রিভিউ পিটিশনটি স্বপ্রণোদিত হয়ে করেনি। বরং সরকারের নির্দেশেই দুদক এটি করেছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে- বেগম জিয়াকে অতি মাত্রায় হয়রানি করা। দুদকের এই রিভিউ পিটিশন দাখিল সম্পূর্ণরূপে হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব বলেন।

রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন-নির্বাচনকালীন সরকার হবে বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল সদস্যদের নিয়ে। তিনি ঠিকই বলেছেন-কারণ এজন্যই আপনি কয়েকদিন আগে বলেছিলেন যে, সামনে নির্বাচনে আমাদের বিজয় নিশ্চিত এটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। সুতরাং একতরফা নির্বাচন করতে আপনারা যে সবকিছু ঠিকঠাক করে রেখেছেন এটি কারো জানতে বাকি নেই। বর্তমান সংসদে তো জনগণের কোন প্রতিনিধি নেই। এরা গণতন্ত্রকে দূরের তারা বানিয়েছেন। লুটপাটের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত  স্বৈরাচারী সরকারের দ্বারা নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হলে তা হবে একদিকে যেমন অবৈধ তেমনি অন্যদিকে তাদের দ্বারা কখনোই সুষ্ঠু, অবাধ ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়। জনগণ বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারের খায়েশ পূরণ হতে দেবে না। জনগণের স্মৃতির পর্দা ঝাপসা নয়, তারা জানে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো বর্তমান সংসদের প্রতিনিধিদের নিয়ে অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়ে নির্বাচন হলে সেটি হবে সাম্প্রতিককালের সেরা প্রহসন। তবে এবার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অগ্রযাত্রা প্রতিহত করতে পারবে না বর্তমান গণবিরোধী সরকার। 

তিনি বলেন, দেশের কয়েকটি অঞ্চলে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনগুলোতে পূর্বের মতোই আওয়ামী চেতনার সন্ত্রাস অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে হত্যা, জখম, ভোটকেন্দ্র দখল, জালভোট প্রদান ও ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের আগের সেই পুরনো রক্তাক্ত ঘটনারই পুনরাবৃত্তি ঘটছে। ইতোমধ্যে টাঙ্গাইলের কয়েকটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলাধীন নাজিরহাট পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক সারোয়ার আলমগীরের বাড়ীতে হামলা এবং আহমদিয়া মাদরাসা ভোটকেন্দ্র থেকে বিএনপি’র এজেন্টসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সবকিছু জেনেও নির্বাচন কমিশনের নিশ্চল, নির্বিকার ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

রিজভী উল্লেখ করেন, টাঙ্গাইল জেলাধীন ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগের রাতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গুপ্তবিন্দ্যাবন কেন্দ্রে ব্যালট পেপারে সীল মারার সময় ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি আব্দুল মালেক প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে তাকে গুলী করে হত্যা করে। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দ্বারা সংঘটিত কাপুরুষোচিত এই পৈশাচিক ঘটনার বিরুদ্ধে আমি দলের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাচ্ছি। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলীতে নিহত আব্দুল মালেকের জন্য আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি, তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি, শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। ফেনী জেলাধীন সোনাগাজী উপজেলার পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো: দুলাল, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি নিজাম উদ্দিন, পৌর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো: মারুফ, যুবদল নেতা আবুল কাশেম, উপজেলা ছাত্রদল যুগ্ম আহবায়ক জসিম উদ্দিন, মো: শিমুল, যুবদল নেতা নয়ন, আবু মুছা, ইয়াসিন, মোশারফ হোসেন, নজরুল ইসলাম এবং বেলায়েত হোসেনের জামিল বাতিল করে তাদেরকে কারাগারে প্রেরণের ঘটনায় আমি দলের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং অবিলম্বে তাদের ভিত্তিহীন ও বানোয়াট মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলাধীন নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হানিফ রানাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। আমি তাদেরকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অসত্য মামলা প্রত্যাহার করে নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবী করছি।

যশোর জেলাধীন ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি আবু তালেব, গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র বিএনপি’র সভাপতি আইয়ুব হোসেন পতি, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ, নাভারন ইউনিয়ন বিএনপি’র আহবায়ক খায়রুজ্জামান মিনু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রিন্টু, বাঁকড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান, পানিসারা ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মীর আবদুর রাকিব, সাধারণ সম্পাদক ডাঃ আবুল খায়েরসহ ৪৯ জন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী’র জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণের ঘটনায় আমি উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তাদের ভুয়া মামলা প্রত্যাহার ও ত্বরিত মুক্তির জোর দাবী জানাচ্ছি।

এছাড়া কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি নিজাম উদ্দিন খান নয়ন, আজিজুল ইসলাম দুলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আশরাফ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ শাহীন, সহ-দফতর সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক খসরুজ্জামান শরীফ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাসুদ সুমন, ভৈরব বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক মেয়র হাজী মো: শাহীন, ভৈরব উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, করিমগঞ্জ পৌর বিএনপি’র আহবায়ক আশরাফ হোসেন পাভেলসহ ৭৬ জন নেতাকর্মীকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। আমি এই ঘটনায় দলের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং অবিলম্বে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যহার ও তাদের নি:শর্ত মুক্তি দাবী করছি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, নিতাই রায় চৌধুরী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ