ঢাকা, শুক্রবার 30 March 2018, ১৬ চৈত্র ১৪২৪, ১১ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

স্কুল ড্রেস পরে বিনোদন কেন্দ্রে যাওয়ায় ৪ ছাত্র-ছাত্রীকে বেধড়ক পেটালো  প্রধান শিক্ষক ॥ ছাড়পত্র 

 

রংপুর অফিস : স্কুল ড্রেস পড়ে বিনোদন কেন্দ্রে যাওয়ার অপরাধে ৪ ছাত্র-ছাত্রীকে বেধড়ক পিটিয়েছে প্রধান শিক্ষকসহ অন্যরা। শুধু তাই নয়, পিটানোর পর তাদের দেয়া হয়েছে ছাড়পত্র। গুরুতর আহত ২ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। স্বাধীনতা দিবসে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের মাগুড়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে বুধবার ম্যনেজিং কমিটির বৈঠকে বাকবিতন্ডার প্রেক্ষিতে বৈঠক মুলতবি করা হয়েছে। 

 প্রত্যক্ষদর্শী, আহত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার স্বাধীনতা দিবসের দিনে কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্ধারিত খেলাধুলা শেষে ৭ম শ্রেণির ছাত্র মোঃ সজিব হোসেন (১৩), নুর মোহাম্মাদ (১৩), তোকছেরুল ইসলাম (১৩) স্কুল ড্রেস পরিধান অবস্থায় গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের দলিরাম গ্রামের অন্যজগত নামের একটি বিনোদন উদ্যানে ঘুরতে যায়। সেখানে আগে থেকেই ছিল একই শ্রেনির ছাত্রী রুম্পা (১৩) ও শিমা (১৩) ও রিতা আক্তার (১৩)। দুপুর ২ টার দিকে সেখান গিয়ে উপস্থিত হন প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুছ, সহকারি শিক্ষক রতন চন্দ্র, অফিস সহকারি আনিছুর রহমান বাদল। তারা ওই ৬ ছাত্র ছাত্রীকে হাত পা বেঁধে স্কুলে নিয়ে আসে। এরপর তোকছেরুল ইসলাম (১৩) ও রিতা আক্তারকে ছেড়ে দিয়ে বাকী চার ছাত্রছাত্রীকে বেধড়ক পিটায়। এদের মধ্যে সজিব হোসেনকে ৫ ঘন্টা বন্দি করে রাখে। বেধড়ক পিটুনি দেয়ার পর প্রধান শিক্ষক ওই চার শিক্ষার্থীর নামে ছাড়পত্র ইস্যু করে তাদেরকে স্কুল থেকে বের করে দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে এলাকাবাসি। গুরুতর আহত অবস্থায় দুই ছাত্র সজিব মিয়া ও নুর মোহাম্মদকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। হাসপাতালের ১৫ নং ওয়ার্ডে তারা এখন চিকিৎসাধীন। 

 বুধবার দুপুরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছাত্র সজিবের পিতা মোমেদুল ইসলাম ও নুর মোহাম্মদের পিতা আব্দুস সাত্তার জানান, আমার ছেলে স্বাধীনতা দিবসের দিনে সবাই মিলে স্কুল ড্রেস পড়ে ঘুরতে গিয়েছিল। তার আগে তারা স্কুলে নির্ধারিত খেলাধুলা করেছে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক তাদেরকে যেভাবে ধরে নিয়ে মারপিট করেছে তা কোন সভ্য সমাজে হতে পারে না। শুধু মেরে রক্তাত্বই করেনি তাদের আবার ছাড়পত্রও দেয়েছে। তিনি প্রধান শিক্ষক এবং অন্যান্যদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি এবং পুত্রের ছাড়পত্র প্রত্যাহারের দাবি জানান। 

 এদিকে বিষয়টি নিয়ে বুধবার সকাল ৯ টায় স্কুলে পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ছাত্রছাত্রীদের পেটানোর পর ছাড়পত্র দেয়ার বিষয়টি নিয়ে কমিটির সদস্য ও প্রধান শিক্ষকের মধ্যে তীব্র বাকবিত-া হয়। এক পর্যায়ে কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভা মুলতবি করা হয়। আগামী সোমবার আবার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। 

 এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস জানান, ‘অন্য জগতে’ ঘুড়তে যাওয়া ৬ ছাত্রকে আটকিয়ে আমাদেরকে খবর দেয়া হয়। পরে আমরা তাদেরকে স্কুলে নিয়ে এসে ২ জনকে ছেড়ে দেই। বাকী ৪ জনকে উত্তম মধ্য দিয়ে কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ছাড়পত্র দেয়া হয়। কিন্তু তাদের অপরাধ কি জানতে চাইলে তিনি জানান, স্কুল ড্রেস পড়ে ঘুড়তে যাওয়াই তাদের অপরাধ। স্বাধীনতা দিবসের খেলাধুলা শেষে তারা ঘুড়তে গেছে এমন প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে রাজি হন নি তিনি। 

এ বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য হাফিজুল ইসলাম (হাফেজ) জানান, ঘটনাটির কিছুই আমি জানি না। তবে প্রধান শিক্ষক আমাকে বিদালয়ে আসতে বলছিলেন। আমি আসতে পারিনি। 

 অপর অভিভাবক সদস্য গোলাম মোস্তাফা জানান, আমাকে বিদ্যালয়ে আসতে বলা হয়েছিল, কিন্তু বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখি আমি আসার আগে তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া সঠিক হয় নি। 

 মাগুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও কিশোরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম জানান, আমি সারাদিন কিশোরগঞ্জে ছিলাম। বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাকে জানিয়েছে মাত্র। 

 কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম মেহেদি হাসান জানান, বিষয়টি এখনও অভিযোগ পাই নি। অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ