ঢাকা, শুক্রবার 30 March 2018, ১৬ চৈত্র ১৪২৪, ১১ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শাহজাদপুরের যমুনা চরে দুধের সম্ভার

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : যমুনার বড় চাঁনতারার চরে দুধ সংগ্রহ করছে ঘোষেরা

এম. এ. জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে: শাহজাদপুর উপজেলার আওতাধীন যমুনা চরে দুধের উৎপাদন ও বাণিজ্যিক বিপণন শুরু হয়েছে। দুর্গম এই চরে দুগ্ধ গাভী পালন করে অনেকেই স্বাবলম্বী হচ্ছে। উপজেলার যমুনা তীরবর্তী কৈজুরী, সোনাতনী ও গালা ইউনিয়নের চরাঞ্চলে জেগে উঠা গ্রামগুলির অনেক পরিবার দুগ্ধ গাভী পালন করছে। এক সময়ের দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারী অসহায় পরিবারগুলো যেখানে জীবন জীবিকা চালাতে হিমসিম খেত সেখানে দুগ্ধ গাভীর খামার করে অর্থনীতির চাকা সচল করছে। যমুনা গর্ভে স্বর্বস্ত হারানো পরিবারগুলো দুধের খামার করে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। সরে জমিনে ঘুরে যমুনা চরের বানতিয়ার, বড় চানতাঁরা, ছোট চানতাঁরা, ভাট দিঘুলিয়া, বাঙ্গালার চর, ঠুটিয়ার চর, রতনদিয়া চর, ধলাই চর, হাতকোড়া চর, ধীতপুরের চর, শিমুল কান্দী চর এলাকার অনেক বাড়িতে দুগ্ধ গাভীর খামার লক্ষ করা গেছে। এখান থেকে খামারীরা ঘোষদের দুগ্ধ সরবরাহ করে থাকে। এই দুধ ঘোষরা যমুনার পশ্চিমপাড়ে জামিরতা, কৈজুরী, এনায়েতপুর এলাকায় বিভিন্ন হোটেলে বিক্রি করে থাকে। যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্গম হওয়ায় মিল্কভিটা কারখানাগুলিতে সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। ঘোষরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে খামারীদের কাছ থেকে বাইকে করে টিনের পাতিল ও অথবা প্লাস্টিকের ড্রপে করে দুধ সংগ্রহ করে নদীঘাটে এসে নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। অহরহ নৌকা মেলেনা সেখানে। নির্ধারিতভাবে দিনে কয়েকবার নৌকা চলে। তাই সময়মত ঘাটে পৌঁছতে ব্যর্থ হলে ফেরা যায় না পশ্চিমপাড়ে। নদীতে ঘরবাড়ি হারানো পরিবারগুলো যখন অর্থনৈতিকভাবে চরম দুর্দিনের মধ্যে ছিলো। এখন তারা দুর্গম চরে দুগ্ধ গরুর খামার করে স্বাবলম্বী হতে শুরু করেছে। অনেক বাড়িতেই দুগ্ধ গাভীর পাশাপাশি ষাঁড় গরু লালন পালন করছে । কারণ কোরবানী ঈদে এসব ষাঁড় গরু বিক্রি করে রাতারাতি স্বাবলম্বী হচ্ছে চরাঞ্চলের খামারীরা। বানতিয়ারের খামারী সামাদ মেম্বর জানান, তিনি দুগ্ধ গাভী পালন করে দুইবেলা দুধ পাচ্ছেন বাজারে বিক্রি করছেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে উন্নত জাতের দুগ্ধ গাভী পালন করবেন। বড় চানতাঁরার কৃষক কাশেম জানান, সরকার যদি পৃষ্ঠপোষকতা দেন তাহলে যমুনা চরের অনেক কৃষক দুগ্ধ গরুর খামার গড়ে দুধের বিপ্লব ঘটাতে পারেন। তবে এখানকার বড় সমস্যা যোগাযোগ ব্যবস্থা। সময়মত দুধ মিল্কভিটায় পৌঁছানো কঠিন বিধায় এ অঞ্চলে দুধের উৎপাদন ব্যাপকভাকে করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্ষা মওসুমে যোগাযোগ সুবিধা হলেও অধিকাংশ খামার বন্যায় প্লাবিত হয়ে থাকে। তখন গবাদী পশু তো দুরের কথা মানুষের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা হয়। দুধ উৎপাদন এবং পুষ্টিকর ঘাস চাষাবাদ করে যমুনা চর হয়ে উঠতে পারে দুধের সম্ভবনাময় এক জনপদ। এজন্য সরকারকে পৃষ্ঠপোষকতা ও সহজ শর্তে ঋণ দিতে হবে চরাঞ্চলের কৃষকদের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ