ঢাকা, শুক্রবার 30 March 2018, ১৬ চৈত্র ১৪২৪, ১১ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও নিচু জমি ভরাটে ডুবছে চট্টগ্রাম মহানগরী

 

চট্টগ্রাম অফিস : সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নিচু জমি ভরাট হয়ে যাওয়া ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে প্রতিবছর বর্ষায় চট্টগ্রাম নগরী ডুবছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু বে ভিউতে ‘সমুদ্রবান্ধব শহর হবে চট্টগ্রাম’ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তারা। গোল টেবিল বৈঠকটি আয়োজন করে নগর আবাসন ও যাপনের মাসিক ‘কারিকা’।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গত ৩০ বছরে ৬ থেকে ২১ মিলিমিটার সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে চট্টগ্রাম শহর আড়াই থেকে তিন মিটার উঁচু। এরপরও জোয়ার এবং বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম শহর ডুবছে। এর বড় কারণ চট্টগ্রামে একসময় প্রচুর পরিমাণ নিচু জমি ছিল। বৃষ্টি হলে পানি গড়িয়ে সেসব জায়গায় জমতো। এরপর খাল দিয়ে গড়িয়ে নদীতে চলে যেত। এখন সবগুলো খালি জায়গা ভরাট করে ফেলা হয়েছে। যার কারণে দ্রুত পানিগুলো খালে গড়িয়ে পড়ছে। খাল ও নালা উপচে পানি বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে যাচ্ছে। 

বক্তারা বলেন, খালের জায়গা খালকে ফেরত দিতে হবে। খাড়া হোক আর বাঁকা হোক, কোনভাবে পাহাড় কাটা যাবে না। পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাহাড় কাটা হলে পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক থাকে না। বৃষ্টি হলে পাহাড়ের গাছপালা পানি ধরে রাখতো। পরে তা আস্তে আস্তে নেমে যেত। যার কারণে জলাবদ্ধতা হতো না। 

বক্তারা বলেন, ১৯৯৫ সালে ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান করা হয়েছে। সেখানে বলা আছে কোথায় কি করতে হবে। এ পর্যন্ত পরিপূর্ণ কোন কাজ হয়নি। যা হয়েছে তা টুকরো টুকরো কাজ। যার সুফল পায়নি নগরবাসী। যার কারণে বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম ডুবছে। সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে কোন সমন্বয় নেই। 

বৈঠকে সিডিএ ও সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, আরএস জরিপের ভিত্তিতে খাল উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৩২টি খাল পুনঃখনন করা হবে। পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনের জন্য ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সমুদ্রে প্লাস্টিক বর্জ্য দূষণ, শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডকে ঘিরে সমুদ্র দূষণ, দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ কতটুকু প্রস্তুত ও সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে অতিথিদের বিভিন্ন প্রশ্ন করেন বৈঠকে অংশ নেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। 

মোহাম্মদ আরজুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য প্রকৌশলী অধ্যাপক এম আলী আশরাফ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহীনুল ইসলাম খান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ একেএম রেজাউল করিম, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আয়েশা আকতার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল হক, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আশিকুর রহমান, সেম ইউপিভিসি’র চীফ অপারেটিং অফিসার সঞ্জীব কুমার দাশ ও অক্সফামের এনামুল মজিদ খান সিদ্দিকী। 

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মুকেশ গুপ্ত, কামাল উদ্দিন, আবদুল্লাহ আল কায়সার, মুন্নুজা আমরীন, সায়েমা আকতার জাফরিন, আমানুল্লাহ রিশাত, সৈকত দাশ ও ফারজানা ফায়েজা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ