ঢাকা, শুক্রবার 30 March 2018, ১৬ চৈত্র ১৪২৪, ১১ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অস্ট্রেলিয়া দলকে ধুয়ে দিলেন তাদের সাবেক কোচ আর্থার

পাকিস্তানের বর্তমান কোচ মিকি আর্থার এক সময় কোচ ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার। ২০১১ সালের নভেম্বরে এই দায়িত্ব নিয়ে ২০১৩ সালের জুনেই বিতর্কিতভাবে এই দায়িত্ব ছাড়তে হয় তাকে। অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান স্কোয়াডের অনেকেই সে সময় তার শিষ্য ছিলেন। গত শনিবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কেপ টাউন টেস্টে অজিদের বল ট্যাম্পারিং চেষ্টা ও এর সাথে জড়িত থাকার অপরাধে তিন ক্রিকেটার ক্যামেরন ব্যানক্রফট, স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নারের শাস্তি নিয়ে তোলপাড় চলছে ক্রিকেট বিশ্বে। প্রশ্ন উঠেছে অস্ট্রেলিয়া দলের সংস্কৃতি ও খেলোয়াড়দের আচরণ সবসময় এমনটাই ছিল কিনা। এ বিষয়েই বোমা ফাটিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকান আর্থার। দলটির সংস্কৃতি ও খেলোয়াড়দের আচরণের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, 'দুর্ভাগ্যজনক হলেও এমনটাই হওয়ার ছিল।' আর্থারের অধীনে ১৯ টেস্টের ১০টিতে জিতলেও এই কোচের শেষটা ভাল হয়নি অস্ট্রেলিয়া দলে। ২০১৩ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায়, সেসময় ওয়ার্নারের মারপিট ইংলিশ ক্রিকেটার জো রুটের সাথে এবং এর আগে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ' হোমওয়ার্কগেট' কেলেঙ্কারিতে অ্যাশেজ শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগেই তাকে বরখাস্ত করা হয়। দলটির আদ্যোপান্ত ভালভাবে জানা আর্থারের মতে বল ট্যাম্পারিংয়ের মত প্রতারণার চেষ্টা দলটির মজ্জাগত সংস্কৃতির অবশ্যম্ভাবী ফলাফল, 'যুগের পরিবর্তন, মুক্ত মতামত এবং অনেক বেশি আচরণগত সমস্যা থাকা সত্ত্বেও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) এবং তাদের জাতীয় দল প্রতি মৌসুমে তাদের সংগঠনের সংস্কৃতি উন্নয়নের কোন চেষ্টাই করেনি। এর ফলাফল একটাই হতে পারত, একটা বিস্ফোরণ।' তার মতে এই বল ট্যাম্পারিংয়ের চেষ্টা ছিল একটি নমুনা। আরও মারাত্মক কিছুও ঘটতে পারে, 'মানের নিম্নমুখীগতি এমন একটা ঘটনা ঘটাবে যা খুবই খারাপ, বিশ্রী এবং যা সংস্থাটির নেতাদের এই সংস্কৃতি পরিবর্তনে কঠোর কোন ভূমিকা নিতে বাধ্য করবে। নইলে ভক্ত, স্পন্সর, সম্প্রচারক এবং অন্য সব অংশীদারদের দূরে সরে যাওয়ার ভয় থাকবে।' এখন তিনি পাকিস্তানের কোচ, তাই বাইরের পৃথিবী কিভাবে অস্ট্রেলিয়াকে দেখে তা ভালভাবেই বোঝেন। অন্যরা যে মাঠে অস্ট্রেলিয়া দলকে মোটেও পছন্দ করে না তা জানেন আর্থার। এই ৪৯ বছর বয়সী মনে করেন না ম্যাচ জেতার জন্য নিজেদের প্রতিভার বাইরে অন্য কিছুর প্রয়োজন আছে অস্ট্রেলিয়ার, 'নিজেদের দক্ষতা ও প্রতিভা দিয়ে তাদের ম্যাচ জেতার ক্ষমতা আছে। প্রতিপক্ষের প্রতি অবমাননাকর ব্যবহার এবং তাদের শাসানোর প্রয়োজন নেই।' অন্য দলগুলো কেমন অনুভব করে অস্ট্রেলিয়ার ব্যবহারে তাও বলেছেন আর্থার, 'বাকি সব টেস্ট খেলুড়ে দেশ অনুভব করে অস্ট্রেলিয়া তাদের নিচু চোখে দেখে। এটা বলতে পারি কারণ আমি এমন একজন যে এমন দুই দলের (দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান) কোচ ছিলাম। আমি জানি না অজিরা এই স্বভাব কোথা থেকে পেয়েছে। হয়ত তারা বেশি টাকা পায় বলে। তাদের অনেকেই এক টেস্টে যা উপার্জন করে আমার বেশিরভাগ পাকিস্তানী ক্রিকেটার পুরো বছরেও তা করে না। অথবা তারা মনে করে তারা শ্রেয়তর। বা তারা একটি সুন্দর দেশে অনেক বেশি সুবিধা পাচ্ছে বলে এমন। সে যাই হোক, বিষয়টা অত্যন্ত পরিতাপের।' আর এই সংস্কৃতির চূড়ান্ত ফলাফল তিন ক্রিকেটারের নিষেধাজ্ঞা বলেই মনে করেন আর্থার, 'আমরা এখন দাঁড়িয়ে এমন এক সাংস্কৃতিক অবস্থার সামনে যা অনেক আগেই ঠিক করে ফেলা উচিত ছিল কিন্তু করা হয়নি। আর তার বিস্ফোরণটাই ঘটেছে। এবং স্মিথ, ওয়ার্নার ও ক্যাম ব্যানক্রফট শাস্তি পেয়েছেন এর জন্য।' ইন্টারনেট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ