ঢাকা, শুক্রবার 30 March 2018, ১৬ চৈত্র ১৪২৪, ১১ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শেষ টেস্টে আজ মাঠে নামছে বল টেম্পারিং করা অস্ট্রেলিয়া

বল টেম্পারিং-এর দায়ে ‘নোংরামি’ শব্দটি গায়ে মেখেছে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম শীর্ষ দল অস্ট্রেলিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজ নিয়ে যতটা না চিন্তিত, তার চেয়ে বেশি অস্ট্রেলিয়া চিন্তিত গা থেকে ‘নোংরামি’ শব্দটি মুছে ফেলতে। তাই আজ থেকে জোহানেসবার্গে শুরু হওয়া সিরিজের চতুর্থ ও শেষ টেস্টে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন অধ্যায় শুরুর পণ অসিদের। বল টেম্পারিং কেলেংকারীকে ভুলে গিয়ে এ ম্যাচ দিয়ে নতুনভাবে পথ চলা শুরু করতে চায় অস্ট্রেলিয়া। পাশাপাশি চতুর্থ ম্যাচ জিতে সিরিজ সমতায় শেষ করার প্রত্যাশায় স্মিথ-ওয়ার্নারবিহীন অস্ট্রেলিয়ার। অন্য দিকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার সুবিধা কাজে লাগিয়ে ১৯৭০ সালের পর দেশের মাটিতে সিরিজ জয়ের কাজটা চতুর্থ ম্যাচে সম্পন্ন করতে চায় দক্ষিণ আফ্রিকা। জোহানেসবার্গে আজ বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় শুরু হবে দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়ার লড়াই। দাপট দেখিয়ে ১১৮ রানের ব্যবধানে সিরিজের প্রথম টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দাপট দেখায় প্রোটিয়ারা। পরের দুই টেস্ট যথাক্রমে ৬ উইকেটে ও ৩২২ রানে জিতে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। কেপটাউনে সিরিজে তৃতীয় টেস্ট জয়ের জন্য ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচ যখন হাতে মুঠো থেকে বেরিয়ে যায়, ওই অবস্থায় বল টেম্পারিং-এর মত ‘নোংরামি’র পথ বেছে নেয় অসিরা। দলের সিনিয়রদের পরিকল্পনায় বল টেম্পারিং করেন তরুন ওপেনার ক্যামেরুন ব্যানক্রফট। এতেই নিজেদের সাথে ‘নোংরামি’ শব্দটি জুড়ে ফেলেন অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়রা। যে কারণে আইসিসি কর্তৃক শাস্তির মুখোমুখি হন অসি অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ও ব্যানক্রফট। কিন্তু এখানেই শাস্তির পালা শেষ হয়নি। স্বয়ং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) স্মিথ-ওয়ার্নারকে এক বছরের জন্য এবং ব্যানক্রফটকে ৯ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করে। সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে এই তিন খেলোয়াড়ের পরিবর্তে নতুন তিন জনকে নিয়ে মাঠে নামবে হবে অস্ট্রেলিয়াকে। সিরিজ বাঁচানোর জন্য স্মিথ-ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফটের পরিবর্তে দলে এসেছেন ম্যাট রেনশ, জো বার্নস ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ২০১৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত মাত্র ১০টি টেস্ট খেলেছেন রেনশ। গেল সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফরে নিজেকে মেলে ধরতে না পারায় দল থেকে বাদ পড়েন রেনশ। তার জায়গায় দলে সুযোগ পান বল টেম্পারিং-এর দায়ে নিষিদ্ধ হওয়া ব্যানক্রফট। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া আসর শেফিল্ড শিল্ডে ৩টি সেঞ্চুরি ও ২টি হাফ-সেঞ্চুরিতে দলে ফিরে আসার দাবি জোড়ালো করেছেন রেনশ। অবশেষে ব্যানক্রফটের উসিলায় দলে ডাক পেলেন তিনি। সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় দলে সুযোগ পেয়েছেন অন্য দুই খেলোয়াড় বার্নস ও ম্যাক্সওয়েল। চতুর্থ টেস্টে অস্ট্রেলিয়া দলের নেতৃত্ব দেবেন উইকেটরক্ষক টিম পাইন। অস্ট্রেলিয়ার ৪৬তম অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হবে তার। বল টেম্পারিং হওয়া টেস্টের মাঝপথে অধিনায়কত্ব থেকে সড়ে দাঁড়াতে বাধ্য হন নিয়মিত অধিনায়ক স্মিথ। পরে টেস্টের বাকি অংশে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন পাইন। এখন পর্যন্ত ১২ টেস্টে ৩টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ৬২৫ রান করেছেন তিনি। অধিনায়ক হিসেবে নিজের অভিষেক টেস্ট নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন পাইন। এমনকি দলের পারফরমেন্স নিয়ে চিন্তিত নন তিনি। তার মতে, ‘বল টেম্পারিং-এর কেলেঙ্কারিকে পেছনে ফেলে বিশ্ব কিভাবে তাদের আচরণকে পর্যবেক্ষণ করে সেটাই এখন মূল বিষয়। ইতিবাচক দিকটি হচ্ছে ছেলেরা দেশের হয়ে খেলার একটা সুযোগ পাচ্ছে।’ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা কি শিক্ষা নিতে পারি এবং অস্ট্রেলিয়ার জনগণ আমাদের কিভাবে গ্রহণ করবে তা প্রমাণের একটা সুযোগ আমরা পাচ্ছি।’ সুযোগ কোনভাবেই হাতছাড়া করতে চান না দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফাফ ডু-প্লেসিস, ‘আমাদের চিন্তা-ভাবনা জুড়ে রয়েছে সিরিজ। সিরিজ জিততেই লড়াই শুরু করেছিলাম আমরা। আমাদের লক্ষ্য সিরিজ জয়। ড্র করলেই সিরিজ জিততে পারবো আমরা। কিন্তু আমরা জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছি না। অস্ট্রেলিয়া দল এখন কি অবস্থায় আছে, সেটি আমাদের ভাবার বিষয় নয়। পুরো সিরিজে আমরা যেভাবে খেলেছি, সেভাবেই খেলতে চাই এবং ম্যাচ জিততে চাই।’

দক্ষিণ আফ্রিকা দল : ফাফ ডু-প্লেসিস (অধিনায়ক), হাশিম আমলা, টেম্বা বাভুমা, থিউনিস ডি ব্রুইয়ান, কুইন্টন ডি কক (উইকেটরক্ষক), এবি ডি ভিলিয়ার্স, ডিন এলগার, হেনরিখ ক্লাসেন, কেশব মহারাজ, আইডেন মার্করাম, মরনে মরকেল, ক্রিস মরিস, উইলেম মুল্ডার, লুঙ্গি এনগিডি, ডুয়াই ওলিভার, ভারনন ফিলান্ডার ও কাগিসো রাবাদা।

অস্ট্রেলিয়া দল : টিম পাইন (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), ম্যাট রেনশ, জো বার্নস, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, প্যাট কামিন্স, পিটার হ্যান্ডসকম্ব, জশ হ্যাজেলউড, জন হল্যান্ড, উসমান খাজা, নাথান লিঁও, মিচেল মার্শ, শন মার্শ, জে রিচার্ডসন, চাঁদ শ্রেয়াস ও মিচেল স্টার্ক। ইন্টারনেট। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ