ঢাকা, শুক্রবার 30 March 2018, ১৬ চৈত্র ১৪২৪, ১১ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় র‌্যাবের অভিযান॥ বিআরটিএ’র সীল ডাক্তারি জাল সনদপত্রসহ বিভিন্ন কাগজপত্র উদ্ধার 

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীর খানজাহান আলী থানাধীন বাদামতলার মোড়ল মার্কেটের আরাফাত মোটর ড্রাইভিং ট্রেনিং স্কুল, আরাফাত ফটোস্ট্যাট এবং প্রতিষ্ঠানের মালিকের বাড়িতে র‌্যাব-৬’র একটি দল অভিযান চালিয়েছে। এ সময় বিআরটিএ কর্মকর্তাদের ও সরকারি বিভিন্ন দফতরের সীল, নাগরিক সনদপত্র, নোটারি পাবলিকের কাগজপত্র, ডাক্তারি নকল জাল বিপুল পরিমাণ সনদপত্র এবং এই কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটারের একটি সিপিইউ জব্দ করা হয়েছে। এই কাজের সাথে জড়িত মূলহোতা শেখ মনিরুল ইসলামসহ ৬ জনকে আটক করা হয়। এছাড়া তাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য আরো ৬ জনকে আটক করে প্রাথমিক মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের পক্ষ থেকে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব।

র‌্যারের অভিযানের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার র‌্যাব-৬ খুলনার স্পেশাল কমান্ডার এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, বিভিন্ন গাড়ি হস্তান্তরের কাগজপত্র, গাড়ির রুট পারমিট, ফিটনেস এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সের কাগজপত্র জাল হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে গত এক সপ্তাহ ধরে নজরদারীতে রেখে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় অভিযান শুরু করা হয়।

 তিনি জানান, আমাদের কাছে খবর ছিলো বিআটিএ’র গাড়ির কাগজপত্র এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে যে সকল কাগজপত্র প্রয়োজন তার সকল নকল ও জাল কাগজপত্র আরাফাত মোটর ড্রাইভিং ট্রেনিং স্কুল, আরাফাত ফটোস্ট্যাটের মালিক মো. মনিরুল ইসলামের কাছে পাওয়া যায়। মনিরুল দীর্ঘদিন যাবৎ বিআরটিএ অফিসে আসা ব্যক্তিদেরকে প্যাকেজের মাধ্যমে কন্ট্রাক্ট নিয়ে সরকারি দফতরের সীল, নাগরিকতার জাল সনদপত্র, নোটারি পাবলিকের জাল কাগজপত্র, ডাক্তারি নকল জাল সনদপত্র তৈরি করে কাজ করতেন। অভিযানে মনিরুল ইসলামের প্রতিষ্ঠান থেকে এবং বিআরটিএ অফিসের পেছনের কেডিএ আবাসিকের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ মেডিকেলের জাল সার্টিফিকেট ও সীল, নোটারি পাবলিকের জাল স্ট্যাম্প, উকিলের সীল, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের এবং সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের জাল ব্লাংক সীল মারা সনদপত্র, নোটারি পাবলিকের স্টীকার, বিআরটিএ’র অফিসের বিভিন্ন কাগজপত্র, সরকারি বিভিন্ন দফতরের সীল, বিআরটিএ’র কর্মকর্তাদের সীলসহ বিপুল পরিমাণ সীল ও নকল জাল কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। এ সময় এই কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটারের একটি সিপিইউ জব্দ করা হয়।

অভিযানে প্রতিষ্ঠানের মালিক শেখ মনিরুল ইসলাম (৫০) তার ছেলে বাসিত হোসেন (২১), দোকানের কর্মচারী এবং এই কাজে জড়িত থাকায় আড়ংঘাটা থানা এলাকার মৃত চাঁদ আলী খানের ছেলে মো. আব্দুর সবুর খান (৫১), গিলাতলার অসীম মজুমদারের ছেলে সঞ্জয় (২৫), দৌলতপুর থানা এলাকার মনিন্দ্র সাহার ছেলে সুবাস সরকার (৫৭) এবং একই এলাকার দুর্গা দাসের ছেলে বিদ্যুৎ মজুমদার (৫৪) কে আটক করা হয়। এছাড়া এই কাজের সাথে নতুনভাবে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ায় নজরুল, রিপন, রবিউজ্জামান, মো. মশিউর হাসান, চৈতী নন্দী ও জয়াকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অভিযানে খুলনার সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিয়া আফরীন, র‌্যাব কর্মকর্তা এএসপি মো. তোফাজ্জেল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ