ঢাকা, শুক্রবার 21 September 2018, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিলা বৃষ্টি, ঝড়: রংপুরে নিহত ২

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

আজ শুক্রবার রংপুর, গাইবান্ধা, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিলাবৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও ঝড় হয়েছে। এতে রংপুরে দুজনের মৃত্যুর খবার পাওয়া গেছে। এছাড়া রবিশস্যসহ গাইবান্ধায় আম বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

রাজধানী ঢাকায় দমকা হাওয়া ও ধূলিঝড়সহ বৃষ্টি হয়েছে। মধ্য চৈত্রের বিকেলে শুরুতে ঝড় ও পরে বৃষ্টি নামে। তবে বৃষ্টির আগে ধূলিঝড়ে পথচারিদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

এছাড়া পঞ্চগড় ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রামসহ দেশের উত্তরের কয়েকটি জেলায় শিলাবৃষ্টি ও ঝড় হয়েছে। এতে বাড়িঘরসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।

লালমনিরহাটে ১০ মিনিট স্থায়ী শিলাবৃষ্টিতে জেলার হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বসত-বাড়িসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। শিলাবৃষ্টিতে এসব এলাকার টিনের চালা ভেঙে গেছে। এছাড়াও ভুট্টা ও ইরি-বোরোসহ সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে।

হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরি করে সহযোগিতার জন্য দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হবে। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী, সাঘাটা, গোবিন্দগঞ্জ ফুলছড়ি উপজেলার শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

শিলাবৃষ্টির আঘাতে পলাশবাড়ীতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ে শিলাবৃষ্টিতে হরিপুর উপজেলার বরুয়াল ও বনগাঁ গ্রামের হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।

মওসুমের প্রথম কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে রংপুরে। রংপুর বিভাগজুড়ে দফায় দফায় এই ঝড়ে আহত হয়েছে শতাধিক মানুষ। লিচু, আমের মুকুলসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষক এবং কৃষি বিভাগ।এসময় বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয়ে দু'জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এরা হলেন রংপুরের বদরগঞ্জের শামিম মিয়া (৩৫) ও তারাগঞ্জ উপজেলার নয়া মিয়া (৪০) নিহত হন।

শুক্রবার সকালে হঠাৎ শিলাবৃষ্টি সেই সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হয়। এতে রংপুরের বদরগঞ্জের শামিম মিয়া (৩৫) ও তারাগঞ্জ উপজেলার নয়া মিয়া (৪০) নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে বেশ কয়জন। 

রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আলী জানান, দুপুর ১২টার দিকে প্রচণ্ড ঝড় শুরু হয়। রংপুর নগরীর কিছু এলাকা ছাড়াও গঙ্গাচড়া, পীরগঞ্জ, মিঠাপুকুর, তারাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই ঝড় আঘাত হানে। ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৬৫ কিলোমিটার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ঝড়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পীরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।

পীরগঞ্জ উপজেলার কাবিলপুর ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম জানান, হঠাৎ ঝড়োবৃষ্টিতে তার ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বাড়ি ঘর উপড়ে গেছে, নষ্ট হয়েছে গাছপালা। জমির ফসলও নষ্ট হয়েছে। তার দাবি কাবিলপুর ইউনিয়নের ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছে।

একই উপজেলার টুকুরিয়ার চেয়ারম্যান আতোয়ার রহমান বলেন, বৃষ্টির চেয়ে ক্ষতি করেছে ঝড় আর শিলাবৃষ্টি। এতে ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে কাঁচা বাড়িঘরও ভেঙে গেছে। সেগুলো মেরামত করতে অনেক অর্থের প্রয়োজন।

পীরগঞ্জের চতরা ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক শামীম জানান, ঝড়ের চেয়ে শিলাবৃষ্টিতে তাদের এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে আটজনকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ