ঢাকা, শনিবার 31 March 2018, ১৭ চৈত্র ১৪২৪, ১২ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গ্যাসের লাইন বিস্ফোরণে চার মেধাবী ছাত্রের মৃত্যু

* তিন দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা
খুলনা অফিস : এ শোক মেনে নেবার কোনো ভাষা নেই, এ শোক মানিয়ে নেয়ার কোনো যুক্তি নেই। শোকে স্তব্ধ খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)। বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে একজন ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো তিন শিক্ষার্থীই তাদের পরিবার, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারসহ সকলকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন না ফেরোর দেশে। একাডেমিক শিক্ষা সম্পন্ন করলেও কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারেননি কুয়েট এর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মেধাবী এই চার শিক্ষার্থী।
গত শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ময়মনসিংহের ভালুকায় ছয়তলা ভবনে গ্যাসের লাইন বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে মো. তৌহিদুল ইসলাম অপু নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় তার তিন সহপাঠী দীপ্ত সরকার, মো. শাহীন মিয়া ও মো. হাফিজুর রহমান গুরুতর দগ্ধ হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শুক্রবার সকালে দীপ্ত সরকার মারা গেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে হাফিজুর রহমানের (২৪) মৃত্যু হয়। বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে মারা যায় শাহীন মিয়া।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী এ চার শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস বন্ধ থাকবে।
এছাড়া দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদঘটানের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রতিনিধি, বিসিএসআইআর এর বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমন্বয়ে ৭ (সাত) সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। কমিটির সদস্যগণ ২৮ মার্চ রাতে বার্ণ ইউনিটে গিয়ে হৃদয় বিদারক ঘটনার মুখোমুখী হন এবং ২৯ মার্চ ময়মনসিংহের ভালুকায় মাস্টার বাড়ি এলাকায় অস্থায়ী বাসাটি পরির্দশন করেছেন।
কুয়েটের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মো. আবদুল জলিল জানান, এই চারজন কুয়েটের অসম্ভব মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। অপু ছিল সেকেন্ড বয়। তারা ইন্টার্ন করার পরই গ্র্যাজুয়েশনের সার্টিফিকেট পেত। এরপরই তারা কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারত। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, তারা সেই সুযোগ পেল না।
নিহত মো. তৌহিদুল ইসলাম অপু বগুড়ার শাহাজাহানপুর উপজেলার মাঝিরা গ্রামের মো. নূরুল ইসলামের ছেলে। দীপ্ত সরকার মাগুরার শালিখা উপজেলার দীঘল গ্রামের বিমল সরকারের ছেলে। মো. শাহীন মিয়া সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার খাস সাতবাড়িয়া গ্রামের নূরুজ্জামান আকন্দের ছেলে ও মো. হাফিজুর রহমান নওগাঁর মান্দা উপজেলার বান্দিপুর গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে। তাদের বয়স ২৩ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে।
কুয়েট সূত্র জানায়, নিহত চারজন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২ কে-১৩ ব্যাচের ছাত্র ছিল। তারা ২০১৩ সালে কুয়েটে ভর্তি হয়। বর্তমানে তারা চতুর্ষ (শেষ) বর্ষের ছাত্র। ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের সব পরীক্ষা শেষ হয়েছে। শুধু বাকি ছিল বাধ্যতামূলক অ্যাটাচমেন্ট (ইন্টার্নশিপ) পরীক্ষা। হাতে-কলমে শিক্ষা গ্রহণের জন্য গত ১০ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে চার সপ্তাহের ইন্টার্নশিপ করতে ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি প্রতিষ্ঠিত শিল্প প্রতিষ্ঠানে তাদের পাঠানো হয়। ওই শিল্প প্রতিষ্ঠানের পার্শ্ববর্তী ছয়তলা ভবনের তৃতীয়তলা ভাড়া নিয়ে থাকতেন তারা। গ্যাসের লাইন বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে তৌহিদুল ইসলাম অপু নিহত হন। শাহীনের শরীরের ৮৩ শতাংশ, হাফিজের ৮০ শতাংশ ও দীপ্তর ৫৫ শতাংশ দগ্ধ হয়।
কুয়েটের ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘কুয়েটের ইতিহাসে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি। এই ছেলেরা কুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলো। তাদের সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ছিল। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ