ঢাকা, শনিবার 31 March 2018, ১৭ চৈত্র ১৪২৪, ১২ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কারিগরি শিক্ষা হোক দুর্নীতি মুক্ত

আজহার মাহমুদ : কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাবে এটাই বিশ্বাস করেন আমাদের দেশের অনেক জ্ঞানী ব্যক্তিগন। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা কারিগরি শিক্ষার প্রতি অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। কিন্তু সেই শিক্ষার ভেতর এখন চলছে দুর্নীতির মিলনমেলা। কথাটি হয়তো অনেকের কাছে অবাক মনে হবে। কিন্তু সঠিক তদারকি থাকলে এর গভীরে কি আছে সেটাও বের করা যাবে। কারিগরি শিক্ষার জন্য বাংলাদেশে যতগুলো কারিগরি ট্রেনিং সেন্টার তৈরী করা হয়েছে তার সবগুলোতে কেমন অবস্থা সেটা হয়তো জানা নেই। কিন্তু গোপন সূত্রের মাধ্যমে যা জানা গেলো তাতে বড় উদ্বেগ হতেই হবে। কারিগরী শিক্ষার্থীদের জন্য সরকার যে টাকা দেয় তা কিভাবে আত্বসাৎ হয় তা হয়তো তদন্ত না করলে কখনেই প্রকাশ পাবেনা। ক্লাসে শিক্ষার্থী থাকে কিন্তু  শিক্ষক থাকেনা। নেই কোনো নিয়ম আর শৃংখলা। কারণ তারা তো সরকারের কাছ থেকে মাসে মাসে তাদের বেতন পাচ্ছে। তাদের তো কোনা ধরনের সমস্যা নেই। কিন্তু সমস্যা হয় সব শিক্ষার্থীদের, যারা এই ধরনের সরকারী কারিগরি ট্রেনিং সেন্টার থেকে হাতেকলমে কিছু শিক্ষা নিয়ে নিজেদের বেকারত্ব ঘুছাতে চায়। কিন্তু তারা সেই সেটাও পারেনা। কারণ যেখানে কোনো শিক্ষা থাকেনা সেখানে কিভাবে বেকারত্ব দূর হবে। অর্থ মন্ত্রনালয় অধিদপ্তরের কোনো এক বড় কর্মকর্তা থেকে জানা গেলো প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য সরকার ৩৬ হাজার টাকা করে দিচ্ছে সেইফ প্রজেক্টে। অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থীর জন্য ২৯ হাজার ৫০০ হাজার টাকা খরচ করা হবে এবং বাকি ৬৫০০ টাকা তাদের কোর্স শেষে দেওয়া হবে। কারণ সরকার চায় কারিগরি প্রশিক্ষনের মাধ্যমে আমাদের দেশে বেকারত্ব দূর হউক। কিন্তু সেটা হয়তো সফল হচ্ছেনা কিছু কিছু কারিগরি ট্রেনিং সেন্টারের মারাত্বক দূর্ণীতির জন্য। ৫ মাসের কোর্স এবং একমাস অন্যকোনো প্রতিষ্টানে ইন্টার্নিং করানোর কথা থাকলেও তাও সঠিক ভাবে হচ্ছেনা। সম্পূর্ণ সরকারি কোর্স বলেই এই অবস্থা। মজার বিষয় হচ্ছে আমরা জানতাম কারিগরি শিক্ষা মানে হাতে-কলমে শিক্ষা। কিন্তু কিছু কিছু কোর্স দেখা যায় হাতে কলমে না শিখিয়ে খাতা কলমের মাধ্যমে শিখায়। দির্ঘ পাচঁ মাস যা শিখায় তা যদি  হাতে কলমে না শিখিয়ে খাথা কলমে শেখায় তাহলে এই পাচঁ মাসের কোর্স করে কোনো উপকার হবে বলে মনে হয় না।
কোর্স শেষে দেওয়া হবে একটি সরকারি সার্টিফিকেট। কিন্তু কি হবে এই সার্টিফিকেট দিয়ে, যদি কিছুই না জানে শিক্ষার্থীরা। কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কেই সার্টিফিকেটের বস্তা বানানোর জন্য  ভর্তি হয় বলে আমরা মনে হয়না। শিক্ষার্থীদেরে জন্য ২৯ হাজার ৫০০ টাকা খরচ করার জন্য সরকার দিলেও তারা সেই টাকার সামান্য ভাগ খরচ করে পুরো টাকা আত্বসাৎ করে ফেলাই তাদের মূল কাজ। এভাবেই চলে বাংলাদেশের সরকারি ট্রেনিং সেন্টার গুলোর দুর্ণীতি। একই কোর্স বেসরকারী ভাবে করলে নেওয়া হয় ২৬ হাজার টাকা, সেখানে সরকার থেকে সব খরচ দিয়ে উল্টা শিক্ষার্থীদের জন্য ৬৫০০ টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু এতো কিছু দেওয়ার পরেও সঠিক শিক্ষা পায় না সরকারী শিক্ষার্থীরা। এভাবেই হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা আত্বসাৎ করছে এসকল ট্রেনিং সেন্টারের দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যাক্তিরা।
দেশের সরকার এবং বুদ্ধিজীবীরা কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে যে উন্নয়ণ দেশে পাওয়ার কথা ভাবছে সেভাবে কিছুই হচ্ছেনা বাংলাদেশের সরকারি ট্রেনিং সেন্টার গুলোতে। সঠিক তদারকি এবং খোঁজ খবর না রাখলে এর ভেতর আরো বড় দুর্নীতি প্রবেশ করতে সময় লাগবে না। দেশের মানুষের আস্থা এবং ভরসার নাম ছিলো কারিগরি শিক্ষা, কিন্তু এই শিক্ষাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে কতিপয় অর্থ লোভী ব্যাক্তি। এদের বের করে কঠিন শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
যে সকল অর্থ শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া হয় সেগুলো কোন খাতে ব্যায় করা হয় তা সরজমিনে দেখতে হবে। এবং শিক্ষার্থীদের থেকে জানতে হবে তারা সব কিছু পেয়েছে কিনা। সঠিক ভাবে তদারকি করা না হলে সুযোগ পেলেই দুর্ণীতি করতে চাইবে কিছু অর্থ লোভী ব্যাক্তি। তাই এর গভীরে প্রবেশ করে সঠিক ভাবে তদন্ত করার দাবী জানাচ্ছি সরকারের কাছে। দুর্ণীতি মুক্ত কারিগরি শিক্ষা যেনো সরকার দিতে পারে সেই কামনা করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ