ঢাকা, শনিবার 31 March 2018, ১৭ চৈত্র ১৪২৪, ১২ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ক্যান্সার চিকিৎসায় জিন থেরাপি

ক্যান্সার একটি মারণব্যাধি হিসেবে গণ্য। এর সুচিকিৎসা এখনও নিশ্চিত হয়নি। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। এরই মধ্যে ক্যান্সার চিকিৎসার নতুন এক উপায় খুঁজে পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন আমেরিকার একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। তিনি হলেন টাম্পার মোফিট ক্যান্সার সেন্টারের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফ্লেডারিক লকি। তাঁর এ দাবি সত্যই আশাব্যঞ্জক এবং সাড়া জাগানো।
ফ্লোরিডার ৪৪ বছর বয়স্ক ডিমাস প্যাডিলা বারবার ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। দুশ্চিন্তার অন্ত নেই তাঁর। একদিন চিকিৎসক ফ্লেডারিক লকির সঙ্গে দেখা হয়ে গেল প্যাডিলার। কষ্টের কথা খুলে বললেন তিনি। তখন লকি জানালেন, তিনি চিমারিক এন্টিজেন রিসেপ্টর টি-সেল থেরাপি সংক্ষেপে সিএআরটি- সেল নিয়ে গবেষণা করছেন। এতে জেনেটিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রোগীর নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করবার মতো শক্তিশালী করে তোলা হয়।
চিকিৎসক ফ্লেডারিক লকি ক্যান্সারাক্রান্ত ডিমাস প্যাডিলার রক্ত থেকে টি-সেল সংগ্রহ করলেন। এরপর বিজ্ঞানীরা ওই সেলগুলোতে নবেল জিনের অনুপ্রবেশ করিয়ে দেন। এতে কোষগুলোর এমন এক প্রকার শক্তি তৈরি হলো যাতে এগুলো ক্যান্সার কোষের বিশেষ প্রোটিনকে আক্রমণ করে তা শুষে নিতে সক্ষম হয়। পরে এই কোষগুলো আবার প্যাডিলার রক্তে ঢুকিয়ে দেয়া হলো। এর রেজাল্ট হলো বিস্ময়কর। সপ্তাহ দুয়ের মধ্যে তার টিউমার শুকোতে শুকোতে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। ১৮ মাস অতিক্রান্ত হবার পরও প্যাডিলার শরীরে আর টিউমার ফিরলো না। বিদায় হলো শরীরের অন্যান্য জটিলতাও। দিব্যি  সুস্থ-সবল হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন প্যাডিলা। এবার বিশ্বাস করতে শুরু করছেন তিনি এখন মারণব্যাধি ক্যান্সারমুক্ত। চিকিৎসকরা জানান, এই গবেষণায় অংশ নেয়া ১০১ রোগীর মধ্যে অর্ধেকের বেশি পুরোপুরি মুক্ত হয়েছেন ক্যান্সার থেকে। আমেরিকার ফুড এ- ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন জিন থেরাপি নামে এই চিকিৎসাপদ্ধতির অনুমোদন দিতে রাজি হয়েছে সাফল্যের হার দেখে। তবে অন্যান্য চিকিৎসাপদ্ধতির মতো এরও কিছু সাইড এফেক্ট রয়েছে বলে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। সূত্র: স্মিথসোনিয়ান.কোম।
মারণব্যাধি ক্যান্সার যখন বিশ্বব্যাপী এক আতঙ্কের নাম। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা হন্যে হয়ে এর মেডিসিন আবিষ্কারে গলদঘর্ম। তখন ফ্লোরিডার গবেষক ফ্লেডারিক লকি সত্যই আশার কথা শোনালেন। আমরা তাঁর  পুরোপুরি সাফল্য কামনা করি। আমরা আরও প্রত্যাশা করি যে, জিন থেরাপির যেটুকু সাইড এফেক্টের কথা বিজ্ঞানীরা অবহিত করিয়েছেন সেটাও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। আমরা ফ্লেডারিক লকি ও তার সহকর্মীদের সাধুবাদ জানাই। দীর্ঘায়ু কামনা করি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ