ঢাকা, শনিবার 31 March 2018, ১৭ চৈত্র ১৪২৪, ১২ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

স্বৈরাচারী তকমা যে কারণে

জিবলু রহমান : [চার]
প্রায় ২ বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছিলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগে মামলা হয়েছে, সেগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নাইকো দুর্নীতির একই অভিযোগে আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে, অথচ বিএনপি চেয়ারপারসনের মামলা চলছে। তারেক রহমানের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। মূল আসামি মুফতি হান্নানও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে তারেক রহমানের নাম উল্লেখ করেননি। সুতরাং প্রশ্নবিদ্ধ অভিযোগে এসব মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেকের সাজা দেয়ার চিন্তা করলে আইনের শাসন হুমকির মুখে পড়বে।’
২০১৬ সালের মধ্যভাগ পর্যন্ত ২৪ হাজার মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। আরও পাঁচ-সাত হাজার মামলা নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। এসব মামলায় প্রায় ৫ লাখ নেতা-কর্মীই আসামি। এর মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধেই ৩৩ মামলা। দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মানহানিসহ একশরও ওপরে মামলা রয়েছে। দলের মহাসচিব ৮২ মামলার আসামি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য আ স ম হান্নান শাহের বিরুদ্ধেও ৩৩টি মামলা ছিল। স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সালাউদ্দিন আহমদসহ সিনিয়র নেতাদের কারও কারও বিরুদ্ধে মামলা এক ডজন থেকে শুরু করে অর্ধশত ছাড়িয়েছে। (সূত্র : দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন ৭ অক্টোবর ২০১৬)
২০১৬ সালেই দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে এক মামলায় সাত বছরের ‘সাজা’ দেয়া হয়েছে। আরেক ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকাসহ কয়েক নেতাকেও সাজা দেয়া হয়েছে। দলের মহাসচিবসহ নেতা-কর্মীদের আশঙ্কা, খালেদা জিয়াসহ সিনিয়র সব নেতাকে সাজা দিয়ে নির্বাচনে অযোগ্য করে সরকার নির্বাচন দিতে পারে।
সরকারি দলের নির্বাচনী তোড়জোড় দেখে মাঠের রাজনীতিতে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপিও এখন আগামী নির্বাচনেই পূর্ণ মনোযোগ দিতে যাচ্ছে। আর বিএনপি নির্বাচনে এলে আগামী সংসদে নিজেদের অবস্থান কী হবে এবং নির্বাচন কী একক না জোটগতভাবে করবে, জোটবদ্ধ হলে কোন জোটে-এসব নিয়ে আগাম ভাবনায় পড়েছে এইচএম এরশাদের জাতীয় পার্টি (জাপা)সহ বর্তমান দশম সংসদে থাকা বেশ ক’টি রাজনৈতিক দল।
বর্তমান জাতীয় সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির অবস্থান কী হবে তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিচিত্র হিসাব-নিকাশ। আগামী নির্বাচনে শক্তিশালী বিরোধী দল হওয়ার লক্ষ্যে জাতীয় পার্টি একক দল হিসেবে নির্বাচন করার কথা এরই মধ্যে বহুবার বলেছে। এসব কথা থেকে এটি পরিষ্কার, আগামী নির্বাচনে বিএনপি’র পরিবর্তে জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দল হয়ে ক্ষমতার অংশীদার হতে চায়। বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও তেমনটাই চাইছে। রাজধানীর সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় পার্টি ২৪ মার্চ ২০১৮ ঢাকায় মহাসমাবেশ করে সেই বার্তাই দিয়েছে।
বর্তমান এমপিদের নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভা গঠনের দাবি জানিয়েছেন এরশাদ। বলেছেন, নির্বাচনের ব্যাপারে এই অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো ভূমিকা থাকবে না। তারা শুধু রুটিনমাফিক রাষ্ট্রীয় কাজ পরিচালনা করবে। নির্বাচন পরিচালনা করবে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন। এর আগেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে একই প্রস্তাব দিয়েছিলেন এরশাদ।
তিন যুগ আগে ২৪ মার্চ নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আবদুস সাত্তারকে পদত্যাগে বাধ্য করে ক্ষমতা দখল করেছিলেন সে সময়ের সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। আর ক্ষমতা দখলের ৩৬তম বার্ষিকীতে সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ করলেন তিনি। সম্মিলিত জাতীয় জোটের উদ্যোগে সমাবেশ করার ঘোষণা থাকলে মূলত এটি ছিল জাতীয় পার্টির নির্বাচনী শোডাউন। হাতে গোনা কয়েকটি ধর্মভিত্তিক দল এতে অংশ নেয়। সমাবেশে এরশাদ বলেন, অনেকেই আমার কাছে জানতে চান, আগামী নির্বাচন কেমন হবে, নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা কী? উত্তরে আমি বলতে চাই, আমরা জাতীয় পার্টি সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। নির্বাচনের সময় জাতীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করতে হবে। আমরা সাধারণ কাজকর্ম করব। নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন থাকবে এবং একে পূর্ণ ক্ষমতা দিতে হবে। ইনশাআল্লাহ, সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে বাধ্য থাকবে। জাতীয় পার্টি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করার মতো শক্তি অর্জন করেছে বলেও এরশাদ করেন। এবার জাতীয় পার্টি আত্মবিশ্বাসী জানিয়ে এরশাদ বলেন, আজকের সমাবেশ শুধু সমাবেশ নয়। এ যেন গণসমুদ্র, মহাসমুদ্র। আমার মন ভরে গেছে আজ, কানায় কানায় পূর্ণ। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জাতীয় পার্টি আজ প্রস্তুত। আজকের সমাবেশে আমরা তা প্রমাণ করেছি। এরশাদ বলেন, মানুষ আমার কাছে বার্তা চায়। প্রথম বার্তা হচ্ছে, আমরা ইতিহাস সৃষ্টি করব। আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করব। এ আমার বার্তা। আমরা প্রস্তুত। দেশ প্রস্তুত। ২৫-৩০ বছর আমরা ক্ষমতায় ছিলাম না। দুই দল ক্ষমতায় ছিল। তারা জনগণকে কী দিয়েছে? অন্যায়-অবিচার। নারীদের লাঞ্ছনা, বেকারত্ব। জনগণকে তারা কিছু দিতে পারে নাই। শুধু লম্বা লম্বা কথা।
এরশাদ বলেন, কাল উন্নয়নশীল দেশ হলো। অনেক চাকচিক্য। অনেক লাইট। অনেক বাজি পোড়ানো হলো। ঢাকার বাইরে গিয়ে দেখুন, দেশের মানুষের কী অবস্থা। তখন বুঝবেন, কতটুকু উন্নতি করেছেন, উন্নয়নশীল দেশ হয়েছে। খবরের কাগজ খুললেই খুন, নারী ধর্ষণ ও শিশু হত্যা। শুধু হত্যা আর রক্ত। কোথাও শান্তি নেই। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। শান্তি শুধু ঢাকায়। ঢাকার বাইরে শান্তি নেই। আমরা ক্ষমতায় আসলে প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি ইউনিয়নে মানুষকে শান্তি দেব। এরশাদ বলেন, শিক্ষার কথা বলি। শিক্ষা গোল্লায় গেছে, পচন ধরেছে। আগে পাস করা কঠিন ছিল এখন ফেল করা কঠিন। যেখানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সহনশীল পর্যায়ে ঘুষ নেবেন। এ শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন আনতে হবে।
জিএম কাদের বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন মানে কতগুলো দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে সেটা না। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে-কত মানুষ ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারছে। দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, আমরা ২৭ বছর পরীক্ষা দিয়েছি। ক্ষমতায় গেলে অনেকের মামলা উঠে যায়। কিন্তু আমাদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এখনো মামলা চলছে। তাকে কোর্টে হাজিরা দিতে হচ্ছে। দুটি দল ক্ষমতায় ছিল এতদিন। তাদের শাসনে গুম, খুন, ব্যাংক লুটপাট হয়েছে। দেশের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এরশাদকে আবার ক্ষমতায় নেয়ার জন্য আহ্বান জানান। (সূত্র : দৈনিক মানব জমিন ২৫ মার্চ ২০১৮)
মহাসমাবেশে জাপার কো-চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ বলেছেন, ‘আমরা আর কারো ক্ষমতার সিঁড়ি হব না। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য ক্ষমতায় যাব এবং জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করব।’ এর আগে বিদেশি একটি গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ বলেছিলেন, সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে তাঁর দলের সদস্যদের বের করে এনে তিনি জাতীয় পার্টিকে বিএনপির বিকল্প শক্তি হিসেবে দাঁড় করাতে চান।
সেই লক্ষ্যে এরই মধ্যে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলগুলোকে নিয়ে ‘সম্মিলিত জাতীয় জোট’ গঠন করেছেন এরশাদ। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে (আওয়ামী লীগের বাইরে) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বেশ কিছুদিন ধরে এরশাদ সারা দেশ সফর করছেন। কিছু এলাকায় জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর নামও ঘোষণা করেছেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ বলেছেন, ‘বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে, তাহলে জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচনে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাদের বিরোধী দলে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এলে জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচন নাও করতে পারে।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, “শুধু জাতীয় পার্টি নয়, ‘অনেকেই’ চাচ্ছে জাতীয় পার্টিকে বিএনপি’র বিকল্প হিসেবে দাঁড় করাতে।” (সূত্র : দৈনিক কালের কন্ঠ ২৫ মার্চ ২০১৮)
২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কেন দিগি¦দিক ছোটাছুটি করার চেষ্টা করেছিলেন তার রহস্য এখনো পরিষ্কার হয়নি। এখন জাতীয় পার্টি মোটামুটি স্থির আছে বলা যায়। কিন্তু ঠিক নেই। স্বামী-স্ত্রী এক গাড়িতে না চলার কারণে যানজটে পড়ে প্রধানমন্ত্রীর ইফতার পার্টিতে যোগ দিতে পারেননি বেগম রওশান এরশাদ। দুই গাড়ি আবার দুই দিকে ঘুরে গেলেই বিপত্তি ঘটবে, জাতীয় পার্টি আর থাকবে না। (সূত্র : দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন ১৩ জুলাই ২০১৫)
একাদশ সংসদ নির্বাচন কখন কীভাবে হবে, আগাম না সংবিধানে নির্ধারিত সময়ে-এনিয়ে এতদিন রাজনৈতিক অঙ্গণে নানা জল্পনা-কল্পনা, অনুমান ও গুঞ্জন থাকলেও আওয়ামী লীগের বিগত কাউন্সিলে বিষয়টি পরিস্কার করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন ‘নির্বাচনের বাকি আর দুই বছর দুই মাস, সংবিধান অনুযায়ী মেয়াদ শেষের পূর্ববর্তী তিনমাসের মধ্যেই নির্বাচন হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য এবং বিদ্যমান সংবিধানের দিকে তাকালে হিসাব বলছে-২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারির প্রথমার্ধ্বের মধ্যে যে কোনদিন একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে।
আওয়ামী লীগের বিগত কাউন্সিলে প্রধানমন্ত্রীর আরো দুটি বক্তব্যের বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ চলছে কমবেশি প্রায় সকল রাজনৈতিক দলে। প্রথমত: কাউন্সিলের শেষদিনে প্রধানমন্ত্রী তার দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন ‘আগামী নির্বাচন নিয়ে যেন আওয়ামী লীগ আর প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সেজন্য আপনারা বসে না থেকে এখন থেকেই ভোটারদের কাছে যান, মানুষের কাছে সরকারের অর্জনগুলো তুলে ধরুন।’ আর প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় বক্তব্যটি ছিল ‘বর্তমান সরকারের উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে আওয়ামী লীগকে আরেকবার ক্ষমতায় আসতে হবে।’
তখন ‘আওয়ামী লীগকে আরেকবার ক্ষমতায় আসতে হবে’-শেখ হাসিনার এই বক্তব্যকে ‘বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছিলেন বিএনপি মহসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন ‘এর অর্থ হচ্ছে যে কোনভাবে বর্তমান সরকার আগামীবারও ক্ষমতায় থাকতে চায়, অর্থাৎ তারা আবারও ৫ জানুয়ারির মত নির্বাচনের নীলনকশা করছে।’
গত কয়েকমাসে বেশ কয়েকবার ‘বিস্ময়ের’ মুখোমুখি হয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। প্রথমবার তারা বিস্মিত হন যখন হাইকোর্ট জানায়, নথি দেখে জামিন আবেদনের ব্যাপারে আদেশ দেয়া হবে। এ ধরনের আদেশের জন্য তারা প্রস্তুত ছিলেন না। সিনিয়র আইনজীবীরা এ আদেশকে বলেছেন, নজিরবিহীন। পরে অবশ্য হাইকোর্ট জামিন দিলে বিএনপির আইনজীবীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে। দলটির আইনজীবীদের কেউ কেউ আশা করেছিলেন, হাইকোর্ট জামিন আবেদন মঞ্জুর করার পর শিগগিরই খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন। কিন্তু দ্রুতই তাদের সে আশা ভাঙে। যখন জামিন মঞ্জুরের দিনই কুমিল্লার একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। তবে তাদের জন্য আরো বিস্ময় অপেক্ষা করেছিল। যখন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করে দেন তখন আক্ষরিক অর্থেই হতবাক হয়ে পড়েন তার আইনজীবীরা। শুনানির সুযোগ না পাওয়ায় এজলাস কক্ষেই তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
দুই ডজনের মতো বেশি মামলা দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে খালেদা জিয়াকে। তার দল অবশ্য এখন এগুচ্ছে ধীরে সুস্থে। কারাগারে যাওয়ার আগে খালেদা জিয়া দলকে কড়া নির্দেশনা দিয়ে গিয়েছিলেন যে, কোনো ধরনের হটকারিতায় জড়ানো যাবে না। সহিংস বা কঠোর কোনো কর্মসূচিও দেয়া যাবে না। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে যতটা সম্ভব এগুনোর চেষ্টা করতে হবে। বিএনপি অবশ্য নেতার এ নির্দেশ পালন করেছে। উসকানি সত্ত্বেও পরিচয় দিচ্ছে ধৈর্যের। তবে দলটির মধ্যে নানা বিষয়ে অস্বস্তি এবং আতঙ্কও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা হেফাজতে ছাত্রদল নেতা জাকিরের মৃত্যু দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে। রিমান্ড শেষে কারাগারে নেয়ার পর মৃত্যু হয় ঢাকা মহানগরের এই ছাত্রদল নেতার। তার দল এবং পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
এই যখন অবস্থা তখন কী করবে বিএনপি। এটা ঠিক, বিএনপির সামনে আসলে বেশি কিছু করার পথও খোলা নেই। দলটি আরো কিছু দিন ধৈর্য ধরবে। পরিস্থিতি যাই হোক কঠোর কোনো কর্মসূচিতে যাবে না। আগামী জুন-জুলাই মাস থেকে সর্বাত্মক আন্দোলনে যাওয়ার চেষ্টা করবে বিএনপি।
২১ মার্চ ২০১৮ খালেদা জিয়ার মামলা ও তার জামিন নিয়ে আইনি জটিলতা, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ‘নির্যাতন’ ও আগামী জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ