ঢাকা, রোববার 1 April 2018, ১৮ চৈত্র ১৪২৪, ১৩ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রিজার্ভ চুরির ঘটনায় এফবিআই প্রতিবেদনে ‘সরকারের মুখোশ’ উন্মোচিত হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার : কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা নিয়ে সম্প্রতি এফবিআইয়ের প্রতিবেদনে ‘সরকারের মুখোশ’ উন্মোচিত হয়েছে বলে  দাবি করেছে বিএনপি। গতকাল শনিবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, রয়টার্সের প্রতিবেদেন বলা হয়েছে , নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরির ঘটনা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হয়েছে বলে এফবিআই (মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) নিশ্চিত করেছে। দলের পক্ষ থেকে আমরা যে অভিযোগ করেছিলাম সেটি এখন অকাট্য সত্য হয়ে প্রমাণিত হলো।
উল্লেখ্য, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ৮শ’ কোটি রিজার্ভ চুরি হয়ে যায়।
সাংবাদিক সম্মেলনে দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুল হাই, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দস তালুকদার দুলু, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, কৃষিবিদ শামসুল আলম তোফা, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রিজভী বলেন, এতোবড় ব্যাংক ডাকাতির ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন অর্থমন্ত্রী কেনো এতো বছর আটকিয়ে রেখেছেন এফবিআইয়ের রিপোর্টে সেটি এখন পরিষ্কার হয়ে গেছে জনগণের মানসে। আমরা বলতে চাই, ক্ষমতাসীনরা সাধারণ মানুষের টাকা চুরির উন্নয়ন ছাড়া আর কোনো উন্নয়নই করে নাই। এত বড় চুরি-চোট্টামি হয়ে গেলো অথচ তাদের (সরকার) কোনো অনুশোচনা নেই।
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, জনশ্রুতি আছে যে, এই রিজার্ভ চুরির পেছনে বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন একজন ক্ষমতাধর ব্যক্তি আছেন যার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা সরকারের নেই। বাংলাদেশ নামক স্টেটের উপরে সুপার স্টেট কার্যকর আছে বলেই জনগণের টাকা হাওয়াই মিলিয়ে যায়। এই সুপার স্টেট কারা তা জনগণ জানেন। তাদের গদি ঘাটলে নাকি সরকারের গদিও নড়ে যাবে। আওয়ামী লীগ যতদিন ক্ষমতায় থাকবে দেশের ফাঁড়া ততদিন কাটবে না। আসলে দুর্নীতিরই ছদ্মনাম আওয়ামী লীগ।
বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি  নিয়ে ‘সলিডারিটি গ্রুপ ফর বাংলাদেশ’ ও ‘এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন’ এর প্রকাশিত বিবৃতির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর ধারাবাহিকভাবে নির্যাতন চলছে। সেই সাথে সরকারের সমালোচকদের ওপর ক্রমাগত আক্রমণ হচ্ছে এবং মত প্রকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে আইন তৈরি হচ্ছে। গত ২২ মার্চ এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেছে। কড়া নিন্দা জানিয়েছে গণগ্রেফতারের। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মৃত্যু ও নির্যাতনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের রিপোর্টে বলা হয়, গত এক মাসের মতো সময়ে গ্রেফতার করা হয় ৫০০০ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীকে। পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় বিএনপির ছাত্র বিষয়ক রাজনৈতিক সংগঠন ছাত্রদলের ঢাকা উত্তর ইউনিটের ভাইস প্রেসিডেন্ট জাকির হোসেন মিলন মারা যান। এছাড়াও ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিরাপত্তা হেফাজতে পর্যায়ক্রমিক নির্যাতনের ফলে বাংলাদেশে ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিরাপত্তা হেফাজতে থাকা অবস্থায় পায়ে গুলী করায় (নিক্যাপিং) বহু ডজন মানুষ স্থায়ীভাবে বিকলাঙ্গ হয়েছেন। একই সময়ে ৪২২ জন মানুষকে জোর করে গুম করে দেয়া এবং ১৪৮০টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডে আইন প্রয়োগকারী এজেন্সিগুলো জড়িত বলে অভিযোগ আছে।
যৌথ এ বিবৃতিতে বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের কাছে সুপারিশ করা হয়। জোরপূর্বক গুমকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে বলা হয়। ফৌজদারি বিচার বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বলা হয়।
তিনি বলেন, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বিবৃতিতে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির যে ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়েছে বাস্তবে ভয়াবহতা আরো ব্যাপক। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হওয়ায় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের চেয়ারপার্সন সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদ জিয়াকে জাল নথি তৈরি করে মিথ্যা সাজানো মামলায় যেভাবে কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছে, যেভাবে সরকারি নির্দেশে জামিন স্থগিত করে রাখা হয়েছে তা মানবাধিকারের চূড়ান্ত লঙ্ঘন। শুধুমাত্র শেখ হাসিনার ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতেই সরকারি সহিংসতার ব্যাপক রুপ ধারণ করেছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে গণতন্ত্রকে লোহার শিকলে বন্দী করে বাংলাদেশকে অন্ধকার শ্বাসরোধী পরিবেশ থেকে মুক্ত করতে সরকারের রোষানলের শিকার জনগণের অধিকার আদায়ে অবিচল ও প্রত্যয়দৃঢ় নেত্রী কারাবন্দী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সারাদেশে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত কাউন্সিলর মহানগর য্বু দলের আহ্বায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার, নাটোরের গুরুদাসপুরের মশিউর রহমান বাবুল, শহিদুল শেখ, আসাদুজ্জামান, মিজানুর রহমানসহ নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন রিজভী। একই সঙ্গে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা যুব দলের সভাপতি শফিকুর রহমানের ওপর ‘ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীদের’ হামলার ঘটনার নিন্দাও জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ