ঢাকা, রোববার 1 April 2018, ১৮ চৈত্র ১৪২৪, ১৩ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিদেশে পাঠানোর মতো অসুস্থ খালেদা জিয়া হননি -সাতক্ষীরায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর মতো গুরুতর কোনও সমস্যার কথা শোনেননি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
গতকাল শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সাতক্ষীরার দেবহাটা থানার নতুন ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার গুরুতর এমন কোনও সমস্যার কথা শুনিনি, যে কারণে তাকে বিদেশে পাঠাতে হবে। বিদেশে পাঠানোর মতো অসুস্থ তিনি হননি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘জেল কোড অনুযায়ী তার যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়া দরকার সব দেয়া হচ্ছে। তিনি জানিয়েছিলেন অসুস্থ বোধ করছেন। তার অনুরোধে ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। ডাক্তার জানিয়েছেন, তিনি আগের রোগে ভুগছেন, নতুন কোনও রোগ তার মধ্যে পাওয়া যায়নি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা কখনও বলিনি জঙ্গি একেবারে নির্মূল করেছি। যড়যন্ত্র এখনও চলছে। অনেকে জঙ্গিবাদের উত্থানের চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু এ দেশের মানুষ জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ পছন্দ করে না। তাদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেয় না। সেজন্য আর কখনও জঙ্গিবাদ মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব সময় তৎপর রয়েছে।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স দেখাচ্ছে। শিগগিরই মাদক আইন সংশোধন করা হবে। গণমাধ্যমে মাদকব্যবসায়ী ও গডফাদারদের ছবি প্রকাশ করে তাদের সামাজিকভাবে বয়কটের ব্যবস্থা করা হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সুন্দরবনে দস্যুতা দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে একাধিক দস্যু বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছে। পর্যায়ক্রমে সব বাহিনীকে আত্মসমপর্ণ করিয়ে সুন্দরবনে পুরোপুরি শান্তি ফিরিয়ে আনা হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আরা বলেছেন, ১০ বছর আগের পুলিশ আর এখনকার পুলিশ এক না। এখনকার পুলিশ জনগণের বন্ধু। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে এখনকার পুলিশ যথাযথ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। সেজন্য আমরা একটা নিরাপদ বাংলাদেশ পেয়েছি। উন্নয়ন যতই হোক না কেন, এদেশের মানুষ যদি শান্তিতে ঘুমাতে না পারে, ছাত্র ছাত্রীরা যদি নিরাপদে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে না পারে, ব্যবসায়ীরা যদি সঠিকভাবে ব্যবসা করতে না পারে তবে সব উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়বে। এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বোঝেন আর সেজন্যেই তিনি পুলিশকে আধুনিক পুলিশ বানাচ্ছেন। পুলিশের পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি করতে যা যা করা দরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাই করছেন।
এর আগে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কফি আনান কমিশন এবং বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রীর পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে তবেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব হবে। রোহিঙ্গা সমস্যা ১৯৭৮ সাল থেকে চলে আসছে। মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে আমাদের এ ব্যাপারে বৈঠক হয়েছে।
এসময় মন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আফম রুহুল হক এমপি, সাতক্ষীরা ১, ২ ও ৪ আসনের সংসদ সদস্য এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, এসএম জগলুল হায়দার, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মিসেস রিফাত আমিন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন, পুলিশ সুপার মো. সাজ্জাদুর রহমান প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ