ঢাকা, রোববার 1 April 2018, ১৮ চৈত্র ১৪২৪, ১৩ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

৬ বছরে দেশে ৮৮ হাজার অগ্নিকাণ্ডে ২৯ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

স্টাফ রিপোর্টার : বিগত ছয় বছরে সারাদেশে ৮৮ হাজারের মতো অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ২৯ হাজার কোটি টাকারও বেশি। প্রাণহানি হয়েছে ১ হাজার ৪ শ’ জন, আহত হয়েছে অন্তত ৫ হাজার মানুষ। কেবল সচেতনতা ও অগ্নিকান্ডের কারণগুলো চিহ্নিত করে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রশিক্ষণসহ নির্বাপনের সরঞ্জাম রাখলে আগুনের ভয়াবহতা কমিয়ে আনা সম্ভব। অগ্নিকান্ডের বিষয়ে এমনই তথ্য দিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: আলী আহম্মেদ খান।
গতকাল শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘ইলেকট্রনিক্স সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএসএসএবি)’ আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান। সম্মেলনে  উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব নাজমুল হুদা, সহ-সভাপতি প্রকৌশলী মো. মনজুর আলম, যুগ্ম মহাসচিব এম মাহমুদুর রশিদ ও পরিচালক জাকির উদ্দিন আহমেদ।
ফায়ার সার্ভিসের ডিজি বলেন, অগ্নিকান্ডে প্রতি বছর দেশে ২৩৩ জন মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন, আর আহত হন প্রায় ৫ হাজার মানুষ। এ ঘটনায় গড়ে প্রতি বছর ৪ হাজার ৮শ’ ৩৪ কোটি টাকার বিভিন্ন মালামাল ভস্মীভূত হচ্ছে।
তিনি বলেন, গত ৬ বছরে সারাদেশে প্রায় ৮৮ হাজার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই সময়ে মৃত্যুর শিকার হয়েছেন ১ হাজার ৪শ’ জন। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এসব অগ্নিকান্ডের মূল কারণ হচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব।
ডিজি বলেন, দেশে সংঘটিত বেশ কয়েকটি বড় অগ্নিকান্ডের পর রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানার বেশিরভাগে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ব্যক্তি মালিকানাধীন অনেক ভবন ও প্রতিষ্ঠান এখনো পিছিয়ে আছে। সম্পদ ও নিরাপত্তার স্বার্থে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সবার নৈতিক দায়িত্ব। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরো সচেতন হতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা অনেক বেড়েছে। অগ্নিকান্ডে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে প্রতিবছর স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের অন্তত দেড় লাখ কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রত্যেকটি উপজেলায় ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা হচ্ছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহম্মেদ খান বলেন, রাজধানী ও বিভাগীয় শহরগুলোতে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ভবন মালিককেই উদ্যোগ নিতে হবে।
ইএসএসএবি’র প্রেসিডেন্ট মো: মোতাহের হোসেন বলেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বছর পঞ্চমবারের মতো ইন্টারন্যাশনাল ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো-২০১৮ আয়োজন করা হচ্ছে। যা আগামী ৫ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।
‘এবারের এক্সপোতে ৩০টি দেশের ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি খ্যাতিমান ব্রান্ড প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। এই এক্সপোতে মোট স্টল থাকবে ৬০টি। মেলার কো-পার্টনার ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং এনএফপিএ।’
আগামী ৫ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে জানান ইএসএসএবি’র প্রেসিডেন্ট
তিনি জানান, এক্সপোতে স্থানীয় উৎপাদকদের সঙ্গে বিশ্বমানের ভবন, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং সেবা সর্ম্পকে জানার সুযোগ থাকবে। ফায়ার সেফটি এ্যান্ড সিকিউরিটি ব্যবস্থার বিষয়ে সম্যক ধারণা দেওয়ার আর্দশ স্থান হয়ে উঠবে এক্সপো।  এক্সপোতে অগ্নি নির্বাপনের মহড়া দিবে ফায়ার সার্ভিস। এছাড়া কয়েকটি টেকনিক্যাল সেশন থাকবে অংশগ্রহণকারীদের জন্য।
তিনি বলেন, জনসাধারণ অগ্নি নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা এবং ব্যবহারের তথ্য জানার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে উদ্ভাবিত সর্বশেষ প্রযুক্তি ও পণ্যের বিষয়ে জানতে পারবেন।
বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ অব্যাহত রয়েছে। বর্তমান সরকার ফায়ার সার্ভিসকে আধুনিক যন্ত্রপাতি সুবিধা দিচ্ছে। আমরা প্রতিবছর দেড় লাখ মানুষকে অগ্নি নিরাপত্তা সর্ম্পকে ট্রেনিং দিচ্ছি। সামগ্রিকভাবে অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকলকে ঐক্যবন্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাস্তা সুবিধা না থাকায় ফায়ার সার্ভিসকে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। এরপরই ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বেড়েছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটছে। গতকাল ২০টি স্থানে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা অনেক কমে আসছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ