ঢাকা, রোববার 1 April 2018, ১৮ চৈত্র ১৪২৪, ১৩ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দিনাজপুরে কালবৈশাখী শিলাবৃষ্টিতে একজন নিহত ॥ লিচু ও আমসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

দিনাজপুর অফিস : দিনাজপুর জুড়ে ব্যাপক ঝড় আর শিলাবৃষ্টিতে একজনের প্রাণহানিসহ ব্যাপক পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে মৌসুমি ফল লিচু ও আমের সকল মুকুল প্রায় ঝরে পড়েছে। সে জন্য আগামী ফল মৌসুমে লিচুর জেলা দিনাজপুরেই লিচু ও আমের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
দিনাজপুর জেলার ১৩ উপজেলার প্রতিটি এলাকাসহ পাশ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও রংপুরের অনেক উপজেলায় এ ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। শিলাবৃষ্টির সময় শিলার আঘাতে পার্বতীপুর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের চৈতাপাড়া গ্রামের মৃত লাল মোহাম্মদের ছেলে সৈয়দ আলী (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছে আরও কমপক্ষে ২৫ জন। আম, লিচু, ভুট্টা, টমেটো, রসুন, পিঁয়াজ , গম ও ইট-ভাটার কাঁচা ইটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। পার্বতীপুরে শত শত টিনের চাল শিলা পাথরের আঘাতে ফুটো হয়ে গেছে। গত শুক্রবার দুপুরে ও দিবাগত ভোর রাতে দু’দফায় এ ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড় হয়। মুহূর্তেই লন্ডভন্ড হয়ে যায় পুরো এলাকা। দমকা হাওয়ার সাথে শিলাবৃষ্টি মানুষের বাড়িঘরসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। পাশাপাশি থেমে থেমে বিকট শব্দে বজ্রপাত মানুষকে আতঙ্কিত করে তোলে। ঘুম থেকে উঠে অনেকেই ঝড় থামার প্রার্থনায় আযান দিতে থাকে। মহাসড়কের নৈশকালীন যানবাহনগুলো রাস্তার পাশে আটকে পড়ে। চৈত্রের শেষ নাগাদ হঠাৎ এ কালবৈশাখী ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে মৌসুমি ফল লিচু ও আম। পাশাপাশি গম ও ভুট্টা ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতিতে মাথায় হাত পড়েছে চাষিদের। এ ছাড়া সদ্য রোপণকৃত ইরি ধানেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। তবে শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ক্ষয়-ক্ষতির বিস্তারিত হিসাব দিতে পারেনি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, এখনি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে মৌসুমি ফল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
দিনাজপুর জেলার সদর, বীরগঞ্জ, সেতাবগঞ্জ, বিরল, চিরিরবন্দর, পার্বতীপুর, ফুলবাড়ি, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট উপজেলা চরম ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়। পার্বতীপুর উপজেলার হরিহরপুর গ্রামে বড় আকৃতির শিলা বৃষ্টিতে আতঙ্কিত এলাকাবাসী জানায়, এখানে একেকটি শিলার ওজন প্রায় ৪’শ গ্রাম ছাড়িয়ে যাবে। গ্রামের প্রায় বাড়ীতে টিনের চালা ফুটো হয়ে গেছে। জেলার ইট ভাটা গুলোও চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। সদর, চিরিরবন্দর, বীরগঞ্জ উপজেলায় টমেটোর ক্ষেত শিলার আঘাতে চরম ক্ষতি হয়েছে। কৃষকরা জানায়, বিগত সময়ে বয়ে যাওয়া প্রলয়ংকারি বন্যার পর এবার শিলা বৃষ্টিতে ফসলের যে পরিমাণ ক্ষতি হলো তা পুষিয়ে উঠতে অনেক বেগ পেতে হবে।
পাবনা সংবাদদাতা : পাবনার চার উপজেলায় হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টিতে আম, লিচু, ভুট্টা, সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শিলাবৃষ্টির কারণে ঘরের টিন ফুটো হয়ে নারী-পুরুষ, শিশুসহ প্রায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। শুক্রবার (৩০ মার্চ) বিকেল ৫ টা থেকে সাড়ে ৫ পর্যন্ত এই ঝড়ো হাওয়া ও ভারি শিলাবৃষ্টি হয়। আহতরা চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে ভর্তি হয়েছে। চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক খোরশেদ আলম জানান, শিলাবৃষ্টি থামার পর পরই একের পর এক আহত রোগী হাসপাতালে আসতে থাকে। আমরা তাদের চিকিৎসা দিতেই হিমসীম খাওয়ার মতো অবস্থা। এখানে অন্তত অর্ধশতজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি বলেও জানান তিনি। চাটমোহর উপজেলা চেয়ারম্যান হাসাদুল ইসলাম হীরা জানান, আমার জীবনে এ ধরনের শীলাবৃষ্টি দেখি নাই। আমার এলাকার উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তারমধ্যে সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে লিচু ও আমের কুড়ি ঝড়ে গেছে। অনেক বাগান মালিকই এবার চরমভাবে লোকসানের মুখে পরবে। উপজেলা পরিষদ থেকে তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসনের নির্দেশ মোতাবেক ক্ষতিগ্রস্থদের একটি তালিকা তৈরী করা হচ্ছে। ভাঙ্গুড়া উপজেলা সদরের পাটুলীপাড়া মহল্লার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী রানা হামিদ বলেন, বিকেলে প্রথমে বাতাস শুর হয়। পরে তা তীব্র আকার ধারণ করে। এরপরেই শুর হয় ভারি শিলাবৃষ্টি। এতে করে আমাদের এলাকাসহ উপজেলার অসংখ্য ঘরবাড়ির টিনের চালা ফুটো হয়ে গেছে।চাটমোহর পৌর এলাকার ব্যবসায়ী রনি রায় বলেন, আমার জীবনের দেখা প্রথম এমন শিলাবৃষ্টি যা স্মরণকালের ভারি শিলাবৃষ্টি। এতো বড় শিলাবৃষ্টি আমি দেখি নাই।সাথিয়া উপজেলার নাগডেমরা গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর সোলায়মান মিয়া (৫৫) বলেন, আমি এর আগে কখনও এমন ভারি শিলাবৃষ্টি দেখিনি। আমার তিনটি টিনের ঘরের চালা ফুটো হয়ে গেছে।কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর পাবনার উপ-পরিচালক বিভূতি ভূষন বলেন, বিকেলের শিলাবৃষ্টির পর পরই আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ক্ষয় ক্ষতির পরিমান নিরুপনের জন্যে। এখনো সেটা আমাদের হাতে এসে পৌঁছে নাই।পাবনার জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, পাবনা জেলার ৫টি উপজেলায় ঝড়ো হাওয়া ও ভারি শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। সুজানগর, সাঁথিয়া ও চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই মাঠে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। সুজানগরে ৯৮টি ঘর ভেঙ্গে গেছে সেখানে শুকনা খাবার পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দ্রত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করার চেষ্টা করছি বলেও জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ