ঢাকা, রোববার 1 April 2018, ১৮ চৈত্র ১৪২৪, ১৩ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দিনাজপুরের চাঞ্চল্যকর শিক্ষক নাহিদ হত্যায় ইন্টার্নি চিকিৎসক ও হাবিপ্রবির ছাত্র জড়িত

দিনাজপুর অফিস : দিনাজপুর শহরের বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর দিনাজপুর কালেক্টরের স্কুল এন্ড কলেজের সঙ্গীত শিক্ষক, ক্যাব স্কাউট লিডার নাহিদুল ইসলাম নাহিদকে হত্যা করেছে এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্নি চিকিৎসক ও হাবিপ্রবির ছাত্রসহ কয়েকজন। গত ৩০ মার্চ শুক্রবার দিবাগত রাতে পুলিশ এই হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের এক ছাত্রসহ দুই জনকে গ্রেফতার করেছে। গতকাল শনিবার তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করে ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানায়, হত্যা মামলার এজাহার নামীয় আসামী ইন্টার্নি ডাঃ হাসান রাসেদকে গ্রেফতারের পর  জিজ্ঞাসাবাদের ৭ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। আদালত ৩ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করে। তাকে জিজ্ঞাসা বাদের পর তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী দিনাজপুর পাহাড়পুর এলাকার মোঃ নুরুজ্জামানের ছেলে হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মেহেদী হাসান (২০) ও শহরের লালবাগ ক্লাবমোড় এলাকার একিমুদ্দিনের ছেলে ইজিবাইক চালক মোঃ আব্দুল কুদ্দুস (৪৫) কে গ্রেফতার করে। গতকাল শনিবার দিনাজপুর সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১ এ ৭ দিনের  রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
একটি সূত্র জানায়, আসামী ইন্টার্নি ডাঃ হাসান রাসেদের সঙ্গে শিক্ষক নাহিদুল ইসলাম নাহিদের পরিবারের একটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ডাঃ রাসেদ বিয়ে না করেই ফূর্তিতে বেশি পছন্দ আগ্রহী ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে মৃত নাহিদ আসামী ইন্টার্নি ডাঃ হাসান রাসেদকে বিয়ে করে নিতে বলে নচেৎ এ সম্পর্ক ত্যাগের জন্য চাপ দেয়। সে কারণে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাত ৯টায় দিনাজপুর ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে ইয়াম্মী চাইনিজ রেস্টুরেন্টে থেকে ফোন করে ডাঃ হাসান রাসেদ শিক্ষক নাহিদুল ইসলাম নাহিদকে নীচে ডেকে নেয়। সেখান থেকে তাকে ইজিবাইকে তুলে নিয়ে শহরের উপশহর ৮ নং ব্লকের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে রেজাউনুল হকের নির্মাণাধীন ৫ তলা বাসার ছাদে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মারধর করে ডাঃ হাসান রাসেদ তাকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং নিজের নাম গোপন করে তাকে ভর্তি করে কৌশলে পালিয়ে যায়। রাতেই নাহিদুল ইসলাম নাহিদের মৃত্যু হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া ৩ জনই এই হত্যাকা-ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে নিশ্চিত। মামলার তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত কিছু এই মুহূর্তে বলা যাবে না। দিনাজপুর কোতয়ালী থানার ওসি মোঃ রেদওয়ানুর রহিম হত্যাকা-ের কারণ ইঙ্গিত করে বলেন, আমরা হত্যাকা-ের কারণ নিশ্চিত হয়েছি। আরো নিবিড় তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। আসামীদেরকে জ্ঞিাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ