ঢাকা, রোববার 1 April 2018, ১৮ চৈত্র ১৪২৪, ১৩ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মুসলমানদের অবস্থা সম্পর্কে রাসূল (সা.) এর ভবিষ্যদ্বাণী

ড.এ এইচ এম সোলায়মান : বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.)-এর উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতারিত আল্-কুরআন যেমন শাশ্বত চিরন্তন, বিশ্বনবীর বিশুদ্ধ হাদীস ও যুগে যুগে বাস্তবতার সাক্ষ্য রেখে চলেছে। বিশ্বনবীর তিরোধানের পরে আল্-কোরআন ও আল-হাদীসই বিশ্ব মুসলিমের রক্ষাকবচ, উন্নতির চাবিকাঠি, মুক্তির দিশারী, হেদায়াতের আলোকবর্তিকা। বিদায় হজ্জে¦র ভাষণে বিশ্বনবীর কন্ঠে ধ্বনিত হয়েছে এই মহাসত্যটি। রাসূল করীম (সা.) বলেন- “আমি তোমাদের জন্য এমন জিনিস রেখে যাচ্ছি, তোমরা যদি তা শক্তভাবে ধরে থাক, তবে কখনো গুমরাহ হয়ে যাবে না। তা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর সুন্নাহ।”
তাছাড়া মানবতার মুক্তির দূত রাসূলে করীম (সা.) চৌদ্দশত বছর পূর্বে স্বীয়-বাণীর মাধ্যমে অনেক ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন। যা তাঁর সমসাময়িক সময় থেকে শুরু করে কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত সকলের জন্য দিক নির্দেশনা ও হেদায়াতের আলোকবর্তিকা হিসেবে বিদ্যমান। নিম্নে আধুনিক বিশ্বে মুসলমানদের অবস্থা সম্পর্কে রাসূল (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণীসমূহ পর্যালোচনাসহ উপস্থাপন করা হলো।
বর্তমান বিশ্বে ১৯২টি স্বাধীন দেশের মধ্যে ৫৬টি মুসলিম দেশ রয়েছে। উক্ত দেশ সমূহের মধ্যে কোন দেশেই পুরো ইসলামী শাসন ব্যবস্থা নেই। মধ্য প্রাচ্যের দেশসমূহ যেমন, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, দুবাই, কুয়েতসহ সমগ্র আরব আমিরাতে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। আর অন্যান্য প্রায় সকল দেশেই গণতন্ত্রের নামে জুলুমতন্ত্র বিদ্যমান। মানবরচিত আইন দ্বারা পরিচালিত হয়ে সর্বদা নিজেদের মধ্যে হিংসাবিদ্বেষ, মারামারি, হত্যা, গুম, অপহরণ সহ চরম অস্থিরতা বিরাজমান। আর এ ব্যাপারে রাসূল (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী হলো যেমন, হুযায়ফা (রা.) হতে বর্ণিত রাসূল (সা.) বলেছেন- “তোমাদের মধ্যে নবুয়্যত থাকবে ততদিন; যতদিন আল্লাহ তা’আলা চাইবেন, এরপর যখন তিনি চাইবেন  তখন তুলে নিবেন। এরপর নবুয়তের পদ্ধতি অনুযায়ী খেলাফত পরিচালিত হবে এবং আল্লাহ তা’আলা যতদিন চাইবেন ততদিন তা থাকবে।  এরপর এটাও তুলে নিবেন যখন চাইবেন। এরপর রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ইহা ততদিন থাকবে যতদিন আল্লাহ তা’আলা চাইবেন। এরপর এটাও তুলে নিবেন যখন চাইবেন। এরপর আসবে জুলুমতন্ত্র এবং যতদিন আল্লাহ তা’আলা চাইবেন ততদিন তা থাকবে এবং ইহাও তুলে নিবেন যখন চাইবেন। অতঃপর প্রতিষ্ঠিত হবে নবুয়তের পদ্ধতি অনুযায়ী খেলাফত, অতঃপর তিনি নীরব হয়ে গেলেন।”
আধুনিক বিশ্বে মুসলমানগণ পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী নির্যাতিত নিষ্পেষিত, নিগৃহীত, অত্যাচারিত, অবহেলিত, আর তার কারণ হলো মুসলমানগণ দুনিয়াকে প্রাধান্য দিয়েছে আর পরকালের জবাবদিহিতা ভুলেই গিয়েছে মনে হচ্ছে। এ বিষয়ে ও রাসূল (সা.) এর ভবিষ্যদ্বাণী বিদ্যমান যেমন, ছাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা.) বলেন-“তোমাদের প্রতি শত্রুরা এমনভাবে ধাবিত হবে যেমনভাবে ক্ষুধার্ত খাবারের প্রতি ধাবিত হয়, তখন একজন সাহাবী বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সা.) তখন কি আমরা সংখ্যায় কম হব? জবাবে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন না বরং বেশী হবে; তবে তোমরা পানিতে ভাসমান খড়কুটার মত হবে। আল্লাহ তা’আলা তোমাদের শত্রুদের অন্তর থেকে তোমাদের ভয়-ভীতি দূর করে নিবেন এবং তোমাদের অন্তরে ওহন ঢুকিয়ে দিবেন তখন সাহাবী বললেন ওহন কি ইয়া রাসূলুল্লাহ (সা.)? জবাবে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, ওহন হচ্ছে দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা।”
 আধুনিক বিশ্বে মুসলমানদের নৈতিকতার চরম বিপর্যয় পরিলক্ষিত হচ্ছে। তারা নারী, বাড়ী ও মদ নিয়ে ব্যস্ত। আর এগুলো গোটা মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমানদের গ্রাস করে ফেলছে। অশ্লিলতার সয়লাব, ওজনে কম দেয়া, মানব রচিত শাসন ব্যবস্থা বিদ্যমান যা রাসূল (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণীর বাস্তব চিত্র পরিলক্ষিত হয় যেমন ইবনে ওমর (রা.) বলেন রাসূল (সা.) বলেছেন- “হে মুহাজিরগণ পাঁচটি কর্ম যদি তোমাদের মধ্যে দেখা দেয় তাহলে তা হবে তোমাদের জন্য কঠিনতম বিপদ, আর আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যেন তোমাদের মধ্যে এগুলো দেখা না দেয়।
যখন কোন সম্প্রদায়ের মধ্যে অশ্লীলতা এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ে যে, তারা প্রকাশ্যে অশ্লীলতায় লিপ্ত হতে থাকে, তখন তাদের মধ্যে এমন সব রোগ-ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে যা তাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে প্রসারিত ছিল না।
যখন কোন সম্প্রদায়ের মানুষেরা ওজনে কম বা ভেজাল দিতে থাকে তখন তারা দুর্ভিক্ষ, জীবন যাত্রার কাঠিন্য ও প্রশাসনের বা ক্ষমতাশীলদের অত্যাচারের শিকার হয়।
যদি কোন সম্প্রদায়ের মানুষেরা যাকাত প্রদান না করে তাহলে তারা অনাবৃষ্টির শিকার হয়। যদি পশু-পাখি না থাকত তাহলে তারা বৃষ্টি থেকে একেবারেই বঞ্চিত হত।
যখন কোন সম্প্রদায়ের মানুষ আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের ওয়াদা বা আলাহর নামে প্রদত্ত ওয়াদা ভঙ্গ করে, তখন আলাহ তাদের কোন বিজাতীয় শত্রুকে তাদের উপর ক্ষমতাবান করে দেন, যারা তাদের কিছু সম্পদ নিয়ে যায়।
আর যদি কোন সম্প্রদায়ের শাসকবর্গ ও নেতাগণ আল্লাহর কিতাব (পবিত্র কুরআন) অনুযায়ী বিচার শাসন না করেন এবং আল্লাহর বিধানের সঠিক ও ন্যায়ানুগ প্রয়োগের জন্য সাধ্যমত চেষ্টা না করে, তখন আল্লাহ তাদের মধ্যে পরস্পর শত্রুতা ও মতবিরোধ সৃষ্টি করে দেন, তারা তাদের বীরত্ব একে অপরকে দেখাতে থাকে।”
বিশ্বে মুসলিম ধনপতিদের সংখ্যা কম নয়, ধনী মুসলিম রাষ্ট্র ও কম নয়। কোটি কোটি ডলারের মালিক তারা। তাদের অর্থ ইউরোপ-আমেরিকার ব্যাংকে জমা করে খ্রিষ্টানদের সেবাদান হচ্ছে, তাঁরা মুসলমানদের ঈমান ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে আর ধনশালী মুসলমান ব্যক্তিবর্গ ও রাষ্ট্র সমূহ গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন রয়েছেন। এ বিষয়ে ও রাসূল (সা.) ভবিষ্যদ্বাণী প্রদান করেছেন। ইমাম বুখারী ও মুসলিম (রা.) আমর ইবন আউফ (রা.) হতে বর্ণনা করেন রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন : “আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের দারিদ্র্যতার আশংকা করিনা কিন্তু তোমাদের উপর দুনিয়ার ঐশ্বর্য সম্প্রসারিত হওয়ার আশংকা করছি যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর হয়েছিল। বরং তোমরা পরস্পর অহমবোধে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে এবং তোমাদেরকে ধ্বংস করবে যেমন তাদেরকে ধ্বংস করেছিল।”
বর্তমান বিশ্বে মুসলমানগণ মদের ব্যবস্থা ও মদ পানকে স্বাভাবিক মনে করছে। মুসলমান পরস্পর পরস্পরকে শত্রু মনে করছে। অমুসলিমদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করছে অথচ আল্লাহ তা‘আলা ঘোষণা করেছেন- “ঈমানদার ব্যক্তিরা ঈমানদারদের বদলে অবিশ্বাসী কাফেরদের নিজেদের বন্ধু বানাবে না।”
আর এ সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণী ও রাসূল (সা.) উল্লেখ করেছেন তালহা নাদারী হতে বর্ণিত রাসূল (সা.) বলেন- “সম্ভবত তোমাদেরকে এমন একটি সময় পেয়ে বসবে যে, তোমাদের কেউ কেউ ‘মদের’ পেয়ালা হাতে রাখবে আর তা নিয়েই অন্যত্র যাবে আর তোমরা ক্বাবার পর্দার ন্যায় কাপড় পরবে তাঁরা (সাহাবীর (রা.) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা.) আমরা কি এখন ভাল আছি নাকি ঐ সময় ভাল থাকবো? তিনি (সা.) এরশাদ করলেন, বরং তোমরা এখনই ভাল আছ, তোমরা এখন পরস্পরকে ভালবাস আর ঐসময় তোমরা পরস্পরকে শত্রু মনে করবে, একে অন্যের সাথে লড়াই করবে।” 
পরিশেষে বলতে পারি যে, পৃথিবীতে প্রায় ১৫০ কোটি জনশক্তি মুসলিম। বিশ্বের তেল, রাবার, স্বর্ণসহ অর্থনৈতিক বিরাট শক্তি মুসলিম বিশ্বের হাতে। মুসলিম বিশ্বের তেল বন্ধ হয়ে গেলে পাশ্চাত্যের গাড়ীর চাবি বন্ধ হয়ে যাবে। পাশ্চাত্যের ব্যাংক থেকে মুসলিম বিশ্বের টাকা উঠিয়ে নিলে তাদের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে যাবে। মুসলিম বিশ্বের রয়েছে সুসজ্জিত সেনাবাহিনী। ইরান, পাকিস্তান, ইরাক আধুনিক সমরাস্ত্র তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। বিগত শতাব্দীতে জেগে উঠেছে অনেকগুলো মুসলিম রাষ্ট্র এবং তাদের হাতেও রয়েছে আধুনিক সভ্যতার চাবিকাঠি। তুরষ্কে রয়েছে শক্তিশালী সেনাবাহিনী। আফগানিস্থানে রয়েছে মুজাহিদ বাহিনী, পাকিস্তান, মিশর, সিরিয়া, তুরষ্ক, লিবিয়া, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়াসহ অনেক দেশসমূহে মুসলিম সেনাবাহিনী।
আফগান, বসনিয়া, চেচনিয়া, ইরান, ইরাক প্রভৃতি দেশে গড়ে উঠেছে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়তে যেয়ে এক দুর্জয় সাহসী যোদ্ধাবাহিনী। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য মুসলিম বিশ্ব আজ শতধা বিভক্ত। অতএব মুসলিম বিশ্বের উচিত সকল ত্রুটিবিচ্ছুতির জন্য তাওবা করা। নিজেদের সংশোধন করে নেয়া, আল্লাহর দ্বীনকে ঐক্যবদ্ধভাবে আকড়ে ধরা। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দ্বীনকে ধারণ করা এবং মুমিনগণ পরস্পর পরস্পরের সঙ্গী হওয়া। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা বলেন-“তবে যারা তাওবা করবে এবং নিজেদের সংশোধন করে নেবে ও আল্লাহর রজ্জুকে (দ্বীনকে) শক্ত করে ধারণ করবে এবং একমাত্র আল্লাহর জন্যেই নিজেদের দ্বীনকে খালেস করে নেবে, এমন লোকই মুমিনদের সঙ্গী হবে। আল্লাহ মুমিনদেরকে অবশ্যই বিরাট পুরষ্কার দান করবেন।”
আধুনিক বিশ্ব সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণীর বাস্তবতা
আধুনিক বিশ্ব সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বাণীর বাস্তবতা : বস্তু জগতের তথ্য উদঘাটনে বিশ্ববাসী আজ অনেক দূর অগ্রসর হতে পেরেছেন। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সফল প্রয়োগে তারা অসাধ্যকে সাধন করেছে যা দেখে বিশ্ব বিবেক স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে। সারাটি বিশ্বই যেন আজ বিজ্ঞানাগারে পরিণত হয়েছে।
জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা-সভ্যতা ও প্রযুক্তির এত বিকাশ সত্ত্বেও বিশ্ব মানবের সেই আদি স্বভাব ও পশুপ্রবৃত্তিগুলির যেন তেমন কোন পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
অগনিত মানুষ আজ হিংস্র হায়েনাতে পরিণত হতে যাচ্ছে। শঠতা, কপটতা ও হিংসা বিদ্বেষে মানুষের মন মেজাজ হয়েছে একেবারে ঈর্ষা কাতর। প্রতিহিংসার আগুনে জ্বলছে মানব জাতি। সারাটি বিশ্ব আজ পরিণত হয়েছে জ্যান্ত বারুদাগারে যেন অগ্নিষ্ফুলিঙ্গের সামান্য একটু টোকা পেলেই ঘটবে প্রলয়কান্ড।
সাড়ে চৌদ্দশত বছর পূর্বে আধুনিক বিশ্ব সম্পর্কে মহানবী (সা.) যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তার বাস্তবরূপ পরিলক্ষিত হচ্ছে, যেমন-
যানবাহন প্রযুক্তি : আধুনিক বিশ্বে সবচেয়ে বেশী অগ্রসর হয়েছে যানবাহন প্রযুক্তি। পূর্বেকার যুগে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে মাসের পর মাস লেগে যেত। আজকের বিশ্বে দ্রুতগামী বিমান, রেল গাড়ী ও রকেটের মাধ্যমে স্বল্প সময়েই তা সম্ভব হচ্ছে আর এই সময় ছোট হয়ে আসবে সংক্রান্ত রাসূল (সা.) এর ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে, যেমন আনাস ইবনে মালেক (রা.)  থেকে বর্ণিত রাসূল (সা.) বলেছেন-“সময় সঙ্কুচিত হবার আগে কিয়ামত আসবেনা, বছরকে মনে হবে মাসের মত, মাস হবে সপ্তাহের মত, সপ্তাহ দিনের মত, দিন ঘন্টার মত এবং ঘন্টাকে মনে হবে একটা স্ফুলিঙ্গের মতো।
তাছাড়া আল্লাহ তা‘আলা বলেন- “এবং আরোহন ও জাঁকজমকের ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা তদুপরি তিনি এমন সব বস্তু সৃষ্টি করেছেন যাদের সম্মন্ধে তোমরা জাননা।”
আলোচ্য আয়াত ও হাদীসের আলোকে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের উদাহরণ নেয়া যায়। পূর্বে যে কাজটি করতে সপ্তাহ লাগতো এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডে সে কাজ হচ্ছে। যে চিঠি পৌঁছতে আগে মাসের পর মাস লেগে যেত, সেখানে ফ্যাক্স, ই-মেইল, মোবাইল ম্যাসেজ ও ফেইস বুকের মাধ্যমে চোখের পলকে পৌঁছে যাচ্ছে। কয়েক শতাব্দী আগে মাত্র একখানা বই লিখতে যে সময় লাগতো, এখন কম্পিউটার এর লক্ষ-লক্ষ বই প্রকাশিত হচ্ছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সারা বিশ্বের বাণিজ্য এখন হাতের মুঠোয়।
যোগাযোগ প্রযুক্তি : মহানবী (সা.) তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীর মাধ্যম যেসব অপার রহস্যের কথা উল্লেখ করেছেন, আধুনিক বিশ্বের যোগাযোগ ব্যবস্থা তার অন্যতম। যেমন আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন-“কিয়ামত কায়েম হবে যতক্ষণনা জানোয়ার মানুষের সাথে কথা বলবে এবং মানুষের চাবুকের অগ্রভাগ এবং জুতার ফিতা তাঁর সাথে কথা বলবে এবং তাঁর উরু তাকে সংবাদ দিবে তার অবর্তমানে তার ঘরের লোকেরা  এই কাজ করেছে”।
আজকাল অনেক দেশে অপরাধীকে চিহ্নিত করার জন্য জানোয়ার ব্যবহার  করা হয় এবং সেভাবে মানুষ তাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে লাগায়।
কথা বলার যে যন্ত্রটি চাবুকের আকৃতির সঙ্গে তুলনীয় সেটা হলো  সেল ফোন বা স্যাটেলাইট টেলিফোন। পেন ড্রাইভ, ডিভাইজ, ওয়াকীটকি, অত্যন্ত আধুনিক উদ্ভাবন।
জুতার ফিতার সাথে কথা বলবে তা হলো বর্তমান বিশ্বের উন্নত দেশ সমূহে যেমন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন দেশে পুলিশের ওয়ার্লেস জুতার ফিতার সাথে সংযোগ করে গোয়েন্দাগিরির জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে।
আধুনিক বিশ্বে সম্পদের প্রাচুর্যতা, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে ব্যবসা বাণিজ্য প্রচুর বৃদ্ধি পেয়েছে। আর ব্যবসার ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট তৈরী করে মাল রিজার্ভ রেখে দাম বৃদ্ধি করা হয়। এ বিষয়ে ও রাসূল (সা.) এর ভবিষ্যদ্বাণী পাওয়া যায়, যেমন আমর ইবনে তাগলীব (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা.) বলেন- “নিশ্চয় কিয়ামতের (অন্যতম) নিদর্শন হলো ধনসম্পদ প্রচুর হবে এবং বিস্তৃৃৃতি লাভ করবে। এবং ব্যবসা বাণিজ্য বৃদ্ধিপাবে এব তার বিক্রয়পণ্য বিক্রি করবে (কিন্তু) সে বলবে (না দিতে পারবনা।) যতক্ষণনা অমুক বণিকের ছেলে থেকে অনুমতি না পাব এবং বৃহৎ জনপদে একজন লিখক অন্বেষণ করা হবে। কিন্তু (সবাই ব্যবসায় থাকবে) পাওয়া যাবে না”।
সামাজিক অবক্ষয় : মহানবী (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণীর আলোকে আধুনিক বিশ্বে যে সমস্ত বিষয়াবলীর বাস্তবায়ন হচ্ছে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী সামাজিক অবক্ষয় কেন্দ্রীক ভবিষ্যদ্বাণী পরিলক্ষিত হচ্ছে।
সামাজিক অবক্ষয় বলতে ব্যক্তি ও সমাজের মানুষের নৈতিক পদস্খলন বুঝানো হয়েছে, যেমন রাসূল (সা.) এরশাদ করেছেন-  “ক্বিয়ামত কায়েম হবে না যতক্ষণ না মানুষ জানোয়ারের মত রাস্তার মধ্যে যৌনকর্ম সম্পন্ন করবে।” আজকের বিশ্বের এমন কোন দেশ নেই যেখানে প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে অবৈধ যৌনকর্ম সম্পন্ন হচ্ছে না। ফ্রি সেক্সের দেশগুলোতে কোন প্রতিবন্ধকতা নেই। মুসলিম দেশ গুলোতে একটু আড়াল করে প্রায়ই এ সমস্ত কাজ সম্পাদন হচ্ছে।
বর্তমান বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে সমকামী বিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত। এ বিষয়ে মহানবী (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী হলো যে,
“ক্বিয়ামতের আলামত হলো পুরুষ পুরুষের সাথে আর নারী-নারীর সাথে সমকামে লিপ্ত হবে।”
আলোচ্য ভবিষ্যদ্বাণীর বাস্তবায়ন স্বরূপ দেখা যায় আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরুষ পুরুষে সমমৈথুনের কাজকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বৈধ করার জন্য এক সেমিনার হয় এবং হোয়াইট হাউজের সামনে মিছিল করে এ কাজকে সাংবিধানিকভাবে বৈধ করার দাবী জানানো হয় এবং ক্যালিফোর্নিয়ার এক গীর্জায় পুরুষ পুরুষে বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়। তেমনি ফ্রান্সে Lona Ambolom (২৩ বছর) ও Abrin Landa (২৫ বছর) দুই মহিলা একে অপরকে বিবাহ করে এক বিবৃতি প্রদান করে। তারা বলে আমরা আশা করি আগামী দিনে মানুষ এ ধরণের বিবাহকে গ্রহণ করবে।
পাশ্চাত্য সভ্যতা আজ পশুত্বের পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমেরিকার প্রায় ২০ মিলিয়ন লোক সমমৈথুনের কাজ করে। যে কারণে আজ সেসব দেশে এইডস এর মত মারাত্মক রোগ সৃষ্টি হয়েছে। এইডসে বিশ্বে ১ কোটি ৪০ লাখ লোক মারা গেছে। তাদের মধ্যে ১ কোটি ১০ লাখ আফ্রিকায়, এর এক চতুর্থাংশ শিশু। ১৯৯৯ সালে আফ্রিকায় ২০ লাখ নারী পুরুষ ও শিশু মারা যায়। প্রতিদিন  এ রোগে ৫  হাজার লোক মারা যাচ্ছে। বিশ্বে প্রতিদিন ৭ হাজারের বেশী তরুণ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ফ্রান্সে ১৮ ও ২১ বৎসরের যুবক-যুবতীগণের সমমৈথুনের কাজ করা সাংবিধানিকভাবে বৈধ।
বিগত ১০ মে ‘২০১২ইং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন সমকামী দম্পতিরা চাইলে বিয়ে করতেই পারেন। তিনি আরো বলেন তার সরকার দেশের সমকামী নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আমেরিকার সেনাবাহিনীতে সমকামীদের জন্য করা ডোল্ট আসক, ডোল্ট টেল’ পলিসির কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
আধুনিক বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে মানুষ থেকে কুকুরকে বেশী সম্মান করা হয় এ বিষয়ে রাসূল (সা.) এর ভবিষ্যদ্বাণী হলো- “মানুষ কুকুরের বাচ্চা পালন করাকে উত্তম মনে করবে, আর মানব সন্তান পালন করতে অনীহা প্রকাশ করবে এবং বড়দেরকে সম্মান করবেনা। ছোটদেরকে স্নেহ করবে না।”
আজ উন্নত দেশসমূহে কোটি কোটি বিলিয়ন টাকা খরচ হচ্ছে কুকুর পালনের পিছনে অথচ পৃথিবীর লাখ লাখ বনি আদম এক মুষ্টি খাদ্যের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছে। এমনিভাবে বাংলাদেশে কিছু কিছু লোক প্রতি মাসে কুকুর পালনের পিছনে হাজার হাজার টাকা খরচ করে অথচ কত বনি আদম রাস্তার পাশে না খেয়ে পড়ে আছে তাদের খোঁজ কেউ রাখে না।           
সামাজিক অবক্ষয়ের মধ্যে অন্যতম হলো আজকের বিশ্বে যিনা ও মদপান বেড়ে গিয়েছে, এ বিষয়ে রাসূল (সা.) এর ভবিষ্যদ্বাণী হলো আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল (সা.) বলেছেন-“কিয়ামতের অন্যতম আলামত হলো ইল্ম উঠে যাবে মূর্খতা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মদপান ও যিনা প্রকাশ্যে হতে থাকবে”।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অপরাধ প্রশমন কেন্দ্র কর্তৃক প্রস্তুত “সার্বজনিন অপরাধ ও বিচার” নামক বিশ্লেষণটিতে পৃথিবীময় অপরাধের সাধারণ চিত্র তুলে ধরা হলো:
 পৃথিবী ব্যাপি সমীক্ষায় দেখা যায়: বড় শহরের অধিবাসীদের দুই-তৃতীয়াংশ প্রতি পাঁচ বছর অন্তত একবার কোন অপরাধের শিকার হয়েছে।
পৃথিবীময় প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন কোন বড় ধরণের অপরাধে (ডাকাতি, যৌন অবিচার, শারীরিক আক্রমণ) জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা।
 স্থান ও দেশ নির্বিশেষে যুব সমাজ কর্তৃক সংঘটিত সম্পত্তি বা উগ্রতাজনিত অপরাধের সঙ্গে অর্থনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
 মাদক দ্রব্যাদির প্রকার ও ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে।
১৯৮৯ সালের এক সমীক্ষায় দেখা যায় সে বছর শুধুমাত্র আমেরিকায় ছয় লাখ অবৈধ সন্তান জন্ম হয়েছে। এসব অবৈধ সন্তানদের লালন পালনে বছরে ৭ শত-কোটি ডলার ব্যয় করতে হয় আমেরিকান সরকারকে। ১৯৭৬ সালের এক জরিপে প্রকাশ, লন্ডনের মাধ্যমিক স্কুলগামী ১২-১৪ বছর বয়সের একহাজার বালিকার মধ্যে একজন ও সতীত্ব আছে বলে স্বীকার করেনি। ইটালীতে প্রতি ৩ ঘন্টায় একজন মেয়ে সতীত্ব হারাচ্ছে। ফ্রান্সে প্রতি রাতে ১০ হাজার নারী ৪০ হাজার পুরুষকে যৌন সাহচর্য দিয়ে থাকে। (চলবে)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ