ঢাকা, রোববার 1 April 2018, ১৮ চৈত্র ১৪২৪, ১৩ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইসলাম জঙ্গিবাদ সাম্প্রদায়িকতার নির্মূল চায়

আলাউদ্দিন ইমামী : শুরুর কথা : দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত মিডিয়া ও মানুষেরা ইসলাম কি তা জানেনা। ফলে তারা শত্রুদের চক্রান্তে বিভ্রান্ত হয়। তারা মনে করে দাড়ি, টুপি আর কিছু এবাদত বন্দেগীর নাম ইসলাম। অমুসলিমদের বিরুদ্ধে বলাবলি, লেখালেখি ও বয়ান করার নাম ইসলাম। আর মনে করে, অমুসলমান হলেই তারা ইসলাম ও মুসলমানদের শত্রু। এমন কি অনেক নামাজী কালামী অজ্ঞ মুসলমানও ইসলামী জ্ঞান না থাকার কারণে এমন ভুল ধারনায় বিভ্রান্ত। অথচ আল্লাহ বলেন, ধর্মের ব্যাপারে যারা তোমাদের সাথে লড়াই করেনি (করেনা) এবং তোমাদেরকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয় নি (দেয়না) তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করতে এবং তাদের প্রতি ইনছাফ পূর্ণ আচরণ করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেনা। আল কোরআন। সূরায়ে মুমতাহেনা। আয়াত নং-৮। এই বিভ্রান্তি থেকে উম্মতকে বাচানোর জন্যই মানবতার নবী (সাঃ) মুসলমান নারী পুরুষের জন্য ইসলামী জ্ঞান অর্জন ফরজ ঘোষণা করে বলেছিলেন, “প্রতিটি মুসলমান নর ও নারীর জন্য (কোরআনিক ইসলামিক) জ্ঞান অর্জন করা ফরজ।” আল-হাদীস। কোরআনিক ইসলামি এই জ্ঞান শিক্ষা না থাকার কারণেই আজ জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার। এর জন্য দায়ী মুসলমান রাজনৈতিক নেতারা। পীর মাশায়েখ, আলেম ওলামা এবং ধর্মীয় নেতারাও দায়ী। তারা জনগণ ও ছাত্র সমাজকে সঠিক ইসলামী জ্ঞান না দেয়ার কারণে জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার কাজে তাদেরকে ব্যবহার করা যাচ্ছে। ইসলাম এই জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার নিমূর্ল চায়। বলতে কি ইসলামের আগমণও জঙ্গিবাদ সাম্প্রদায়িকতার মূল্যোৎগাটনের জন্য। ইসলামের শত্রুরা তা বুঝেও না বুঝার ভান করে, ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতি করার জন্য।
ইসলাম কি : ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত, জঙ্গিবাদ সাম্প্রদায়িকতা ও সন্ত্রাস বিরোধী ধর্ম ও রাজনীতি সমৃদ্ধ একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনাদর্শের নাম। আল্লাহ বলেন, “আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম।” আল কোরআন। কোরআন এর বিধিবদ্ব সংবিধান। মানবতার কল্যাণ সাধনই ইসলাম ও মুসলমানের উদ্দেশ্য। আল্লাহ বলেন, “তোমরাই সর্বোত্তম জাতি মানুষের কল্যাণের জন্যই তোমাদের সৃষ্টি।” আলকোরআন। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠাই এর লক্ষ্য। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকল শান্তি প্রিয় মানুষকে মানুষের প্রভুত্ব থেকে মুক্ত করে, সংঘাত, সংঘর্ষ, জুলুম, অত্যাচার এবং শোষন লাঞ্ছনা থেকে রক্ষা করার জন্য কোরআন সম্মত ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই এর কর্মকৌশল। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্যই এর সকল জেহাদ। সকল শ্রেনীর সব ধর্মের সকল মানুষের জন্য সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ার প্রচেষ্টাই হল এর কেন্দ্রীয় বিষয়। এর পরও ইসলাম বিদ্বেষী স্বার্থপর ও বিভ্রান্ত কিছু মানুষ উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে রাজনীতি ও মিডিয়াকে ব্যবহার করে এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালায়। বাস্তবতা কিন্তু এর সম্পূর্ণ বিপরীত। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ গুলোতে, এমন কি ইসলামের সুতিকাগার মক্কা মদীনায়ও অমুসলিমদের নিরাপদ জীবন যাপন, এর বাস্তব প্রমাণ। কোন মুসলিম দেশে কি অমুসলিমরা, বার্মার, ভারতের, চীনের, ইসরাইলের, সংখ্যালঘু মুসলমানদের মত বিপদে আছে? বাংলাদেশে বিচ্ছিন্ন যা কিছু হয় তা ঈমান ও চরিত্রহীনতার এবং ইসলাম বিরোধী চক্রান্তের ফল। তাই ইসলাম জঙ্গিবাদ ও সাম্পদায়িকতার নির্মূল চায়। ইসলাম, ইসলামের শত্রু এবং তাদের চক্রান্ত সম্পর্কে মুসলিম উম্মাহ এবং নতুন প্রজন্মকে সতর্ক করতে চায়। ইহাই শত্রুদের অসহ্য এই কারণে তাঁরা তাই মিডিয়া ও রাজনীতিকে ব্যবহার করে ইসলাম, ইসলামী জেহাদ ও আলেম ওলামাদের বিরুদ্ধে অপ প্রচার চালায়।
ইসলামের দৃষ্টিতে জেহাদ কি : জুহদুন থেকে জেহাদ। জেহাদ মানে, তদবীর করা। চেষ্টা করা। সংগ্রাম করা। অত্যাচার, পাপাচার, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূল, সামাজিক শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী এবং ইসলাম, মুসলমান, মুসলমানের দেশ ও মানবতার জন্য ক্ষতিকর কাজ বন্ধ করার জন্য আন্দোলন, সংগ্রাম করার নামই হল জেহাদ। আল্লাহ বলেন, “তোমরা আল্লাহর পথে জেহাদের দাবী অনুযায়ী জেহাদ কর।” আল কোরআন। নির্যাতীত মানবতার জন্য জেহাদ করার নামই হলো আল্লাহর পথে জেহাদ।  আল কোরআন ছূরায়ে  নিছা, আয়াত নং-৭৫। ইসলাম বিরোধী কাজ ও গুণাহ থেকে নিজে বাঁচা এবং অন্যকে বাঁচানো, দেশ, ধর্ম ও মানুষকে অশান্তি এবং ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য চেষ্টা করার নাম ও জেহাদ। এই জেহাদ কেয়ামত পর্যন্ত চলবে। এ দায়িত্ব পালনের পথে কেউ অন্তরায় হলে তাদের দমন করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার নামও জেহাদ। এই জেহাদকেই ইসলামের শত্রুরা যত ভয় করে। এই জন্য তারা জেহাদকে জঙ্গিবাদ বানিয়ে, মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য জিহাদ বিরোধী অপপ্রচার চালায়।
ইসলামের দৃষ্টিতে জঙ্গিবাদ : প্রচলিত জঙ্গিবাদ সম্পূর্ণ হারাম। জঙ্গিবাদ মানে নিরিহ মানুষ হত্যা। এমনকি কোন অপরাধী মানুষও যদি হয় তাকেও বিনা বিচারে হত্যা করা নাজায়েজ। কেউ যদি খুনও করে তাকে খুন করতে হলে, তাও আদালতের মাধ্যমে ন্যায় বিচারের ভিত্তিতে করতে হবে। বিচারের নামে প্রহসন করে, জিদ অথবা হিংসার বশবর্তী হয়ে যেনতেন ভাবে কাউকে হত্যা করা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম ও না জায়েজ। কেউ যদি ইসলামের দোহাই দিয়ে, অন্যায় ভাবে ইসলামের কোন শত্রুকেও হত্যা করে তাও হারাম। কারণ এমন একটি হারাম কাজ আর ১০টি হারাম কাজের জন্ম দিবে। সমাজে অশান্তি ও বিশৃৃংখলা সৃষ্টি করবে। অন্যায় ভাবে ইসলামের নামে মানুষের জান মাল ও ইজ্জত সম্মানের ক্ষতি করা হারাম। তারা যদি অমুসলিমও হয়। অমুসলমানদের বাড়ীঘর দোকানপাট এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা করাও হারাম ও নাজায়েজ। ইসলামের দৃষ্টিতে ইহাই জঙ্গিবাদ। আল্লাহ বলেন, “এক জনের হত্যার বদলা ছাড়া যদি কেউ কাউকে হত্যা করে তা হলে সে যেন সকল মানুষকে হত্যা করল।” আল কোরআন।
শত্রুদের দৃষ্টিতে জঙ্গিবাদ : ইসলামের শত্রুদের দৃষ্টিতে ইসলামী জেহাদই জঙ্গিবাদ। কারণ এই জেহাদ তাদের জন্য বিপদ। তাদের লক্ষ্য অর্জনে বাধা। তারা চায় মুসলমান সমাজ অন্যায় পাপাচারে ডুবে থাক। তাদের নতুন প্রজন্ম মেধাহীন ও চরিত্রহীন হোক। মুসলমান যুবক যুবতিরা দুর্নীতিবাজ হোক এবং তাদেরকে বন্ধু ও অভিভাবক বানিয়ে তাদের ইচ্ছা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করুক। জেহাদ এই  সব কাজে এবং এ ভাবে চলতে বাধার সৃষ্টি করে, তাই ইসলামের শত্রু কিছু ইহুদী, খৃষ্টান, মুশরেক ও নাস্তিক, তারা নিজেরা এবং তাদের অনুসারি ও মিডিয়াকে ব্যবহার করে ইসলামী জেহাদকে জঙ্গিবাদ, কোরআন সুন্নাহর আলোকে লেখা ইসলামী বইকে জঙ্গি বই বলে অপপ্রচার চালিয়ে ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ সাধারণ মুসলমানকে বিভ্রান্ত করে ইসলামের ক্ষতি করার পথ আর প্রসস্থ করতে চায়। যাদের কাছে ইসলামী বই পাওয়া যায় তাদেরকে জঙ্গি বানিয়ে মিথ্যা খবর প্রচার করে। অথচ দেশে বিদেশে যারা রাত দিন প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে মানুষ খুনে লিপ্ত তাদেরকে জঙ্গি বলে না। এরা আসলে জঙ্গিবাদী জিগির তুলে ইসলামী জিহাদকেই নির্মূল করতে চায়। অথচ আল্লাহর নবী (সাঃ) বলেন, জেহাদ কেয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে। আল হাদীস।
ইসলামের দৃষ্টিতে সাম্প্রদায়িকতা : অমুসলিমদের উপর এবং তাদের ধর্মীয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর হামলা করা সাম্প্রদায়িকতা। অমুসলমানদের জানমাল ইজ্জত সম্মানের ক্ষতি করা, তাদের ধর্ম, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় ব্যক্তিদের ক্ষতি করা, তাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা বিদ্বেষ ছড়ানো, তাদের বিরুদ্ধে উষ্কানী দিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করার জন্য সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দেয়া সাম্প্রদায়িকতা। আর এই সাম্প্রদায়িকতা ইসলামের সম্পূর্ণ হারাম। বরং ইসলাম সকল বিপদে তাদের পাশে থাকতে এবং সকল দুঃখ মুছিবত থেকে তাদেরকে রক্ষা করতে বলে। এমনকি কোন মুসলমানও যদি তাদের অনিষ্ঠ করে তখন সেই মুসলমানকে প্রতিরোধ করা প্রকৃত মুসলমানদের দায়িত্ব। আল্লাহর নবী (সাঃ) বলেন, মানুষের কল্যাণ কামনা করাই হল দ্বীনদারী। আল হাদীস। তাদেরকে প্রয়োজনে সকল মানবিক সাহায্য প্রদান করা এবং মুসলমান দেশে তাদেরকে স্বাধীন ভাবে ধর্ম পালন করতে দেয়া মুসলমানদের প্রতি ইসলামের নির্দেশ। আল্লাহর নবী বলেন, মুসলমান দেশে কোন মুসলমান যদি অমুসলনমানকে কষ্ট দে, তার নায্য পাওনা না দে, আমি ঐ অমুসলমানের পক্ষে আল্লাহর আদালতে বিচার দায়ের করব। নাউযুবিল্লাহ। এর পরও কিছু চক্রান্তকারী ইসলামকে সাম্প্রদায়িক ধর্ম এবং মুসলমানকে সাম্প্রদায়িক জাতির অপবাদ দিয়ে নিজেদের সাম্প্রদায়িক কর্ম কান্ডকে ধামা চাপা দিতে চায়। তারা আর বলে, বাংলাদেশে নাকি সাম্প্রদায়িকতা বেড়ে গেছে। সরকারী তথ্য অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে অমুসলিম যদি ১১% হয় তারা সরকারীঢ চাকুরীতে কত পারসেন্ট্ আছে এবং কি রকম পদে আছে চিন্তা করে দেখ বলা উচিত। সাম্প্রদায়িকতা বৃদ্ধি পেয়েছে, নাকি সম্প্রীতি বৃদ্ধি পেয়েছে?
শত্রুদের দৃষ্টিতে সাম্প্রদায়িকতা : মুসলমানদের ইমান, চরিত্র, জাতীয়তাবোধের হেফাজত এবং ইসলামের শত্রুদের অনিষ্ঠ ও চক্রান্ত থেকে ইসলাম, মুসলমান ও মুসলমান দেশকে রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন মুখী যে প্রচেষ্টা চালানো হয় ইসলামের শত্রুদের দৃষ্টিতে তাই সাম্প্রদায়িকতা। যেমন বাংলাদেশের মানুষ ৮৫% মুসলমান হওয়ার কারণে সংখ্যা গুরু আর সংখ্যালঘু শব্দ ব্যবহার করলে, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশীর ভাগ ছাত্রছাত্রী মুসলমান হওয়ার কারণে সেখানে কোরআন ও ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার কথা বললে, ছোট শিশুদেরকে অ- তে অজু, ঈ- তে ঈদ শিখালে, মুসলমান এবং মুসলমান দেশের ক্ষতি সাধনকারী এবং নবী অলীদের কাজে বাধা সৃষ্টিকারী অমুসলিমদের অপকর্মের ইতিহাস মুসলমানদেরকে সতর্ক ও সাবধান করার জন্য বক্তৃতা অথবা লেখনির মাধ্যমে তুলে ধরলে, অথবা কোরআন হাদীসের আলোকে ইসলাম ও মুসলমানের ক্ষতি সাধনকারীদের পরিচয়, মিডিয়া অথবা পাঠ্য বইয়ের মাধ্যমে তুলে ধরলে, তখন ইসলামের শত্রুরা এটাকে সাম্প্রদায়িকতা বলে অপপ্রচার চালায়। যেন মুসলিম জনগণ এবং নতুন প্রজন্ম ইসলামের শত্রুদের অতীত কারসাজি সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে এবং তাদের ভবিষ্যত শয়তানি সম্পর্কে সচেতন হতে না পারে। এ ব্যাপারে ইহুদী প্রভাবিত বিশ্ব মিডিয়া এবং নাস্তিক ও মুনাফিক মহল তাদের বড় সাহায্যকারী হাতিয়ার।
ইসলামের শত্রু কারা : ইসলাম হচ্ছে অমুসলিমদের শুভাকাঙ্খি ও কল্যাণকামী। কারণ আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলেছেন, “মানুষের কল্যাণ কামনা করাই হল দ্বীনদারী”  আলহাদীস। অমুসলিম সাধারণ জনগণ, ইসলাম ও মুসলমানের শত্রু নয়। ইসলাম এবং প্রকৃত মুসলমান যারা তারা এদেরকে শত্রু মনে করে না। ইসলাম ও মুসলমানের শত্রু হচ্ছে ঐ সব ইহুদী, মুশরেক ও নাছারাগণ যারা ইচ্ছাকৃত ভাবে ইসলাম, মুসলমান ও মুসলিম দেশের এবং মুসলমানদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করে। যারা ক্ষতি কামনা করে। যারা ক্ষতি করতে চায় তাদের সহযোগীতা করে। এদের ব্যপারে আল্লাহ বলেন,“এরা তোমাদের যাহাতে ক্ষতি হয় তাহা কামনা করে।” “এরা মুখে যা প্রকাশ করে তার চাইতে অন্তরে যা গোপন রাখে তা আর খারাপ।” “এরা তোমাদের ক্ষতি করার জন্য হাত ও মুখ ব্যবহার করবে।” “তোমরাও তাদের মত কাফের হয়ে যাও, ইহাই তাদের চাওয়া।” “তোমরা এদের অনিষ্ট থেকে বাচার জন্য সাধ্যমত প্রস্তুতি গ্রহণ কর।” আল কোরআন।
জঙ্গিবাদ সাম্প্রদায়িকতার নির্মূল ও বাখ্যা চাই : ইসলামের শত্রুরা যেহেতু জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা শব্দ ব্যবহার করে ইসলামী জেহাদ এবং অমুসলমানদের ক্ষতি করতে চায়। তাই কোরআন সুন্নাহর আলোকে এই দুই শব্দের সঠিক বাখ্যা এবং জঙ্গিবাদ বলতে কি বুঝায়, সাম্প্রদায়িকতা কি? তা জনগণকে পরিষ্কার ভাবে বুঝিয়ে দেয়া ধর্মীয় ও মুসলমান রাজনৈতিক নেতাদের ঈমানী দায়িত্ব। ইসলামের শত্রুদের থেকে শুনে শুনে মুসলমানেরাও জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা শব্দ ব্যবহার করে। জঙ্গিবাদ কি এবং কাকে বলে সাম্প্রদায়িকতা কি এবং কাকে বলে তার বাখ্যা কেউ দেয় না। শত্রুরা দেয় না ইচ্ছা করে। নেতারা দেয় না অজ্ঞতা ও বিভ্রান্তির কারণে।
দেশের সব মহলের সকল আলেম, ইমাম, খতীব ও ওয়ায়েজ, মুহাদ্দিছ, মুফাচ্ছির ও পীর মাশায়েখ জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে এত বয়ান ও খুতবা দেয়ার পরও, দেশে জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা কারা ছড়াচ্ছে? এর পিছনে কাদের হাত? এ সব অপকর্ম করে কারা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায় ইসলামের ক্ষতি করতে চায় কারা তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করা এবং তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা, দেশ, ধর্ম ও জাতির স্বার্থে খুবই প্রয়োজন। দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল, জনগণ ও সরকারের উচিত এ বিষয়টিকে রাজনীতির উর্ধ্বে রাখা। দু:খের বিষয় হল বহু বছর ধরে জঙ্গিবাদী ও সাম্প্রদায়িক তৎপরতা দেশে চললেও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধী এবং তাদের গডফাদারদের এখনো চিহ্নিত করা গেল না। তাদের সঠিক পরিচয়ও জাতির সামনে তুলে ধরা হল না। এটিও ইসলামের শত্রুদের চক্রান্তের কারণ কিনা আল্লাহই ভাল জানেন। নাউযুবিল্লাহ।
* লেখক : খতীব, বান্দরবান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ