ঢাকা, রোববার 1 April 2018, ১৮ চৈত্র ১৪২৪, ১৩ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পিডিবিতে ৩৮ জনের অভিযোগ

চট্টগ্রাম অফিস: চট্টগ্রামে পিডিবি’র বিদ্যুৎ বিলে গরমিল, মিটার পেতে দীর্ঘসূত্রতা, ট্রান্সফরমার সংস্কার ও গাড়ি সংকটসহ নানান অভিযোগ শুনলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ। বুধবার সকালে নগরীর আগ্রাবাদে অবস্থিত পিডিবি চট্টগ্রামের প্রধান কার্যালয়ে দুদকের গণশুনানিতে এসব অভিযোগ করেছেন ৩৮ জন গ্রাহক।
এসময় নগরীর হালিশহরের নিউমুরিং এলাকার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের(পিডিবি) গ্রাহক মো. আবু বকর এসব অভিযোগ করে বলেন, ‘পিডিবির হালিশহরের নিউমুরিং অফিসের মিটার রিডার ওমর সাহেবকে বললাম, আমার মিটার রিডিংয়ের সাথে বিলের ৩৪৫ ইউনিটের গরমিল।
বছরখানেক থেকে এ সমস্যা হচ্ছে। এর সমাধান কি? জবাবে ওমর সাহেব আমাকে উত্তর দিলেন- চার তলা থেকে লাফ দেন, সমাধান হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, বছরখানেক থেকে মিটারের রিডিংয়ের সাথে বিদ্যুতের বিলের মিল থাকে না। বারবার বিদ্যুৎ বিল বেশি দেয়। পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারি মাসের বিল নিয়ে আমি পিডিবির নিউমুরিং অফিসে যাই। বেশ কয়েকবার গিয়েও মিটার রিডার ওমর সাহেবকে পাইনি। পরে অফিস থেকে মোবাইল নাম্বার নিয়ে ওনাকে ফোন দিই। বেশ কয়েকবার করেও তিনি ফোন  ধরেন নি। পরেরদিন আবার যখন ফোন করলাম, তখন ধরলেন। তিনি আমাকে অফিসে যেতে বললেন।
পরে ১৪ মার্চ নিউমুরিং বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে ওনাকে পাইনি। চারতলা ভবনের ৩ তলায় আমরা থাকি। পরে বাসায় গিয়ে ওমর সাহেবকে আবার ফোন দিই। তখন তিনি কি সমস্যা জানতে চাইলেন। বললাম নিউমুরিংয়ের এলাকার আতিয়া মহলের চারতলা ভবনের তিনতলার মিটার নিয়ে সমস্যা। গতবারের মতো এই মাসেও বিল বেশি দিয়েছেন। আমি বেশ কয়েকবার আপনার অফিসে গেছি। আপনি এইটা একটু সমাধান করে দেন। তখন ওমর সাহেব বলে ওঠলেন পরে দেখা যাবে। তখন আমি বলেছি একটু সমাধান করে দিলে ভাল হয়।
বছরখানেক থেকে বিদ্যুতের বিলে অনেক টাকা বেশি দিতে হয়েছে। পরবর্তীতে আমি বললাম এখন সমাধান কি, তখন ওনি বললেন চার তলা থেকে লাফ দেন।
সমাধান না দিয়ে তিনি আমাকে আত্মহত্যা করতে বললেন। খুব খারাপ লেগেছে আমার।
এই বিষয়ে দুদক কমিশনারের কাছে বিচার প্রার্থনা করেন আবু বকর।
শুধু নিউমুরিংয়ের আবু বকর নন, আগ্রাবাদের আবুল বাশারের মিটার রিডিংয়ের সাথে বিদ্যুৎ বিলের ৫ হাজার ইউনিটের গরমিল, কালুরঘাটের সিরাজুল ইসলামের মিটারেও সাথে হাজারোধিক বিলের গরমিলের অভিযোগ শুনানিতে উত্থাপিত হয়।
পরে দুদক কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ পিডিবি চট্টগ্রামের চীফ ইঞ্জিনিয়ারকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিলের গরমিলের বিষয়টি আসলেই চোখে পড়ার মতো। এসব সংশোধন করতে হবে। বিদ্যুৎ অফিস থেকে ওমরের মতো স্টাফকে সরিয়ে নিতে হবে।
যেই স্টাফ গ্রাহকের সমাধান না দিয়ে ৪ তলা থেকে লাফ দিতে বলেন, তিনি কি ধরনের স্টাফ। তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক শাস্তির ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দেন দুদক কমিশনার।  
গণশুনানিতে দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মো. আকতার হোসেন, পিডিবি চট্টগ্রামের চীফ ইঞ্জিনিয়ার প্রবীর কুমার সেনসহ দুদুক ও পিডিবি’র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ