ঢাকা, রোববার 1 April 2018, ১৮ চৈত্র ১৪২৪, ১৩ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কয়রায় লবণাক্ত জমিতে বিষমুক্ত বেগুন চাষে সাফল্য

খুলনা অফিস : বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত লবণাক্ত জমিতে বারি বিটি বেগুন চাষ করে কয়রায় কৃষকেরা বেশ লাভবান হয়েছে। ভাল ফলন দেখে প্রতিবেশী অনেক কৃষক বেগুন চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে এবং সেই মোতাবেক বেগুন চাষ করে কৃষক ভাল ফলন উৎপাদন করতে পেরে বেশ খুশি। স্থানীয় কৃষকরা আরো বেশি করে সহযোগিতা করার জন্য সরেজমিন কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের নিকট দাবি জানিয়েছে।
সরেজমিন গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল ও বৈজ্ঞানিক সহকারী জাহিদ হাসান বলেন, বেগুন-২ জাতের চারা রোপণ করে স্থানীয় কৃষকরা ভাল ফলন পেয়েছে। তারা বিটি বেগুন চাষাবাদে স্থানীয় কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। তারা বলেন, বিটি বেগুনে পোকা না থাকায় এবং কোন কীটনাশক স্প্রে না করার কারণে বেগুনগুলো বাজারে নিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে বিক্রি হয়ে যায়।
সরেজমিন কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, বিটি বেগুন কোন হাইব্রিড জাত নয় বিধায় কৃষকেরা নিজেরাই বিটি বেগুনের বীজ উৎপাদন ও বিপণন এবং সংরক্ষণ করতে পারবেন। এ ছাড়াও জিন সমৃদ্ধ বিটি বেগুনের খাদ্যমান এবং রাসায়নিক উপাদানগুলো দেশি বিদেশি উন্নত গবেষণাগারে পরীক্ষা করা হয়েছে।
এতে মানুষের স্বাস্থ্য, জীবজন্তু কিংবা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক কোন উপাদান পাওয়া যায়নি। অতি সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবরেটরিতে বাংলাদেশের বিটি বেগুনের নমুনা পরীক্ষা করে ননবিটি ও বিটি বেগুনের মধ্যে কোন পার্থক্য পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে কয়রা উপজেলার এমএলটি সাইটের দায়িত্বরত বৈজ্ঞানিক সহকারী মো. জাহিদ হাসান বলেন, স্থানীয় কৃষকদের বিটি বেগুনের ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিগত বছর দুইজন কৃষককে প্রদর্শনী দেয়া হয়। এ বছর চার জন কৃষককে প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে। বিটি বেগুন মাঠ পর্যায়ে জনপ্রিয় পরিবেশবান্ধব স্বাস্থ্যসম্মত, সহজেই চাষ করা যায়, বীজ রাখা যায়, কৃষকের জন্য একটি লাভজনক প্রযুক্তি এ জন্য কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ