ঢাকা, রোববার 1 April 2018, ১৮ চৈত্র ১৪২৪, ১৩ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চোখের চিকিৎসা নিতে এসে-

মফিজ জোয়ার্দ্দার, (চুয়াডাঙ্গা): চুয়াডাঙ্গার ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে চোখের চিকিৎসা নিতে এসে একটি চোখ হারিয়ে অন্ধত্বের দিকে ঝুঁকছে ২০ জন নারী-পুরুষ।
চুয়াডাঙ্গার ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টার সূত্রে জানা যায়, গত ৫মার্চ ২৪ জন নারী-পুরুষ তাদের চোখে অপারেশন করান। অপারেশনের একদিন পরই ২৪ জনকেই ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এরমধ্যে ২০ জনের চোখে প্রচন্ড জ্বালাযন্ত্রনা শুরু হলে প্রাথমিক পরীক্ষায় ওই ২০ জনের চোখে ইনফেকশন ধরা পড়ে। এক পর্যায়ে ইমপ্যাক্ট কর্তৃপক্ষ ওই রোগী গুলোকে তাদের খরচেই ঢাকার ইসলামিয়া চক্ষু ইনিস্টিটিউট ও ভিশন আই হাসপাতালে চিকিৎসা করায়। সেখানে চিকিৎসা দিয়েও রোগীদের একটি চোখ ভাল করা সম্ভব হয়নি। এরা হলো চুয়াডাঙ্গার সোনাপট্টির আবণী দত্ত, সদর উপজেলার গাইদঘাট গ্রামের গোলজার হোসেন, আলোকদিয়া গ্রামের ওলি মোহাম্মদ, আলমডাঙ্গা উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের খোন্দকার ইয়াকুব আলী, একই উপজেলার খাসকররা গ্রামের লাল মোহাম্মদ, মোড়ভাঙ্গা গ্রামের আহমেদ আলী, হারদী গ্রামের হাওয়াতন, নতিডাঙ্গা গ্রামের ফাতেমা খাতুন,খাস-বগুন্দা গ্রামের খবিরুন নেছা, রংপুর গ্রামের ইকলাস, আলমডাঙ্গা স্টেশনপাড়ার কুতলি খাতুন,কুটি পাইকপাড়ার ঊষা রানী,  দামুড়হুদা উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের তৈয়ব আলী, মদনা গ্রামের মধু হালদার, চিৎলা গ্রামের নবিছদ্দিন,মজলিশপুর গ্রামের সাফিকুল ইসলাম, কার্পাসডাঙ্গার গোলজান, সদাবরি গ্রামের হানিফা, বড় বলদিয়া গ্রামের আয়েশা খাতুন ও জীবননগর উপজেলার সিংনগর গ্রামের আজিজুল হক।
ইমপ্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা শহরের কেদারগঞ্জেপাড়ায় অবস্থিত চুয়াডাঙ্গার ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ডা. সফিউল কবির জিপু বলেন, গত ৪ ও ৫ মার্চ দুদিন ৬০ জন রোগীর চোখের অপারেশন করানো হয়। ৫ মার্চ রোগীদের ছাড়পত্র দেওয়ার পর ২০ রোগীর চোখে ইনফেকশ ধরা পড়ে। রোগীদের আরো ভাল চিকিৎসার জন্য ইম্প্যাক্টের খরচে তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়। তাছাড়া চোখে কি কারনে ইফেকশন হলো তা জানার জন্য ইম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশনের সকল ঔষুধপথ্য পরীক্ষার জন্য আইসিসিভিডিআরবিতে পাঠানো হয়েছিলো।
তাদের পাঠানো প্রতিবেদনে ওরোব্লু (অঁৎড়নষঁব) নামের ব্যবহৃত কিডসে পার্ম নেগেটিভ সেসিলি ব্যাক্টেরিয়ার অস্তিত্ব রয়েছে। ওই ব্যাক্টেরিয়ার কারনেই ইনফেকশন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই কিডস আইআরআইএফ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে আমদানী করে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্থদের চিকিৎসা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা.খায়রুল আলম ইম্প্যাক্টে মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার সেন্টারের অপারেশন থিয়েটারসহ ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন । তিনি তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে (২এপ্রিল) প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলেছেন । চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য প্রশাসনের তরফে গঠিত তদন্ত দলের পক্ষে ইতমধ্যেই ইম্প্যাক্টের অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতির নমুনাসহ ওষুধপথ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেল্থ সেন্টারের আই (চক্ষু) কনসালটেন্ট ডা: মোহাম্মদ শাহীনের এমবিবিএসসহ সকল শিক্ষা সনদের ফটোকপি সংগ্রহ করেছেন । এদিকে চুয়াডাঙ্গা  ইম্প্যাক্টের অপারেশন থিয়েটারে কয়েকদিন ধরে বন্ধ রাখা হলেও গঠিত তদন্ত দলের নিকট থেকে অপারেশন থিয়েটারের কোনো ক্রটি নেই এমন প্রতিবেদন নিয়ে তা দ্রুত চালু করার তোড়জোড় চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে ।
ঢাকার ইসলামি চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি ৯ জনের চোখে অপারেশন করে চোখ তুলে ফেলতে হয়েছে । আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী গ্রামের হাওয়াতনের চোখ তুলে ফেলা না হলেও তার ইম্প্যাক্টে অপারেশন করা চোখটিকে দেখতে পারছেন না। যন্ত্রনাও যায়নি। তার মেয়ে ফরিদা খাতুন বলেছেন ,আমরা হতদরিদ্র। মায়ের চোখে অপারেশন করে আমরা যে হয়রানির শিকার হচ্ছি তা বলে শেষ করা যাবে না।
অপরদিকে দামুড়হুদা উপজেলার সদাবরি গ্রামের হানিফার মেয়ে হালিমা বেগম ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন , ৫মার্চ মায়ের চোখে অপারেশন করানো  হয়। পরদিন ছেড়ে দেয়। বাড়ি ফেরার পর মায়ের অপারেশন করা চোখে যন্ত্রনা বাড়তে থাকে।
৯ মার্চ আবারও ইম্প্যাক্টে নিয়ে যাওয়া হলে সেখান থেকে বলা হয় ডা:ফকির মোহাম্মদের নিকট দেখাতে।
সেখানে দেখানোর পর সেখান থেকেই পরামর্শ দেয় ঢাকা ইসলামিয়া চক্ষু  হাসপাতালে ভর্তি হতে। এখনও চিকিৎসা চলছে ইম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশনের খরচে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ