ঢাকা, রোববার 1 April 2018, ১৮ চৈত্র ১৪২৪, ১৩ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় জাল সার্টিফিকেটসহ গ্রেফতার ৬ জনের নামে প্রতারণার মামলা

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীর খানজাহান আলী থানাধীন বাদামতলার মোড়ল মার্কেটের আরাফাত মোটর ড্রাইভিং ট্রেনিং স্কুল, আরাফাত ফটোস্ট্যাট এবং প্রতিষ্ঠানের মালিকের বাড়িতে র‌্যাবের অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল সার্টিফিকেট ও সীল উদ্ধারের ঘটনায় আটক ছয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় প্রতারক চক্রের মূল হোতা মনিরুলকে পাঁচদিনের রিমান্ড চেয়ে বৃহস্পতিবার আদালতে প্রেরণ করে। আজ রোববার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য আছে। র‌্যাবের নায়েক সুবেদার মো. রাজু আহম্মেদ বাদী হয়ে খানজাহান আলী থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, র‌্যাব-৬ গোপন সংবাদের জানতে পারে শিরোমণি কেডিএ আবাসিকের জনৈক শেখ মনিরুল ইসলামের বাড়িতে কিছু দালাল নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির কাগজপত্র নবায়ন ও গাড়ির মালিকানা পরিবর্তনের জন্য আসা বিভিন্ন লোকদের কাজ করে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে অবৈধভাবে টাকা পয়সা নিচ্ছে। এই কাজে তারা বিভিন্ন ডাক্তার, নোটারী পাবলিক, এডভোকেটের সীল ও সাক্ষর জাল করে করে ব্যবহার করছে। এ সময় র‌্যাব মনিরুলের বাড়ি ঘেরাও করে শেখ মনিরুল ইসলাম (৫০) তার ছেলে বাসিত হোসেন (২১), আড়ংঘাটা থানা এলাকার মৃত চাঁদ আলী খানের ছেলে মো. আব্দুর সবুর খান (৫১), গিলাতলার অসীম মজুমদারের ছেলে সঞ্জয় (২৫), দৌলতপুর থানা এলাকার মনিন্দ্র সাহার ছেলে সুবাস সরকার (৫৭) এবং একই এলাকার দুর্গা দাসের ছেলে বিদ্যুৎ মজুমদার (৫৪)কে আটক করে। এ সময় তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন নাম ও পদবী ব্যবহার করা ১২টি সীল, ডাক্তার কর্তৃক সাক্ষরিত ও সীল দেয়া চার হাজার তিনশ’টি মেডিকেলের সার্টিফিকেট, কেসিসি ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আড়ংঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কর্তৃক সাক্ষরিত ও সীল মারা ৪৮৩টি এবং ৫নং আড়ংঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সীল ও সাক্ষরিত ৯৮টি নাগরিক সনদপত্র, ডাক্তার কর্তৃক সাক্ষরিত শিক্ষানবিস ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন ফরম একশ’টি, ১০০ টাকা মূল্যমানের নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প একশ’টি এবং ৫০ টাকার ৯৬টি, নোটারী স্টিকার ৩০টি সহ এই কাজে ব্যবহৃত একটি সিপিইউ উদ্ধার করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই রোকনুজ্জামান জানিয়েছেন অন্যের রূপ ধারণ করে প্রতারণার মাধ্যমে মূূল্যবান জামানত, জাল জালিয়াতি করার অপরাধে এই চক্রের মূল হোতা শেখ মনিরুল ইসলামকে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আদালতে আজ রোববার শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ শিরোমণি বাদামতলায় বিআরটিএ অফিস সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার র‌্যাব-৬ খুলনার স্পেশাল কমান্ডার এনায়েত হোসেন মান্নান, খুলনার সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিয়া আফরীন, র‌্যাব কর্মকর্তা এএসপি মো. তোফাজ্জেল হোসেন এর উপস্থিতিতে অভিযান শেষে বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি, ডাক্তার, নোটারী পাবলিক, এডভোকেটের নাম পদবীর সীলসহ জাল সার্টিফিকেট উদ্ধার করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ