ঢাকা, রোববার 1 April 2018, ১৮ চৈত্র ১৪২৪, ১৩ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইনজুরিতে দেড় মাসের জন্য মাঠের বাইরে তামিম

স্পোর্টস রিপোর্টার : ইনজুরির কারণে প্রায় দেড় মাস মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে তামিম ইকবালকে। এমনটাই জানিয়েছেন ক্রিকেট বোর্ডের চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে তামিম ইকবালের বাঁ হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত শল্য চিকিৎসক ডেভিড ইয়াং। কিন্তু কয়েক মাস ধরে সেই বাঁ হাটুতেই ব্যথা অনুভব করছেন বাংলাদেশের তারকা ওপেনার। নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে ব্যাটিং করলেও ফিল্ডিং করতে পারেননি। ব্যথা নিয়েই কলম্বো থেকে লাহোরে যান পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) এলিমিনেটর ম্যাচ খেলতে। ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় সেই ম্যাচ খেলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ব্যাংকক যান তিনি। গত সপ্তাহে দেশে ফিরেছেন তামিম। পাকিস্তান সুপার লিগে পেশোয়ার জালমির হয়ে খেলেছেন তামিম ইকবাল। কিন্তু নিজের ২৯তম জন্মদিনে প্রথম এলিমিনেটর ম্যাচ খেললেও দলের হয়ে ফাইনাল খেলতে পারেননি। ইনজুরিতে পড়েন এলিমিনেটর ম্যাচটিতে। চোটে আপাতত তাই মাঠের বাইরে চলে যেতে হয়েছে তামিমকে। এর আগে দেশের হয়ে ব্যস্ত ছিলেন ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও শ্রীলংকার বিপক্ষে টেস্ট এবং টি-টুয়েন্টি সিরিজে। তামিম হাঁটুর  চোটটা পান আসলে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালের আগে। চোট নিয়েই খেলেছিলেন ফাইনালে। পরে পিএসএলে খেলতে গিয়ে ফের চোট পান তামিম। গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বাঁহাতি ওপেনারের ইনজুরি নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চিকিৎসক  দেবাশীষ চৌধুরী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘তামিমের ইনজুরি তেমন গুরুতর নয়। তবে এ ব্যাপারে ধীরে-সুস্থে এগোনোই ভালো। আশা করি, চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে তামিমের বাঁ হাটু ব্যথা মুক্ত হয়ে যাবে।’ আসলে তামিমের চোটটা বাড়লো কিভাবে, জবাবে তিনি বলেন, ‘সমস্যা হয়েছে আঘাত পাওয়ার পরে বিশ্রাম পায়নি। ওকে খেলতে হয়েছে শ্রীলংকার বিপক্ষে (ফাইনালে)। পরিচর্যা সেভাবে হয়নি। তখন যদি আমরা ওকে বিশ্রাম দিতে পারতাম আরও আগে সুস্থ্য হতে পারতো। সেটা সম্ভব ছিল না। ফিজিওর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তিনি বলেছেন কি করবো খেলাতে হবে। ব্যথার ওষুধ দিলে খেলতে পারবে না। সব মিলিয়ে খেলেছে। কিন্তু সেই পরিচর্যাটা হয়নি, ফলে আস্তে আস্তে ব্যথাটা বেড়েছে।’ এখন তাই অনেক বেশি সময়ের জন্যই পুরোপুরি ব্যাট-বল থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে তামিমকে। অনেক বেশি বলতে সেটা প্রায় দেড় মাসের মতো। ডাক্তার দেবাশীষ বলছিলেন, ছোট ছোট কয়েকটা আঘাত আছে। কোনোটাই তেমন বড় আঘাত নয় যে এই মুহুর্তে আমাদের বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেহেতু আঘাতের মাত্রাটা কম সেহেতু আমাদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে রক্ষণশী হয়ে এগোনো। আমরা যদি এরকম ৪-৬ সপ্তাহ করতে পারি তবে ও ব্যথামুক্ত হয়ে যাবে।’ দেবাশীষ তামিমের পুরো পুনর্বাসন প্রক্রিয়াটা ব্যাখ্যাও করলেন, ‘প্রথমে হচ্ছে ওকে বিশ্রাম দিয়ে  দেব। যেন ক্ষতটার পরিচর্যা হয়। শরীর যেন নিজেকে হিল করে। আমাদের কাজ হচ্ছে শরীরকে সহায়তা করা। আমরা মাঝামাঝি কিছুতে যাচ্ছি না। কোন ইনজেকশন বা কোন ওষুধ দিচ্ছি না। শুধু প্রাকৃতিকভাবে শরীর হিল করবে। আমরা ব্যথা কমানোর জন্য ফিজিওথেরাপি দেব। শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে। ৪ সপ্তাহ লাগবে। এই ধরনের ব্যথা হিল করতে নূন্যতম ৩ সপ্তাহ লাগে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ