ঢাকা, রোববার 1 April 2018, ১৮ চৈত্র ১৪২৪, ১৩ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

উচ্ছ্বসিত গ্রামবাসীর মধ্যে আছে ক্ষোভও

৩১ মার্চ রয়টার্স : প্রায় ছয় বছর পর দেশে ফেরার পর শনিবার নিজ গ্রামে গেছেন পাকিস্তানের শিক্ষা অধিকারকর্মী ও শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের। গ্রামে ফেরা ২০ বছরের মালালাকে দেখতে উন্মুখ ছিলেন অনেকেই। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা খবরে বলা হয়েছে, মালালার এক সময়ের সহপাঠি ও বন্ধুসহ অনেকেই মালালার অপেক্ষায় ছিলেন। তবে ক্ষোভের কথাও জানিয়েছেন অনেকে।

কিশোর বয়স থেকেই নারী শিক্ষা ও অধিকার আদায়ে আওয়াজ তুলেছেন মালালা। তার বাবা মেয়েদের একটি স্কুল চালাতেন। প্রায়ই টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নারী শিক্ষা নিয়ে কথা বলতে দেখা যেত মালালাকে। ২০১২ সালের ৯ অক্টোবর মালালার স্কুল বাসে উঠে পড়ে মুখোশধারী তালেবানরা। নাম ধরেই খুঁজতে থাকে তাকে। সামনে আসার পর তাকে গুলি করে চলে যায় তালেবানরা। দ্রুত তাকে যুক্তরাজ্যে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েক মাসের চেষ্টায় তার মাথার খুলি ঠিক করতে সক্ষম হন ডাক্তাররা। এরপর থেকেই বাড়ি ফিরতে পারছিলেন না তিনি। কিন্তু বিশ্বে নারী অধিকার আদায় আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেন মালালা। ২০১৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান মালালা। তিনিই বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী নোবেল বিজয়ী।   সোয়াতের এক স্কুলে যেখানে এক সময়ে মালালা পড়াশুনা করতেন সেখানকার তৃতীয় গ্রেডে পড়েন আরফা আক্তার। তিনি বলেছেন, ‘মালালা পাকিস্তানে ফেরায় আমরা খুবই খুশি। আমরা তাকে স্বাগত জানাই। আমিও একজন মালালা। এই মিশনে আমিও তার সঙ্গে ছিলাম।’ ৬৬ বছর বয়সী বরকত আলী মিনগোরা এলাকায় শৈশবের মালালাকে কোলে নেওয়ার স্মৃতি রোমন্থন করে জানান, নারী শিক্ষায় ২০ বছরের মেয়েটির লড়াইয়ের কারণে তিনি গর্ব অনুভব করেন। দশ বছর আগে বরকত আলী তার ছেলেকে তালেবান সদস্য করতে চাওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তারা ছিল অশিক্ষিত মূর্খ ব্যক্তি। যারা বলত আমাদের মেয়েদের স্কুলে যেতে দেওয়া হবে না। এখন এলাকার লোক অনেক সংবেদনশীল। তারা মেয়েদের স্কুলে পাঠায়।

২০০৭ সালে সোয়াত উপত্যকার বেশিরভাগটার নিয়ন্ত্রণ ছিল তালেবানদের হাতে। নারী শিক্ষা নিষিদ্ধ, মানুষ হত্যা, নারী নির্যাতন ও ইলেকট্রিক পোল থেকে ঝুলিয়ে রাখা ছিল নিয়মিত বিষয়। কট্টর ইসলামি আইন মানতে বাধ্য করা গোষ্ঠীটিকে ২০০৯ সালে সেখান থেকে তাড়িয়ে দিতে সক্ষম হয় পাকিস্তান সেনাবাহিনী।

সোয়াতের অধিবাসী নিসার খান বলেন, আন্তর্জাতিক সেলিব্রেটি এবং আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা দেওয়া মালালা এই অঞ্চলের অন্য অনেকের অবদান ফিকে করে দিয়েছে। তিনি বলেন, অন্য অনেকের সঙ্গে একসময় আমরাও তালেবানের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলাম। আমার চার চাচা ও দুই চাচাত ভাইকে মাত্তা এলাকায় তালেবানরা হত্যা করেছে। তাদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এখন কেউ আমার কাছে তাদের বিষয়ে জানতে চায় না। খান বলেন, ‘কেউ কি আমাকে এমন একটা সাহসী কাজ দেখাতে পারবেন যা মালালা করেছেন অথচ ৫০ বছর বয়সে আমরা তা পারিনি?’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ