ঢাকা, রোববার 1 April 2018, ১৮ চৈত্র ১৪২৪, ১৩ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সিরিয়ায় আরও সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি তুরস্কের

 

৩১ মার্চ, রয়টার্স, আনাদুলো এজেন্সি : তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান জানিয়েছেন, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় কয়েকটি শহরে সামরিক অভিযান শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে তুর্কি বাহিনী। তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে ইরাক থেকেও জঙ্গিদের বিতাড়িত করবে তুরস্ক। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা এখবর জানিয়েছে।

এরদোয়ান জানান, তুর্কি সেনাবাহিনী সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর আইন আল-আরব, রাস আল-আইন ও তেল আবিয়াদ অঞ্চল থেকে ইরাকি সীমান্ত পর্যন্ত জঙ্গিদের উৎখাতে অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট জানান, সামরিক অভিযানের সময় ওইসব অঞ্চলে মিত্র দেশের সেনাদের ক্ষতি করার কোনও ইচ্ছে নেই তুরস্কের। কিন্তু তুরস্ক জঙ্গিদের মুক্তভাবে চলাফেরা করতে দেবে না।

সিরিয়ার মানবিজে কুর্দি ওয়াইপিজি যোদ্ধাদের পাশাপাশি মার্কিন সেনারা মোতায়েন রয়েছে। বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, উত্তর সিরিয়াকে স্থিতিশীল করতে ওয়াইপিজিকে সহযোগিতা করবে ফ্রান্স। ম্যাক্রোঁর এই ঘোষণায় ক্ষুব্ধ হয়েছে তুরস্ক। দেশটি দাবি করেছে, কুর্দি ইস্যুতে ভুল অবস্থান নিয়েছে ফ্রান্স। একই সঙ্গে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের অভিযোগ এনেছে আঙ্কারা।

মার্কিন সমর্থিত কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ওয়াইপিজিকে হটানোর লক্ষ্যে সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ আফরিনে সেনা অভিযান শুরু করে তুরস্ক ও সিরীয় বিদ্রোহীদের সংগঠন এফএসএ। ২০ জানুয়ারি ‘অপারেশন অলিভ ব্রাঞ্চ’  নামে শুরু হওয়া অভিযানে বেশ কিছু মানুষ হতাহত হয়। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ১৮ মার্চ  কুর্দি বিদ্রোহীদের কাছ থেকে শহরটির নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয় এফএসএ।  এসডিএফকে সহায়তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ক্ষুব্ধ তুরস্ক। ন্যাটোভুক্ত এই দুই মিত্র দেশের মধ্যে এ নিয়ে টানাপোড়েন চলছে কূটনৈতিক সম্পর্কে।

সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে মধ্যস্থতা করানোর অধিকার ফ্রান্সের নেই:

সিরিয়ায় কুর্দি যোদ্ধা ও আঙ্কারার মধ্যে ফ্রান্সের সমঝোতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। কুর্দি সশস্ত্র যোদ্ধাদের আঙ্কারা সন্ত্রাসী হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন কুর্দি সন্ত্রাসীদের একটি প্রতিনিধি দলকে প্যারিসে আমন্ত্রণ জানিয়ে সিরীয় ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) ও তুরস্ক সরকারের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন। খবর আল-জাজিরার।

এর একদিন পর শুক্রবার তা প্রত্যাখ্যান করে রাজধানী আঙ্কারায় এক বৈঠকে ম্যাকরনকে উদ্দেশ্য করে এরদোগান বলেন, একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে তুরস্কের মধ্যস্থতা করতে আসার আপনি কে?

এসডিএফকে কুর্দি পিপলস প্রটেকশন ইউনিটস (ওয়াইপিজি)পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, যারা সন্ত্রাসী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের আমন্ত্রণ জানায়, যাদের দেশে এই সন্ত্রাসীরা স্বাধীনভাবে কর্মকা- পরিচালনা করতে পারে, তাদের ব্যাপারে সতর্ক হওয়া দরকার। তুরস্কের বিরুদ্ধে তারা শত্রুতা ছাড়া আর কিছু করছে না।

সিরিয়ায় সক্রিয় কুর্দি ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন পার্টি (পিওয়াইডি) ও তাদের সশস্ত্র শাখা ওয়াইপিজিকে সন্ত্রাসী সংগঠন মনে করে তুরস্ক। তাদের সঙ্গে কুর্দি ওয়ার্কাস পার্টিরও (পিকেকে) সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

কুর্দিরা কয়েক দশক ধরে তুরস্কের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী বিদ্রোহে লিপ্ত রয়েছে।

তুর্কি নেতা বলেন, পিওয়াইডি ও ওয়াইপিজির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর নিজের মাটিতে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হামলা নিয়ে অভিযোগ করার অধিকার ফ্রান্সের নেই। যারা সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বিছানা ভাগাভাগি করেন এবং যারা তাদেরকে নিজেদের প্রাসাদে আমন্ত্রণ জানান, আগে-পরে যখনই হোক, তারা তাদের ভুলগুলো টের পাবেন বলে জানান এরদোগান। তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, সিরিয়া ও ইরাক থেকে পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসীতে ফ্রান্স যখন পূর্ণ হয়ে যাবে, তখন আমাদের কাছে সাহায্য চাওয়ার সাহসও তাদের থাকবে না।

দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক

ইস্যুতে এরদোগান-ট্রাম্প

ফোনালাপ

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন। শুক্রবার টেলিফোনে এই আলোচনা হয় বলে জানিয়েছে তুর্কি প্রেসিডেন্টের কার্যালয়।

উভয় নেতা সিরিয়া ও ইরাকের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং সন্ত্রাসদমন নিয়ে আলোচনা করেন বলে জানানো হয়েছে। এরদোয়ান ও ট্রাম্প মিত্র হিসেবে সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়াতে নিজেদের দৃঢ় ইচ্ছার কথা একে অপরকে জানিয়েছেন। তুর্কি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, শুক্রবার গাজা সীমান্তে ইসরাইলি সহিংসতা নিয়েও উভয় নেতা আলোচনা করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ