ঢাকা, রোববার 1 April 2018, ১৮ চৈত্র ১৪২৪, ১৩ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় লবণ সহিষ্ণু জাতের নতুন গম বীজ উদ্ভাবন

 

খুলনা অফিস : উপকূলীয় এলাকায় লবণ সহিষ্ণু গমের জাত উদ্ভাবনের চেষ্টা চলছে খুলনায়। কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট খুলনার তত্ত্বাবধানে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার সাচিবুনিয়া গ্রামে প্রায় ২৪টি প্লটে নতুন এই জাতের গম চাষ করা হয়েছে। শীত মওসুমের ফসল হিসেবে খ্যাত গমের চাষ এ অঞ্চলে সীমিত। লবণাক্ততা সহনশীল এই জাতের বীজ উদ্ভাবন হলে খুলনা অঞ্চলের কৃষিতে তা’ নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা।

এদিকে নতুন জাতের এই পাটের ক্ষেত ও বীজ পরিদর্শনের গত শুক্রবার খুলনায় আসেন গম গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ড. নরেশ চন্দ্র দেব বর্মা। খুলনার বিজ্ঞানীদের এই উদ্ভাবনের প্রশংসা করেন তিনি। এই প্লটের মধ্যে সবচেয়ে উন্নতমানের গম বীজ বাছাই করে তা’ সংরক্ষণ এবং সারা অঞ্চলে ছড়িয়ে দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের সরেজমিন গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. হারুনার রশিদ জানান, গম সাধারণত শীতকালীন দেশের ফসল। এছাড়া মিষ্টি পানিতে গমের ফলন ভালো হয়। আমাদের দেশে শীতের মেয়াদ কম এবং খুলনা অঞ্চলে লবণাক্ততা বেশি থাকায় গমের ফলন কম হয়। দেখা যায়, শুষ্ক মওসুমটা ফসলের মাঠ বিলান পড়ে থাকে। এজন্য এ অঞ্চলের পতিত জমিগুলোকে আবাদের ভেতর আনতে লবণ সহিষ্ণু জাতের পাট বিজ উদ্ভাবনের চেষ্টা চলছে। সেই চেষ্টা থেকেই খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার সাচিবুনিয়া গ্রামের জমিটি বেছে নেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে এসিআইএআর-অস্ট্রেলিয়া ও কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন ঢাকা। 

সরেজমিন সাচিবুনিয়ার নতুন গম খেতে গিয়ে দেখা গেছে, গমে সোনালী আভা। বাতাসে গমের শীষের দোল দেখে কৃষকের মুখও হাসিতে ভরে উঠছে। ওই জমির কৃষক সবুর শেখ বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসের পর গরম ও লবণাক্ততার কারণে গমের ফলন হতো না। কিন্তু নতুন জাতের ফলন ভালো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত যে ফলন হয়েছে তাতে আমরা খুশি। 

ড. মো. হারুনার রশিদ জানান, বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় লবণাক্ততা সহনশীল, তাপ ও খরা সহনশীল গমের জাত বাছাই করা করে খুলনা অঞ্চলের পতিত এক ফসলি জমিকে দুই ফসলে পরিবর্তন করাই এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্যে। ধান উৎপাদনে যেখানে তিন হাজার ২০০ লিটার থেকে চার হাজার লিটার পানি লাগে সেখানে গম উৎপাদনে পানি লাগে মাত্র ৮০০ লিটার। অর্থাৎ মাত্র দুটি সেচ দিয়ে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে গম লাগিয়ে সেই গম উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। সাচিবুনিয়ার গ্রামে সেটাই প্রমাণ হতে চলেছে।

গম গবেষণা কেন্দ্রের মহাপরিচালক ড. নরেশ চন্দ্র দেব বর্মার বলেন, সাধারণত নবেম্বর মাসে গম লাগাতে হয়। কিন্তু জানুয়ারির ৩ তারিখের লাগানো এই গম দেখে নতুন আশার সঞ্চার হচ্ছে। তিনি বলেন, গবেষণালব্ধ ফলাফলের থেকে নতুন গমের জাত উদ্ভাবিত হলে-এ অঞ্চলের পতিত জমিগুলো চাষের আওতায় আসবে। কৃষকের জীবনমান উন্নত হবে।

এদিকে শুক্রবার মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট খুলনার সরেজমিন গবেষণা বিভাগ এবং গম গবেষণা কেন্দ্র দিনাজপুর যৌথভাবে এর আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন গম গবেষণা কেন্দ্রের মহাপরিচালক ড. নরেশ চন্দ্র দেব বর্মার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক নিত্য রঞ্জন বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. হারুনার রশিদ ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আবদুল লতিফ। সঞ্চলনা করেন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুস্তফা কামাল শাহাদাৎ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ