ঢাকা, সোমবার 2 April 2018, ১৯ চৈত্র ১৪২৪, ১৪ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শীঘ্রই কমছে না রড সিমেন্টের দাম

স্টাফ রিপোর্টার : অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়া রড ও সিমেন্টের দাম কমানো একমাত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বয় সভা করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। এই সভা আগামী ১০ থেকে ১২ এপ্রিলের মধ্যে করতে হবে বলেও জানান তিনি। এতে বুঝা যায় সহসা রডের দাম কমছে না।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রড ও সিমেন্টের এই মূল্য কমানোর বিষয়টি শুধু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নয়। এর সঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত। তাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।
গতকাল রোববার দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সংক্রান্ত এক সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সভায় বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু, এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, সাবেক সভাপতি মীর নাসির, বাংলাদেশ স্টিল মিল ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মনোয়ার হোসেন, সিমেন্ট প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মোস্তফা কামাল, রিহ্যাবের সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন, কনস্ট্রাকশন এসোসিয়েশনের সভাপতিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মনোয়ার হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে রডের কাঁচামালের (স্ক্র্যাপ) দাম বেড়েছে, এর সঙ্গে ব্যাংক সুদ হার বৃদ্ধি, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, বন্দর জটিলতা ও ভ্যাট ট্যাক্সসহ প্রতি টন রডের মূল্য বেড়েছে ১৮ হাজার টাকা।
তিনি জানান, বছরে বাংলাদেশে ৯০ লাখ টন রডের উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও চাহিদা রয়েছে মাত্র ৫৫ লাখ মেট্রিক টনের। তাই প্রতিযোগিতা করে এই ব্যবসা চালাতে হয়। বর্তমানে প্রতি টন রডের দাম ৭০ হাজার টাকা হলেও বণিজ্যমন্ত্রীর সম্মানে এই সভায় যোগ দেওয়ার আগে টন প্রতি ২ হাজার টাকা কমিয়ে প্রতি টন রড ৬৮ হাজার টাকা দরে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর বেশি কমাতে হলে এসোসিয়েশনের সব নেতাদের নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
একই কথা বলেন সিমেন্ট প্রস্তুতকারী এসোসিয়েশনের সভাপতি মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, আমি আমার এসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে অবশ্যই সিমেন্টের দাম কিছুটা হলেও কমাবো।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকারের মূল্য বৃদ্ধিসহ নানা কারণে টন প্রতি আড়াই হাজার টাকা উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও আমরা বাড়িয়েছি মাত্র এক হাজার। যা প্রতিব্যাগে বেড়েছে ৫০ টাকা। এই মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কমানোর সুযোগ নেই।
উল্লেখ্য, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এই মিটিংয়ে রড ও সিমেন্টের দাম আরও কিছুটা কমানোর ঘোষণা দেওয়ার জন্য ২ এসোসিয়েশনের সভাপতির প্রতি অনুরোধ করলে মনোয়ার হোসেন ও মোস্তফা কামাল ওই বক্তব্য দেন।
সভায় রিহ্যাব নেতারা বলেন, এই মুহূর্তে রড ও সিমেন্টের দাম না কমালে সরকারের এডিপি বাস্তবায়ন হবে না। সরকারের ২০২১ ভিশন বাধাগ্রস্ত হবে। সমস্ত উন্নয়ন থমকে যাবে।
সম্প্রতি বাজারে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে রড ও সিমেন্টের দাম। রড ও সিমেন্টের দাম মূল্যবৃদ্ধির জন্য ভোক্তারা উৎপাদনকারীদের অভিযুক্ত করেছেন। পক্ষান্তরে উৎপাদক মিল মালিকরা এর জন্য আন্তর্জাতিক বাজার, ব্যাংক সুদের হার বৃদ্ধি, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, বন্দর জটিলতা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, ও অতিরিক্ত ভ্যাট ট্যাক্সকে দায়ী করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ