ঢাকা, সোমবার 2 April 2018, ১৯ চৈত্র ১৪২৪, ১৪ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মাদরাসায় উগ্রবাদের প্রসার হয় না

মাদরাসা নিয়ে নানা রকম প্রচারণা আছে। শুধু দেশে নয়, বিদেশেও তেমন প্রচারণা লক্ষ্য করা যায়। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার বিষয়ক কমিটির সভায়ও বাংলাদেশের মাদরাসা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়। ১৫ থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য রশিয়ার আসলান আবাসিদজে বলেন, সরকার শিক্ষানীতিতে মাদরাসা ছাত্রদের জন্য ইংরেজিসহ কয়েকটি বিষয় জাতীয় পাঠ্যক্রম অনুসরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু কওমি মাদরাসাগুলো জাতীয় পাঠ্যক্রমের আওতায় আসতে রাজি নয় এবং এসব মাদরাসায় উগ্রবাদ প্রসারের অভিযোগ আছে। এ ক্ষেত্রে উগ্রবাদ বিস্তারের সমস্যা মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা কী, তা তিনি জানতে চান। এর জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, মাদরাসায় উগ্রবাদের প্রসার হয়, সরকার এমনটি মনে করে না এবং সে কারণেই মাদরাসা শিক্ষাকে মূল ধারায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
জাতিসংঘ কমিটির উক্ত বৈঠকে মাদরাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের দাবি অনুযায়ী স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে রদবদল ঘটানোর অভিযোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাশিয়ার প্রতিনিধি আবাসিদজে তার উদ্বেগের কথা জানান। তার প্রশ্ন ও উদ্বেগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলা হয় হোলি আর্টিজানে, হামলাকারীরা কেউই মাদরাসা ছাত্র ছিল না। তারা হয় ইংরেজি মাধ্যমে নয়তো বিদেশে লেখাপড়া করেছে। সুতরাং সব মাদরাসাকে উগ্রবাদ প্রসারের জন্য দায়ী করা যায় না। এত বড় একটি জনগোষ্ঠীকে বিচ্ছিন্ন রাখা যায় না উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, তাদের মূল ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চলছে। হেফাজতের দাবিতে পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তনের অভিযোগ তিনি নাকচ করে দেন।
১৭ মার্চ প্রথম আলো পত্রিকায় জাতিসংঘ কমিটির ওই বৈঠকে রাশিয়ার প্রতিনিধির প্রশ্ন ও উদ্বেগের বিষয়টি মুদ্রিত হয়েছে। ভাবতে অবাক লাগে, বাংলাদেশে মাদরাসা শিক্ষাকে যারা পছন্দ করেন না বরং নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন, তাদের উদ্বেগের সাথে রাশিয়ার প্রতিনিধির উদ্বেগ কি চমৎকারভাবে মিলে গেল! এটার কারণ কি রাজনৈতিক কিংবা জীবন দর্শনগত মিল? বাংলাদেশের প্রতিমন্ত্রী অবশ্য ওইসব উদ্বেগের যোগ্য জবাব দিয়েছেন। এ জন্য তাকে জানাই ধন্যবাদ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ