ঢাকা, সোমবার 2 April 2018, ১৯ চৈত্র ১৪২৪, ১৪ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আশরাফুলের রেকর্ড সেঞ্চুরির পরও  জিততে পারেনি কলাবাগান

স্পোর্টস রিপোর্টার : ঘরোয়া ক্রিকেটে মোহাম্মদ আশরাফুল নিজেকে মেলে ধরছেন একের পর এক সেঞ্চুরি করে। গতকাল রেলিগেশন লিগেও কলাবাগানের হয়ে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন আশরাফুল। তবে আশরাফুল সেঞ্চুরিসহ অপরাজিত ১০২ রানের ইনিংস খেলেও দলকে জয় এনে দিতে পারেননি। আশরাফুলের ১৩৭ বলের ইনিংসে ছিল ১০ চার। আর এই ইনিংসই তাকে নিয়ে গেছে  রেকর্ডবুকে! টানা তিন সেঞ্চুরি নিয়ে চলতি প্রিমিয়ার লিগে তার ব্যাট থেকে এসেছে মোট পাঁচটি  সেঞ্চুরি। তাতেই  বেশ কিছু রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন তিনি। এর আগে লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে টানা তিন সেঞ্চুরি করতে পারেনি কোন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান। তবে  সেঞ্চুরি করেও ম্যাচ জেতাতে পারেননি এ তারকা। ব্রাদার্স ইউনিয়নের কাছে ৬ উইকেটে হেরে  গেছে তার দল কলাবাগান ক্রীড়া চক্র। শুধু এদিনই নয় এবারের আসরে করা পাঁচ সেঞ্চুরির চারটিতেই হেরেছে কলাবাগান। ব্রাদার্সের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও এই ম্যাচটি নিছক সম্মান রক্ষার জন্যই ছিল কলাবাগানের জন্য। কারণ, আগেই অবনমন নিশ্চিত হয়ে গেছে তাদের। আর তাতে টস জিতে ব্যাটিং করতে নামে কলাবাগান। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা। দলীয় ৫ রানে আউট হন ওপেনার ফয়সাল আহমেদ। এরপর আরেক ওপেনার ওয়ালিউল করিমের সঙ্গে ১১৬ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে প্রাথমিক ধাক্কা সামলে নেন আশরাফুল। এরপর করিমের বিদায়ের পর জুটি বাঁধেন মুনিম শাহরিয়ারের সঙ্গে। ৭৮ রান যোগ করেন এ দুই ব্যাটসম্যান। চতুর্থ উইকেটেও ফারুক হোসেনের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৫৩ রানের জুটি গড়েন আশরাফুল। ফলে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩ উইকেটে ২৫৩ রান সংগ্রহ করে দলটি। শেষ পর্যন্ত দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১০২ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন আশরাফুল। শুরুতে খুবই ধীর গতিতে ব্যাটিং করেন আশরাফুল। ১০২ বলে স্পর্শ করেছেন হাফ  সেঞ্চুরি। তবে পরের ফিফটি করতে বল খেলেছেন ৩৬টি। করিম খেলেন ৭৯ রানের ইনিংস। ৯৫ বলে ৬টি চার ও ৫টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। ব্রাদার্সের পক্ষে ৫৩ রানের খরচায় ২টি উইকেট নেন সোহরাওয়ার্দী শুভ। ২৫৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় ব্রাদার্স। ৬৯ রানের ওপেনিং জুটি গড়েন দুই ওপেনার মিজানুর রহমান ও জুনায়েদ সিদ্দিকি। এরপর জুনায়েদ আউট হয়ে গেলে দ্বিতীয় উইকেটে মাইশুকুর রহমানের সঙ্গে ৪৯ ও তৃতীয় উইকেটে অলক কাপালীর সঙ্গে ৫৮ রানের জুটি গড়েন মিজানুর। ফলে দল পেয়ে যায় সহজ জয়ের ভিত। এরপর পঞ্চম উইকেটে ৭৫ রানের অবিচ্ছিন্ন এক জুটি গড়ে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন ইয়াসির আলী ও নাজমুস সাদাত। ১০৪ বলে ১১৫ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন মিজানুর। ১১টি চার পাশাপাশি ৬টি ছক্কার সাহায্যে নিজের ইনিংসটি সাজান এ ওপেনার। এছাড়া ইয়াসির ৪৫ ও সাদাত ৩২ রান করেন। কলাবাগানের পক্ষে ৪৭ রানের খরচায় ৩টি উইকেট পান জাইমুল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর : কলাবাগান ক্রীড়া চক্র : ৫০ ওভারে ২৫৩/৩ (করিম ৭৯, ফয়সাল ৪, আশরাফুল ১০২*, মুনিম ৩৫, ফারুক ২৮*;  সোহরাওয়ার্দী ২/৫৩, খালেদ ১/৪৬, শাখাওয়াত ০/৩২, কাপালী ০/৪৭, রানা ০/১৯, সাদাত ০/৩২, মাইশুকুর ০/২৩)।

ব্রাদার্স ইউনিয়ন : ৪৪.৩ ওভারে ২৫৩/৪ (মিজানুর ১১৫, জুনায়েদ ১৬, মাইশুকুর ১৬, কাপালী ২৭, ইয়াসির ৪৫, সাদাত ৩২; মুক্তার ১/৪৯,  রেজাউল ০/২৯, আশরাফুল ০/১৯, সঞ্জিত ০/২৪, জাইমুল ৩/৪৭, আসির ০/১৮, ফারুক ০/৬৩, ফয়সাল ০/৪)।

ফলাফল : ব্রাদার্স ইউনিয়ন ৬ উইকেটে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : মিজানুর রহমান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ