ঢাকা, শুক্রবার 21 September 2018, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সৌন্দর্য হারাচ্ছে সেন্টমার্টিন

ছবি: ডেইলী স্টার

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

বঙ্গোপসাগরে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ ও অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন পরিবেশ দুষণ এবং অত্যধিক পর্যটকের চাপে সৌন্দর্য হারিয় মৃতপ্রায় বলে সতর্ক করেছেন বিভিন্ন সরকারি সংস্থার পরিবেশ বিষয়ক কর্মকর্তারা।

রোববার কক্সবাজার বিভাগের জেলা সার্কিট হাউজে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা সেন্টমার্টিনের অনন্য বাস্তুসংস্থান এবং পরিবেশগত সংরক্ষণ সম্ভাবনা উল্লেখ করে এই প্রেক্ষাপটটি তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিবেশ বিভাগের পরিচালক ড. সুলতান আহমেদ বলেন, 'সেন্ট মার্টিন এখন ঢাকার ফার্মগেট ও গুলিস্তানের মতো হয়ে গেছে। এখানে এখন কাক ছাড়া আর কোনো পাখি দেখতে পাওয়া যায় না। অতিরিক্ত ময়লা আবর্জনা থাকায় কাক ঘোরাঘুরি করে।'

তিনি আরো বলেন, যদি পর্যটন এবং নির্মাণকাজের কারণে দূষণের বর্তমান হার অব্যাহত থাকে, তবে দ্বীপটি ডুবে যেতে দীর্ঘ সময় লাগবে না।'

পরিবেশ বিভাগের (পরিকল্পনা) পরিচালক মুহাম্মদ সোলেমান হায়দার তার গবেষণায় উল্লেখ করেন, দ্বীপটির অনন্য বাস্তুসংস্থানে পরিণত হতে শত শত বছর সময় লাগে। এর বাস্তুসংস্থানের মধ্যে রয়েছে ১৫৩ প্রজাতির সামুদ্রিক শৈবাল, ১৫৭ প্রজাতির সামুদ্রিক উদ্ভিদ, ৬৬ প্রজাতি প্রবাল, প্রভৃতি।

বক্তারা বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপে আট হাজার স্থায়ী বাসিন্দা এবং প্রতিদিন ভ্রমণে আসা প্রায় ১০ হাজার পর্যটকের কাছ থেকে বিশাল টোল আদায় করা হচ্ছে।

 'দ্বীপটি দুই থেকে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ ধারণ করতে পারে না। সঠিক পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করলে এই দ্বীপটিকে এখনো রক্ষা করা যেতে পারে,' যোগ করেনহায়দার।

দ্বীপটি রক্ষার জন্য সরকার মনোযোগী হলে কিছু কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সময় এসেছে বলে একমত প্রকাশ করেন সেমিনারের বক্তারা। অতীতে নেয়া অসংখ্য পদক্ষেপ কার্যকর হয়নি বলেও জানান তারা। 

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ফোরকান আহমেদ উল্লেখ করেন, ১৯৯৯ পর্যস্ত দ্বীপটি একটি পরিবেশগত জটিল এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। ২০০৯ সালে এই দ্বীপটি রক্ষার জন্য একটি মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, সকল প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সেন্টমার্টিন রক্ষার ব্যর্থতার দায়ভার অবশ্যই সরকারকে নিতে হবে। তবে এখনো কিছু আইনানুগ ব্যবস্থা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করে দ্বীপটি বাঁচানো যেতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।

কক্সবাজারের বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ কাউন্সিলের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু তিন বছরের জন্য সেন্টমার্টিনে পর্যটনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব দেন। সেসময়ে এটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং পর্যটন ও নির্মাণের কাজের নীতি নির্ধারণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা ও আইসিটির (এডিসি) অতিরিক্ত উপ কমিশনার আশরাফ হোসেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ