ঢাকা, মঙ্গলবার 3 April 2018, ২০ চৈত্র ১৪২৪, ১৫ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অটিজম আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াতে জনগণের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সোমবার ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ১১তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস ২০১৮ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অটিজম শিশু-কিশোর পরিবেশিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন -পিআইডি

সংগ্রাম ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অটিজম আক্রান্তদের সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ উল্লেখ করে জনগণকে পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা অটিজমে ভুগছে তাদের অবহেলা করবেন না। তারা আমাদের সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। অনেক সুস্থ মানুষ যা পারে না সেই সুপ্ত প্রতিভা তাদের রয়েছে। আমাদেরকেই সেই সুপ্তপ্রতিভাগুলি বিকশিত করার সুযোগ করে দিতে হবে। আর সমাজে তাদের একটা সুন্দর স্থান করে দিতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ১১তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন।
সুস্থ মানুষকে যেভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে তেমনি যারা প্রতিবন্ধী এবং অটিজমে ভুগছে তাদের প্রতি আমাদের সমাজকে আরো সচেতন হবার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। কারণ এটা তাদের জন্মের কোন দোষ নয়, আল্লাহতো মানুষকে বিভিন্নভাবেই সৃষ্টি করেন। কাজেই সেটাকে অবহেলার চোখে দেখা ঠিক নয়। তাই সমাজের সচেতনতা একান্তভাবেই প্রয়োজনীয়।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাচ্ছি অভিভাবক এবং শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে যাতে তারা আচার আচরণ, কথা বলা ইত্যাদির মাধ্যমে অটিজমে আক্রান্তদের সুস্থ করতে ভূমিকা রাখতে পারেন। অর্থাৎ শিক্ষকরাও পারবে তাদেরকে আরো সুস্থ করে তুলতে। তাদের মধ্যে সেই সচেতনতাটা সৃষ্টি করা একান্তভাবেই দরকার। সেটাই আমরা চাই।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. মোজাম্মেল হোসেন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। সমাজকল্যাণ সচিব জিল্লার রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন।
অটিজম আক্রান্তদের পক্ষে নবম শ্রেণির ছাত্রী ইসাবা হাফিজ সুষ্মী বক্তৃতা করেন।
বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে গতকাল সোমবারের দিনটি অটিজম সচেতনতা দিবস হিসেবে ‘নারী ও বালিকাদের ক্ষমতায়ন, হোক না তারা অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন’ শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে পালিত হয়।
অটিজম আক্রান্ত এবং প্রতিবন্ধীদের জীবন মান উন্নয়নের নিমিত্তে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২ এপ্রিলকে সর্বসম্মতভাবে অটিজম সচেতনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিভার স্বীকৃতি স্বরূপ তিনজন অটিজম আক্রান্তকে এবং অটিজম সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করেন।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সদস্য ইসাবা হাফিজের বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমি যখন ইসাবার বক্তৃতা শুনছিলাম তখন খুব কষ্ট হচ্ছিল। এই মানসিকতা পরিবর্তন করে সবাইকে বরং আরো সংবেদনশীল হয়ে, আরো সহানুভতিশীল হয়ে এদেরকে (অটিজম আক্রান্তদের) আদর-ভালোবাসা দিয়ে কাছে টেনে নিতে হবে। আর তাদের মাঝে যে সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে সেই সুপ্ত প্রতিভাকে জাগিয়ে তুলতে হবে।
অটিজম বিষয়ে মানুষকে সচেতন করে তুলতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে অটিজম বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপার্সন তার কন্যা সায়মা ওয়াজেদের কথা উল্লেখ করে বলেন, আগে বাংলাদেশে অটিজম সম্পর্কে মানুষের তেমন কোন ধারণা ছিল না। আমার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ-এর নিরলস প্রচেষ্টায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে অটিজম-এর গুরুত্ব ও সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী পরে অটিজম আক্রান্তদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করেন।
বাংলাদেশ কোড-এর মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সোমবার তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠকের পূর্বে বাংলাদেশ কোড-এর মোড়ক উন্মোচন করেছেন।
মন্ত্রিপরিষদের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এন এম জিয়াউল আলম বলেন, এটি ৪২টি খন্ডে এই অঞ্চলের ১৭৯৯ সাল থেকে ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত আইনের ধারাবাহিক প্রকাশনা (ক্রোলজিকেল এন্ড সিরিয়াল)। বাংলাদেশ ল’স ডিভিশন এন্ড ডিক্লারেশন এক্ট- ১৯৮৩ এর আওতায় সরকার বাংলাদেশ কোড প্রকাশ করল। জিয়াউল হক জানান, সরকার ১৯৮০ সালে প্রথম ১২টি খন্ডে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত আইনসমূহের বাংলাদেশ কোড প্রকাশ করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ