ঢাকা, মঙ্গলবার 3 April 2018, ২০ চৈত্র ১৪২৪, ১৫ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রথম দিন অনুপস্থিত ১৩৭১৮ বহিষ্কার ৯৬

গতকাল সোমবার থেকে শুরু হয়েছে দেশব্যাপী এইচএসসি, আলীম ও সমমানের পরীক্ষা -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : এইচএসসি, আলিম ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন সারা দেশে ১৩ হাজার ৭১৮ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল; বহিষ্কার হয়েছেন ৭ জন পরিদর্শক ও ৮৯ পরীক্ষার্থী। এ দিকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাকে নকলমুক্ত ও প্রশ্নফাঁসমুক্ত করতে ‘মানুষের পক্ষে’ যা যা করা সম্ভব, তার সবই করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। পরীক্ষার প্রথম দিন সকালে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
গতকাল সোমবার এইচএসসিতে বাংলা প্রথমপত্র, সহজ বাংলা প্রথমপত্র, বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি প্রথমপত্র এবং ডিআইসিএসে বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষা হয়েছে। আর মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে কুরআন মাজিদ এবং কারিগরি বোর্ডে এইচএসসি ভোকেশনালে সকালে বাংলা-২ (সৃজনশীল নতুন/পুরাতন সিলেবাস) ও বিকালে বাংলা-১ (সৃজনশীল নতুন/পুরাতন সিলেবাস) পরীক্ষা হয়েছে।
এছাড়া কারিগরির ব্যবসায় ব্যবস্থাপনাতে সকালে বাংলা-২ (নতুন সিলেবাস) ও বাংলা-২ (পুরাতন সিলেবাস) এবং বিকালে বাংলা-১ (সৃজনশীল নতুন সিলেবাস) ও বাংলা-১ (সৃজনশীল পুরাতন সিলেবাস) এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্সে সকালে হবে বাংলা-২ এবং বিকালে বাংলা-১ (সৃজনশীল) বিষয়ের পরীক্ষা হয়েছে।
প্রথম দিন ঢাকা বোর্ডে ২ হাজার ৪৮৯ জন, রাজশাহীতে ১ হাজার ২৫৬ জন, কুমিল্লায় ১ হাজার ১৯ জন, যশোরে ১ হাজার ৬১ জন, চট্টগ্রামে ৯৯৮ জন, সিলেটে ৭০৬ জন, বরিশালে ৬৫১ জন এবং দিনাজপুর বোর্ডে ১ হাজার ৬৩ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল।
এছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডে ২ হাজার ৪৮৬ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ১ হাজার ৯৮৯ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
অন্যদিকে নকলের দায়ে কারিগরি বোর্ডে ৩২ জন, মাদ্রাসা বোর্ডে ৪০ জন, ঢাকা বোর্ডে ৭ জন, বরিশালে ৬ জন, দিনাজপুরে ২ জন এবং যশোর ও সিলেট বোর্ডে একজন করে পরীক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছেন। এছাড়া সিলেট বোর্ডে ৪ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ৩ জন পরিদর্শককে বহিষ্কার করা হয়েছে। বাংলাদেশের দুই হাজার ৫৪১টি কেন্দ্রে সোমবার একযোগে শুরু হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা, যাতে অংশ নিচ্ছেন ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ জন শিক্ষার্থী।
এ দিকে প্রথম দিন সকালে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নানাভাবে প্রতিদিনই নতুন নতুন সমস্যা হয়ত যুক্ত হচ্ছে। আমাদের জানার মধ্যে যা যা আছে বা আপনারা (সাংবাদিকরা) আমাদের যা জানিয়েছেন, এই সবকিছু মোকাবেলা করে পরীক্ষা নকলমুক্ত বা প্রশ্নফাঁসমুক্ত বা যে কোন ধরনের সমস্যামুক্ত করবার জন্য মানুষের পক্ষে যা করা সম্ভব, আমাদের এই বাস্তবতায় সবই করেছি।
গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস এখন মহামারির পর্যায়ে চলে যাওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কড়াকড়ির মাত্রা বাড়িয়েছে।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। পরে তার উপস্থিতিতে সিকিউরিটি টেপ খুলে প্রশ্ন বের করা হয়।
সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরুর পর বারান্দা দিয়ে ঘুরে বিভিন্ন কক্ষের পরিস্থিতি দেখেন মন্ত্রী। পরে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
এত কড়াকড়ির পরও যদি প্রশ্নফাঁস হয় তাহলে দায় কে নেবে- এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করছি প্রশ্নফাঁস হবে না। যদি হয়, যিনি করবেন তাকেই দোষী করব।
 কোন দুর্বলতার কারণে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে জানতে চাইলে আবারও ‘মানুষের সাধ্যের মধ্যে’ সব ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন নাহিদ। তিনি বলেন, ক্রিমিনালরা কত ধরনের পথ বের করতে পারে সে তো আমরা এখনও জানি না। তবে যা ব্যবস্থা নিয়েছি তাতে সম্ভব হবে না।
এবার এসএসসিতে প্রায় সব বিষয়ের প্রশ্ন পরীক্ষার আগের রাতে বা পরীক্ষার দিন সকালে ফাঁস হয়ে সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে সেসব প্রশ্ন এবং ফাঁসকারীদের ফেইসবুকের তথ্য কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হলেও কোনো পরীক্ষা বাতিল করা হয়নি।
ওইসব ফেসবুক পেইজ বা গ্রুপ বন্ধ হচ্ছে না কেন জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা বিটিআরসিকে সঙ্গে সঙ্গে তথ্যগুলো জানিয়ে দিই। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিশেষভাবে কাজ করছে এগুলা নিয়ে, আমরাও সব জানি না, জানার দরকারও নেই। এ ধরনের প্রশ্নফাঁসের কাজে যারা নিয়োজিত আছেন তাদের ধরার জন্য সকলের সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতা দরকার।
তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠতেই পারে। যে কেউ চাইলেই অভিযোগ করতে পারেন। আমাদের কাজ গোঁড়ায় গিয়ে দেখা এটা সত্য কি সত্য না। শাস্তির ব্যবস্থা আইনানুসারে যেখানে যা প্রযোজ্য তাই গ্রহণ করব। এতে কোনো সন্দেহ নাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ