ঢাকা, মঙ্গলবার 3 April 2018, ২০ চৈত্র ১৪২৪, ১৫ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিএনপির ৪ নেতাকে গ্রেফতার কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না

স্টাফ রিপোর্টার : সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা লঙ্ঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিএনপির চার নেতাকে জবরদস্তিমূলকভাবে গ্রেপ্তার কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট। বিরোধী দলের এই চার নেতাকে গ্রেপ্তারে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে গতকাল সোমবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী এবং বিচারপতি আশরাফুল কামালের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেয়। চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, ডিএমপির রমনা জোনের উপ কমিশনার, গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর জোনের অতিরিক্ত কমিশনার, দক্ষিণ জোনের উপ কমিশনার, রমনা জোনের অতিরিক্ত উপ কমিশনারসহ ১৪ বিবাদীকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গত ২৯ মার্চ হাই কোর্টে আবেদনটি করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।
আদালতে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এহসানুর রহমান ও মীর হেলাল। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।
শুনানিতে আদালত বলেন, কোন নাগরিককে আটকের ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের দেয়া নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। আদালত বলেন, দেশের কোন নাগরিককে আটকের সময় আদালতের নির্দেশনা অনসরণ করা হচ্ছে কি না, কিংবা আটকের পর তাদের উপর অমানবিক নির্যাতন করা হচ্ছে কি না এবং গ্রেফতার ও রিমান্ডের ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের দেয়া নির্দেশনা অনুরসরণ করা হচ্ছে কি না তা আমরা দেখব’।
শুনানীকালে ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু আদালতকে বলেন, কিভাবে প্রমাণ হবে যে তারা অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
জবাবে ব্যরিস্টার মওদূদ আহমেদ বলেন, আলাল ও শফিউল বারীকে প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিয়ে গ্রেফতারের পর নির্যাতন, পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনে আটক ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন মিলনের মৃত্যুর ঘটনাটিই বড় প্রমাণ। এ থেকে আর কি বড় প্রমাণ থাকতে পারে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুকে ৬ মার্চ, ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম মিজানুর রহমানকে ৮ মার্চ, সহ সভাপতি জাকির হোসেন মিলনকে ৬ মার্চ সাদা পোশাকে থাকা পুলিশ সদস্যরা গ্রেপ্তার করে। তাদের সবাইকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের সময় গ্রেপ্তার করা হয়।
খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে সমাবেশ করতে না দেওয়ার প্রতিবাদে কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচির দিন নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে সাবেক সংসদ সদস্য আলালকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ।
বাবু ও মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয় ৬ মার্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে। তার দুদিন পর একই স্থানে অবস্থান কর্মসূচি পালনের সময় মিজানকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে  যায় পুলিশ। মিলনকে শাহবাগ থানার এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছিল পুলিশ। ১২ মার্চ তার মৃত্যুর খবর আসে। পুলিশ দাবি করে, এই ছাত্রদল নেতা অসুস্থ হয়ে মারা যান।
ব্যারিষ্টার মওদুদ সাংবাদিকদের বলেন, মিলনের উপর অসম্ভব অত্যাচার করা হয়, পরে তার মৃত্যু হয়েছে। আমাদের আপিল বিভাগের একটি রায় আছে কীভাবে গ্রেপ্তার করতে হবে, রিমান্ডে নেওয়ার ব্যাপারে অনেকগুলো বিষয় আছে। যেটা সকলের প্রশাসনের জন্য বাধ্যতামূলক। খুবই পরিচ্ছন্ন এবং সুদূরপ্রসারী রায়। এই চারজনকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া ‘সম্পূর্ণভাবে আইন ও সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পরিপন্থি’, বলেন সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ।
রুলের পর আগামী ১ আগস্ট আবেদনটির পরবর্তী শুনানির দিন আদালত নির্ধারণ করেছে বলে জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ