ঢাকা, মঙ্গলবার 3 April 2018, ২০ চৈত্র ১৪২৪, ১৫ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জনস্রোত তৈরী হলে আগামী নির্বাচনে গণেশ উল্টে যেতে বাধ্য -ডা. জাফরুল্লাহ

স্টাফ রিপোর্টার : মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী খুব বুদ্ধিমতি। তার পিছনে রয়েছে ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তি। এই শক্তিকে খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নেই। সুতরাং ভারত থেকে আমাদের সকলকে সাবধানে থাকতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপিকে সকল শক্তির সমন্বয়ে জাতীয় ঐক্যমঞ্চ করে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে মোকাবেলা করতে হবে। যদি জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা যায় তাহলে জনতার স্রোত তৈরী হতে বাধ্য। আর জনতার স্রোত তৈরী হলে আগামী নির্বাচন যেভাবেই হোক গণেশ উল্টে যেতে বাধ্য।
 গতকাল সোমবার তোপখানায় বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ মিলনায়তনে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত ‘সুশাসন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র কোন পথে’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
 ডা: জাফরুল্লাহ বলেন, আজকের স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ কোন এক দল বা এক ব্যক্তির অবদান নয়। এই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় যার যে অবদান তাকে তার স্বীকৃতি দিতে হবে। তার প্রাপ্য মর্যাদা দিতে হবে। যারা বলেন জিয়াউর রহমানকে তারা চিনেন না, মুক্তিযুদ্ধে তাদের অংশগ্রহণ ও অবদান প্রশ্নবিদ্ধ। তাদের মনে রাখা উচিত ১৯৭১ ২৬ মার্চের পর জাতি জিয়াউর রহমানকেই চিনতো, তাদের নয়।
 তিনি বিএনপি ও ২০ দলের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের জনগনের সামনে ওয়াদা করতে হবে আগামীতে আপনারা ক্ষমতায় গেলে জাতীয় সরকার গটন করবেন। স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের বীর মওলানা ভাসানী, সৈয়দ নজরুল, তাজউদ্দিন, জেনারেল ওসমানীসহ সকলকে দলীয় সংকীর্ণতার উর্দ্ধে উঠে মর্যাদা প্রদান করবেন। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সঠিক তালিকা প্রনয়ন করবেন।
এই বুদ্ধিজীবি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার একমাত্র দাবিদার সরকার যখন শহীদদের তালিকা প্রণয়ন করতে পারে নাই তখন আর তাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ব্যবহার করা ঠিক না। সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ব্যবহার করে অবৈধ ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। তারা ঘুষ আর দুর্নীতির মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাচ্ছে।
 তিনি আরও বলেন, সরকারি টাকা ব্যবহার করে ভোট চাওয়া অন্যায় ও অনৈতিক। প্রধানমন্ত্রী যখন বলেন ভোট চাওয়া তার রাজনৈতিক অধিকার তখন জানতে ইচ্ছে করে তিনি কি ভুলে গেছেন সভা-সমাবেশ করা বিরোধী দলের রাজনৈতিক অধিকার? তিনি নিজের অধিকারের কথা বলেন অথচ অন্যের অধিকারের কথা ভুলে যান কেন?
 আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইফ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষায় জাতীয় ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। সরকার মনে করছে শুধু তাদেরই সময়। কিন্তু, তারা ভুলে গেছে সময় কখন কার আসে কেউ বলতে পারে না। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও গতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।
নেতাকর্মীদের হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ২১ বছর পর যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারে মাত্র ১০ বছর বিএনপি ক্ষমতায় নেই তাতে কি হয়েছে? এই দল (বিএনপি আবার ক্ষমতায় আসবে।
এসময় তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, ক্ষমতার বাহিরে থেকেও বিএনপি আরও শক্ত হচ্ছে, তারেক রহমান লন্ডনে বসে আরও শক্ত হচ্ছেন। আমরা হয়তো থাকবো না; সুখের সংসার আপনারই করবেন। বাংলাদেশে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান রহমানের নেতৃত্বে সরকার ও হবে গণতন্ত্র ও হবে। ভোট কেন্দ্রে মা বাবারা গিয়ে ভোট দিতেও পারবেন।
লেবার পার্টি চেয়ারম্যান এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাতীয় দল চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, লেবার পার্টি মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী, এনডিপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, কল্যাণ পার্টি ভাইস চেয়ারম্যান সাহিদুর রহমান তামান্না, দেশবাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কেএম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ