ঢাকা, মঙ্গলবার 3 April 2018, ২০ চৈত্র ১৪২৪, ১৫ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এটি আসলে জাতি গঠনের কাজ

আসলেই একজন ভালো মা একটি ভালো জাতি গঠন করে দিতে পারেন, সভ্যতাও। কারণ জাতি তো অনেকগুলো মানুষের সমষ্টি। আর প্রত্যেকটি মানুষকে জন্ম দিয়ে থাকেন মা। মায়ের কোলেই শিশুর বেড়ে ওঠা। মা শিশুকে কথা বলতে শেখান, দেখতে শেখান, ভালো-মন্দ উপলব্ধি দেন। শিশু ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠে, মাও ধীরে ধীরে তার মধ্যে গড়ে তোলেন জীবনদৃষ্টি এবং মূল্যবোধ। শিশুর এই যে সচেতন পরিগঠন, এটাই আসলে জাতি গঠনের পাটাতন, যাকে আমরা বলতে পারি জাতি গঠনের ভিত্তি। পৃথিবীর বিভিন্ন জনপদে এমন ভিত্তি রচিত হলে আমরা পেতে পারি কাক্সিক্ষত সেই বিশ্ব।
বর্তমান পৃথিবীর তথা সভ্যতার যে হাল, তাতে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে অন্যরা যেভাবে ব্যর্থ হচ্ছেন, শিশু পরিগঠনের ক্ষেত্রে মায়েরাও সেভাবে ব্যর্থতার নজির স্থাপন করে যাচ্ছেন। ফলে আমাদের সভ্যতার সংকট কাটছে না। এই সংকটের মধ্যেও আমরা আশাবাদী হতে চাই। কারণ আশাবাদই মানুষকে, পৃথিবীকে এখনো টিকিয়ে রেখেছে। আর আশাবাদী হওয়ার মত উদাহরণ যে একেবারে নেই, তা কিন্তু নয়। প্রসঙ্গত এখানে কানাডার অন্টারিও প্রদেশের এক মায়ের কথা উল্লেখ করতে চাই। স্কুলবাসের চালকের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারের কারণে নিজের দুই সন্তানকে সাত কিলোমিটার পথ হাঁটিয়ে স্কুলে পাঠিয়েছেন তিনি।
এই সাত কিলোমিটার কিন্তু বাংলাদেশের মত ৭ কিলোমিটার নয়। কানাডার বর্তমান আবহাওয়ার কথা মাথায় রাখলেই বোঝা যায়, এই সাজা মোটেই সহজ কোনো সাজা নয়। কারণ দেশটিতে তখন তুষারপাত হচ্ছিল। ঠা-ায় কুঁকড়ে যাওয়ার মত অবস্থা বড়দের। শিশুদের অবস্থা তো আরো নাজুক। এখন জানার বিষয় হলো, শিশু দু’টির অপরাধ কী ছিল? স্কুলের বাসচালকের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করার বিষয়টি শিশু দু’টির মাকে জানিয়েছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। এরপরই অভিনব কায়দায় সন্তানদের সাজা দেন তিনি। ফেসবুকে সন্তানদের সেই ছবি পোস্ট করে ওই মা লিখেছেন, ‘আমার বাচ্চারা তাদের স্কুলের বাসচালকের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছিল। স্কুলের পক্ষ থেকে ঘটনাটি জানানো হয়। তাই তাদের ৭ কিলোমিটার হাঁটিয়ে স্কুলে নেয়া হয়। কারণ, স্কুলের বাস তাদের আর না নিলে প্রতিদিন কতক্ষণ হাঁটতে হবে, সেটা বোঝা দরকার তাদের।’ তিনি আরও লিখেছেন, দুই ঘণ্টা হাঁটার পর বাস্তবতা বুঝতে পেরেছে তারা। মায়ের সাজার কারণে বাস্তবতা বুঝতে পারলো শিশু দু’টি। এ কারণে তারা এই বার্তাটিও শৈশবে পেয়ে গেল যে, খারাপ ব্যবহার করা একটি অপরাধ এবং এজন্য শাস্তিও পেতে হয়। এমন অভিজ্ঞতা ওই শিশুদের যে কোনো অপরাধ থেকে দূরে রাখবে বলে আশা করা যায়। আর এ ঘটনা থেকে এই বিষয়টিও উপলব্ধি করা যায় যে, মা শিশু দু’টিকে ভালোবাসেন বলেই শৈশব থেকেই ওদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। শিশু পরিগঠনের এমন কাজ আসলে জাতি গঠনেরই কাজ, বলা যেতে পারে আসল ভিত্তি। কিন্তু ভিত্তি গঠনের এই কাজটি কতজন মা করছেন, কতজন অভিভাবক করছেন? করছেন না বলেই আমরা কাক্সিক্ষত সমাজ ও দেশ পাচ্ছি না, পাচ্ছিনা সভ্য পৃথিবীও। তাই আবারও ওই কথাটি উচ্চারণ করতে হয়, ‘পশু-পাখি সহজেই পশু-পাখি, কিন্তু মানুষ সহজে মানুষ নয়।’ তাই মানুষ গড়ার কঠিন কাজটির দিকে এখন ব্যক্তি মানুষের এবং সভ্যতার নজর দেয়া প্রয়োজন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ