ঢাকা, মঙ্গলবার 3 April 2018, ২০ চৈত্র ১৪২৪, ১৫ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মুসলিম আগ্রাসনের হাতিয়ার

সিরাজাম মুনিরা ঝুমানা : পহেলা বৈশাখ। বাংলা সনের প্রথম দিন। আবহমান কাল থেকেই অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণে বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনে এ দিনটি বেশ গুরুত্ব বহন করে  আসছে। কিন্তু বর্তমানে এ দিবসকে কেন্দ্র করে হৈ-হুল্লোড় আনন্দ উচ্ছাসের এক মহা উৎসবে যেন ভেসে যাচ্ছে গোটা দেশ। সমগ্র দেশের মানুষ চেতন বা অবচেতন চিত্তে এই দিনে ভিন্ন সংস্কৃতির চর্চায় বার বার নিজেদের বিলীন করে ফেলছে। ইসলাম ও মুসলিমবিদ্বেষী একটি গোষ্ঠী উৎসবের নামে পরিকল্পিতভাবে এই অপসংস্কৃতি চাপিয়ে দিয়েছে মুসলমানদের  উপর।
ইতিহাসের পাতা থেকে : ১৫৫৬ সালে শুরু হয়েছিল বাংলা সনের প্রবর্তন। মুঘল সম্রাট জালালউদ্দিন মুহাম্মদ আকবরের সিংহাসনে আরোহণের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে তার রাজস্ব কর্মকর্তা আমির ফতেহউল্লাহ সিরাজী প্রথম ১৫৫৬ সালে উৎসব হিসেবে বৈশাখকে পালন করার নির্দেশ দেন। একই ধারাবাহিকতায় ১৬০৮ সালে মুঘল স¤্রাট জাহাঙ্গীরের নির্দেশে সুবেদার ইসলাম খাঁ চিশতি ঢাকাকে যখন রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলেন তখন থেকেই রাজস্ব আদায় ও ব্যবসা- বাণিজ্যের হিসাব-নিকাশ শুরু করার জন্য বাংলা বছরের পয়লা বৈশাখকে উৎসবের দিন হিসেবে পালন করা শুরু করেন। ঐতিহাসিক তথ্যে আছে যে, সম্রাট আকবরের অনুকরণে সুবেদার ইসলাম চিশতি তার বাসভবনের সামনে সব প্রজার শুভ কামনা করে মিষ্টি বিতরণ এবং বৈশাখ উৎসব পালন করতেন। সেখানে সরকারি সুবেদার থেকে শুরু করে জমিদার, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত থাকত এবং প্রজারা খাজনা নিয়ে আসত।
আমাদের  বাংলাদেশের প্রথম বাংলা সন ১৩৭৩ সালের ১লা বৈশাখ, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্র সভাপতিত্বে ১৯৬৬ সনের ১৭ ফেব্রুয়ারী বাংলা একাডেমীতে অনুষ্ঠিত “বাংলা পঞ্জিকা সংস্কার উপ- কমিটির” বৈঠকে বাংলা সন পালনের  সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ভারতবর্ষে একমাত্র বাঙালী মুসলমানেরাই বাংলা সন গ্রহণ করে।
কিন্তু  ১৯৬৪ সালে কিছু রবীন্দ্রপ্রেমীর উদ্যোগে “ছায়ানটের” পৃষ্ঠপোষকতায় ‘পহেলা বৈশাখ’ এদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পরিচিতি পায়। অন্যদিকে বহুজাতিক কোম্পানীগুলোর  ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করার সুযোগেও এ দিবস ব্যাপক প্রচারণা পায়।
রাজধানী ঢাকায় তিন দশক আগে পটুয়া কামরুল হাসান নিজে ঢোল বাজিয়ে গ্রামীণ মেলার আদলে প্রথম বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) পৃষ্ঠপোষকতায় বৈশাখী মেলা শুরু করেন বাংলা একাডেমীর সবুজ চত্ত্বরে। সেই থেকে শুরু হয় পহেলা বৈশাখের তথাকথিত সার্বজনীনতার প্রথম পদযাত্রা।
বৈশাখী সংস্কৃতির বিকৃত রূপ : অতীতে বাংলা নববর্ষের মূল উৎসব ছিল হালখাতা। এটি পুরোপুরিই একটি আর্থ- সামাজিক ব্যাপার ছিল। ধীরে ধীরে বৈশাখী মেলা ও পান্তা - ইলিশ খাওয়ার রীতি চালু হয়। কিন্তু বাংলাদেশের লেখক-চিন্তকেরা জানান, সংস্কৃতি ঐতিহ্যের দিক দিয়ে বৈশাখ উদযাপনের সাথে এই খাবার দু’টির কোনো যুক্তি খুঁজে পাননি তারা। বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হতে ব্যবসায়ীরা শহুরে নাগরিকদের কাছে পান্তা- ইলিশকে বাঙালি সংস্কৃতির অংশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। অধ্যাপক যতীন সরকার বলেন, ‘পান্তা- ইলিশকে বৈশাখের উপলক্ষ্য করা বানোয়াট ও ভন্ডামির অংশ। এসব উদ্যোগ যারা নিয়েছে তারা সংস্কৃতিচোর।’ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী তার এক লেখায় বলেন, ‘গরিব মানুষের খাবার পান্তাভাত। রাতের ভাত নষ্ট হওয়া থেকে ভালো রাখার জন্য ভাতে পানি দিয়ে ভাতকে ভালো রাখে। কিন্তু বড়লোকেরা আয়েশ করে সকালে পান্তা - ইলিশ খাওয়া মানে গরিবদের সাথে উপহাস করা।’
আবার বৈশাখী মেলাকে ঘিরে চলছে সংস্কৃতি চর্চার নামে অপসংস্কৃতির নোংরা পাঠ। অশ্লীলতা, বেহায়াপনা ও নগ্নতার চলে মিছিল। ভিনদেশী সংস্কৃতি আর গানের উল্লাসে মেতে ওঠে তরুণ-তরুণীরা। নববর্ষকে বরণ করতে আমরা নিজেরাই বানিয়ে নিয়েছি মনগড়া কিছু কৃষ্টি, যা আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নিক্ষেপ করেছে অসভ্যতার আঁস্তাকুড়ে।
বিকৃতি থেকে সাংস্কৃতিক গোলামী : বর্তমানে বর্ষবরণ উৎসবকে পুঁজি করে একটি মহল আমাদের মুসলিম জাতিসত্ত্বা ধ্বংসের নানামুখী অপচেষ্টা চালাচ্ছে। উৎসবের নামে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের আচার - অনুষ্ঠানাদি আমাদেরকে তাদের  সাংস্কৃতিক  গোলামে পরিণত করেছে। নববর্ষের বর্তমান ধারা নিম্নরূপ-
নতুন বছরের আগমনের সাথে কল্যাণের সম্পর্ক স্থাপন এবং পুরোনো বছরের অকল্যাণকে দূরীভূত করার নামে তথাকথিত মঙ্গল শোভাযাত্রা চালুকরণ।
কথিত মঙ্গলশোভাযাত্রার নামে প্রতিবেশী একটি দেশের বিশেষ গুরুত্বসম্পন্ন্ মূর্তি / প্রতীকের প্রচারণা চালানো হয়। যেমন- পুরাণের রামের সহচর হনুমান, তথাকথিত শুভাগমনের প্রতীক পেঁচা, শিবের বাহন ক্ষ্যাপা ষাঁড়, দূর্গার বাহন বাঘ/ সিংহ, লক্ষীর বাহন রাজহাঁস, ভারতের জাতীয় প্রতীক ময়ূর, হিন্দুদের পূজ্য গণেশ (হাতির প্রতীকরূপে) ও সূর্যদেবতা সহ রঙিন জীবজন্তুর মুখোশে মুখ ঢেকে, রাধা-কৃষ্ণের  যুগলরূপ ধারণ করে  মিছিল বের করা হয়।
সম্প্রতি দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কথিত মঙ্গলশোভাযাত্রা বাধ্যতামূলক করা ও  ইউনেস্কো কর্তৃক মঙ্গলশোভাযাত্রাকে ( মঙ্গল শোভাযাত্রায় যে ‘যাত্রা’ শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে, তারও  উৎপত্তি হয়েছে একটি বিশেষ ধর্মীয় অর্থ থেকে। উইকিপিডিয়ায় (ইংরেজী)বলা হয়েছে ‘যাত্রা’ শব্দটি ব্যবহৃত হয় হিন্দুদের কোন ধর্মীয় কার্যে গমন অর্থে) অন্যতম বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করার মাধ্যমে মুসলিমপ্রধান বাংলাদেশের প্রকৃত পরিচয়কে ক্ষুণœ করার পাঁয়তারা চলছে।
এছাড়াও বর্তমানে প্রতিটি গ্রাম পর্যায়ে কথিত মঙ্গলশোভাযাত্রা চালু করার সিদ্ধান্ত  নেয়া হচ্ছে যার ফলে পরিকল্পিতভাবে প্রতিবেশী দেশের বাংলাভাষী হিন্দু জনগোষ্ঠীর কুসংস্কারাচ্ছন্ন সংস্কৃতি বাঙালীয়ানার নামে এদেশের মুসলিম জনসাধারণের বিশ্বাস ও সংস্কৃতিতে অনুপ্রবেশ ঘটানো সহজতর হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশিষ্টজনেরা।
পহেলা বৈশাখ উদযাপনের নামে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের আবশ্যিক পালনীয় ধর্মীয় উৎসবের (চৈত্রসংক্রান্তি ও বৈশাখী উৎসবের) বেশভুষা, সাজসজ্জা গ্রহণ ও সবধরনের আচার অনুষ্ঠান যেমন- “শাঁখা-সিঁদুরের রঙ লাল-সাদা” রঙের পোষাক প্রচলন, মঙ্গল প্রদীপ জ্বালানো,ঢাক-ঢোল, শঙ্খধ্বনি ও কাঁসার ঘন্টা বাজানো, উলুধ্বনি দেওয়া, হিন্দু-ভজন সঙ্গীত গাওয়া, চন্দন তিলক পরা, তরুণ -তরুণীদের রাখী বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এবং উদ্দাম নৃত্য সম্বলিত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা।
পহেলা বৈশাখের আধুনিকায়নের নামে কনসার্ট ও বিভিন্ন উৎসব-
 অনুষ্ঠানের আয়োজন করার মাধ্যমে বিজাতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন জোরদার করার হীন ও প্রচেষ্টা চলছে।
বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, যে ভারতে ‘পহেলা বৈশাখ’ উদ্ভাবিত হয়েছে  সেখানে এমনকি পশ্চিমবঙ্গেও পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে এত মাতামাতি নেই। অথচ তাদেরই আদর্শের  অনুকরণে উৎসব পালনের মাধ্যমে আমাদের  সমাজে নিদারুণ বিভক্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং আমাদের  ধর্মবিশ্বাসেও আঘাত করা হচ্ছে। আমাদের শিশু ও তরুণ সমাজ এক ধরণের মিশ্র ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিশ্বাস নিয়ে বেড়ে উঠছে। দেশের সম্ভাবনাময়ী ভবিষ্যৎ কর্ণধারদেরকে এভাবেই সুকৌশলে দিকভ্রান্ত করা হচ্ছে। একটি জাতীয় উৎসবে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে, বিভিন্ন দেবতা ও প্রাণীর প্রতিমূর্তি সদৃশ মুখোশ নিয়ে প্রদক্ষিণ করে কিংবা মুসলিম - বিশ্বাস বিরোধী  ভিন্ন আদর্শের শ্লোগান দিয়ে আনন্দ-উল্লাস করলে ধর্মনিরপেক্ষতা বা অসম্প্রদায়িক আচরণ কি লঙ্ঘন হয় না? ধর্মীয় বিশ্বাস, আচার, সংস্কার, জীবন সংক্রান্ত মানুষের পার্থক্যকে সার্বজনীন করার অপচেষ্টায় বিলীন হয়ে গেলে নিজের স্বাতন্ত্রবোধ, মূল্যবোধ কি বিনষ্ট হয় না? নিজের কৃষ্টি সংস্কৃতির সঙ্গে অন্যের নিত্যপালনীয় কৃষ্টির অন্যায় সংমিশ্রণ নিজের পরিচয় ও মর্যাদাবোধকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য যথেষ্ট।
সাংস্কৃতিক ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে : সংস্কৃতি হলো জাতির মানসদর্পণ। যে দর্পণে প্রতিফলিত হয় সামগ্রিকভাবে গণমানুষের চিন্তাচেতনা তথা তাদের জীবন ও মূল্যবোধ। জাতির আচার-আচরণ, পোশাক-পরিচ্ছদ, আহার-বিহার থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের সাথে পরিপূরক যে চেতনা তার অন্য নামই সংস্কৃতি।
সংস্কৃতি আপন জাতিসত্তার পরিচয় তুলে ধরে। সংস্কৃতচর্চা মানুষকে মর্যাদা দেয়, পরিচিত করে , সমাদৃত করে। ভিনদেশী সংস্কৃতির পরিতোষক যারা, তারা কোনো সংস্কৃতি দিয়েই তাদের যাপিত জীবনকে পরিপূর্ণ করতে পারে না।
ইসলামের উৎসব হচ্ছে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। মুসলিম জীবনের আনন্দ - উৎসব আল্লাহ্র বিরুদ্ধাচরণ  ও অশ্লীলতায় নিহিত নয়, বরং তা নিহিত থাকে আল্লাহ্র দেয়া আদেশ পালন করতে পারার মাঝে। কেননা মুসলিমদের  আকাক্সক্ষার স্থান ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী নয় বরং চিরস্থায়ী জান্নাত। তাই মুসলিম জীবনের প্রতিটি কাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জড়িয়ে থাকবে তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ, তাদের ঈমান, আখিরাতের প্রতি তাদের অবিচল বিশ্বাস,আল্লাহ্র প্রতি ভয় ও ভালোবাসা। ইসলাম কেবল কিছু আচার- অনুষ্ঠানের সমষ্টি নয়,বরং তা মানুষের গোটা জীবনকে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অনুযায়ী বিন্যস্ত ও সজ্জিত করতে উদ্যোগী হয়।
অন্যদিকে  মুসলিম জাতিসত্ত্বার অস্তিত্বই দাবী করে পৌত্তলিকতা রূখে বিজাতীয় অপসংস্কৃতির সাথে সুস্পষ্ট সম্পর্কচ্ছেদ। অথচ একটি গোষ্ঠী অসাম্প্রদায়িকতা, সার্বজনীনতার ধোঁয়া তুলে আমাদের ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের ঈমান ধ্বংসের চেষ্টা চালাচ্ছে। মূলত, মুসলমানদের মধ্যে অপসংস্কৃতির প্রবেশ ঘটিয়ে তাদের ঐক্য বিনষ্ট করা এবং নির্যাতিত মুসলিম বিশ্বের (সিরিয়া, কাশ্মীর, ইরাক, ইরান, মিয়ানমার, সোমালিয়া)  প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ থেকে বিরত রেখে তাদেরকে দূর্বল করে ফেলার ইহুদী ও বিধর্মীদের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রেও অংশ এগুলো।কেননা,
“রাজনৈতিক গোলামীর চাইতে সাংস্কৃতিক গোলামী একটি মর্যাদাশীল জাতির জন্য অধিকতর বিপদ ও ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক গোলামীর বা স্বাধীনতার আগমন -  নির্গমন নির্ভর করে কোন বিশেষ ঘটনার উপর এবং হঠাৎ করেই তা ঘটে যেতে পারে। কিন্তু সাংস্কৃতিক গোলামীর আগমন ঘটে অত্যন্ত ধীর গতিতে এবং এ গোলামীর শিকল ছিন্ন করার জন্যও প্রয়োজন হয় এক দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রামের। মূলত ঃ সাংস্কৃতিক গোলামীর শিকল একবার কোন জাতির গলায় আটকে গেলে তা ছিন্ন করা বড় দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়।”
- বই : ইসলামী সংস্কৃতি, আসাদ বিন হাফিজ
শেষের কথা : রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক দিক দিয়ে স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশের সত্যিকার স্বাধীনতা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে হলে এদেশের সাংস্কৃতিক কাঠামোর নির্মান ও তা সুসংহত করা অত্যাবশ্যক। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ভিন্ন যেমন রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিরর্থক তেমনি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গোলামীও একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতির পক্ষে মেনে নেয়া সম্ভব নয়। ফলে স্বকীয় সাংস্কৃতিক চেতনা ও মুল্যবোধের উজ্জীবন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সংরক্ষণ ও তার বিকাশ সাধন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য অপরিহার্য।
তাই আসুন, তথাকথিত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার আড়ালে পহেলা বৈশাখ পালনের নামে মুসলিম চেতনাবিনাশী এই সুগভীর ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করি। আমরা সচেতন হই, নিজস্ব সংস্কৃতির শিকড় খুঁজে  নিয়ে আমাদের আবহমান ঐতিহ্যকে কলুষতা থেকে রক্ষা করি। আমাদের ভাষা, পোশাক, সাজ-সজ্জা, বিনোদন ও জীবনাচরণ, চিন্তা-চেতনাকে বিজাতীয় অপসংস্কৃতির প্রভাবমুক্ত করে শুদ্ধ মানুষ হই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ