ঢাকা, মঙ্গলবার 3 April 2018, ২০ চৈত্র ১৪২৪, ১৫ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ব্যস্ত সময় পার করছেন সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা

গাজীপুর থেকে মোঃ রেজাউল বারী বাবুল : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একাধিক সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রর্থীরা গণযোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত স্থানীয় বিভিন্ন চায়ের দোকান , সামাজিক ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং মসজিদ মাদ্রাসা সহ সম্ভব প্রায় সকল স্থানেই নতুন ও পুরাতন সকল প্রার্থীরাই গণযোগযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিভিন্ন জমায়েত ও আড্ডায় ভোটার,সমর্থকরাও নানা সমিকরণ মেলাতে ব্যস্ত সময় পার করছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিন বিকেলেই আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য দুই মেয়র প্রার্থী পৃথকভাবে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে আনন্দ মিছিল করেছে। মিছিল থেকে তারা ভোটারদের কাছে ভোট ও দোয়া চেয়েছেন। অপরদিকে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশীরা জানিয়েছেন তারা দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই নির্বাচনে অংশ নেবেন। মামলা ,হামলা ও সরকারি নানা চাপ ও হয়রানিতে বিপর্যস্থ বিএনিপ , জামায়াত সহ বিরোধী দলীয় নেতা কর্মীরা আরো জানান, বিপুল জনসমর্থন থাকার পরও বিরোধী দলের প্রার্থীদের জন্য এসকল চাপ সামাল দিয়ে নির্বাচনের মাঠে টিকে থাকই মূল চ্যালেঞ্জ হতে পারে। এই চাপ সামাল দিতে পারলে ভোটারদের রায়ও ক্ষমতাসিনদের বিপক্ষে যাবে বলে বিরোধীরা প্রায় নিশ্চিত। 

শনিবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তফসিল ঘোষণার পর সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে স্বাগত জানিয়ে বিকেলে টঙ্গীর চেরাগআালী এলাকায় গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ আজমত উল্লাহ খান ও সাধারণ সম্পাদক মো জাহাঙ্গীর আলম বোর্ডবাজার এলাকায় বিশাল মিছিল বের করে। বিগত কয়েক মাস যাবৎ ওই দুই নেতা নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে এলাকায় নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার কাজ শুরু করেছেন। আওয়ামীলীগের মেয়র পদে মনোনয়নের জন্য মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান ও সাধারণ সম্পাদক মো জাহাঙ্গীর আলম এ দ’ুজনই শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ থেকে মেয়র পদে মনোনয়ন প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আসাদুর রহমান কিরণ , মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল।

অন্যদিকে মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টি থেকে মেয়র পদে এখন পর্যন্ত কারও নাম শোনা না গেলেও সম্প্রতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু মহানগর জাসদ নেতা রাশেদুল হাসান রানাকে দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন। 

অপর দিকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বর্তমান মেয়র এম এ মান্নান সাংবাদিকদের জানান, আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি যতটুকু সম্ভব মানুষের আশা প্রত্যাশা পুরণ করার। আবার নির্বাচন হচ্ছে। এ অবস্থায় আমি মানসিক ভাবে এবং শাররিক ভাবে সম্পূর্ণরুপে প্রস্তুত আছি, এখন দলীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপার। আল্লাহ চাইলে এবং দল মনোনয় দিলে নির্বাচনে অংশ করবো। 

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি হাসান উদ্দিন সরকার জানান, গত নির্বাচনেও আমি প্রার্থী ছিলাম এবারো আশা পোষণ করি তবে নেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তবে তিনি আওয়ামীলীগের নির্বাচনী প্রচার প্রচারণার বিষয়ে উল্লেখ করে বলেন, তারা (আওয়ামীলীগ) যেভাবে প্রচার-প্রচারণা করতে পারে, তারা সেসব সুযোগ গ্রহণ করছে আমরা সেসব সুযোগ গ্রাহণ করতে পারিনা। বিএনপি দেশের একটি বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। কিন্তু এই দলের প্রতি যে আচরণ করা হচ্ছে, কর্মী ও নেতাদের প্রতি যে নিপিড়ন করা হচ্ছে তাতে সুষ্ঠু ভাবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণের ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেন। তবে খালি মাঠে আওয়ামীলীগকে ছাড় দেয়া হবে না বলেও তিনি জানান।

এছাড়া বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটর অন্যতম শরীক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের পক্ষে মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা এস এম সানাহ উল্লাহ মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে ফেসবুক সহ নানা সমাজিক যোগযোগ মাধ্যেমে প্রচার চালাচ্ছেন। সামাজিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। জাতীয় ও বিশেষ দিবসের জনসাধারণ ও মহানগরের ভোটারদের সুভেচ্ছা জানিয়ে তার পক্ষে ব্যপক ভাবে পোস্টার ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তাদের দাবি সরকারের নানা নিপিড়ন ও জুলুম নির্যাতের কারণে এবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীল ভোট ও সমর্থক অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত উপজেলা নির্বাচনই এর প্রমাণ। 

 রোববার গাজীপুর মহানগর উন্নয়ন পরিষদ আয়োজিত সিটি নির্বাচন প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য মেয়র প্রার্থী জননেতা অধ্যক্ষ এস এম সানাউল্লাহ বলেছেন, নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন না হয়ে পারছি না। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করতে না করতেই বিরোধীদলীয় প্রার্থীদেরকে নানারকম হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি প্রার্থী না হওয়ার জন্য অনেককে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যন্ত হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। পরিষদের সেক্রেটারি ও নির্বাচনী পরিচালক খায়রুল হাসানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও থানা প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় থানা পরিচালক খায়রুল হাসান সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আসন্ন সিটি নির্বাচনে বিজয় ছিনিয়ে আনতে সকলকে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। মহানগর উন্নয়ন পরিষদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।  এছাড়াও ইসলামী ঐক্যজোটের পক্ষে প্রার্থী হিসেবে হেফাজতে ইসলাম নেতা মাওলানা ফজলুর রহমানের নামও শোনা যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, প্রার্থী যারাই হোক, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তীব্র লড়াই হবে নৌকা আর ধানের শীষের মধ্যে।

উল্লেখ্য আগামী ১৫ মে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ১২ এপ্রিল। যাচাই বাছাই ১৫ ও ১৬ এপ্রিল, প্রার্থীতা প্রত্যাহার ২৩ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ হবে ১৫ মে। নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মন্ডলকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ২০১৩ সালের ৬ জুলাই গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড নিয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন গঠিত। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৪২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫লাখ ৯১ হাজার ১০৭ এবং মহিলা ৫ লাখ ৭৩হাজার ৩১৮ জন। 

২০১৩ সালের ৬ জুলাই নির্বাচনে দশ লাখ ২৬ হাজার ৯৩৯ জন ভোটার নির্বাচনে ভোট দেন। এ মাঝে অধ্যাপক এম এ মান্নান ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৪৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামীলীগ মনোনীত এডঃ আজমত উল্লাহ খান পেয়েছিলেন ২লাখ ৫৮ হাজার ৮৬৭ ভোট। 

প্রসঙ্গত, রাজধানী ঢাকার সণিœকটে অবস্থিত গাজীপুর জেলাকে ২০১০ সালের ১৬ মার্চ বিশেষ শ্রেণির জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৭৪ সালে ৩২ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার আয়তনের টঙ্গী পৌরসভা গঠন করা হয়। অপরদিকে গাজীপুর পৌরসভার আয়তন ৪৮ দশমিক ৫০ বর্গ কিলোমিটার। এটি ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই দুই পৌরসভা এবং গাজীপুর ক্যান্টনমেন্টের ১৮৮৮ দশমিক ৩৮ একর এলাকা নিয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন গঠন করা হয়। যার মোট আয়তন ৩২৯ দশমিক ৫৩ বর্গ কিলোমিটার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ