ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 April 2018, ২২ চৈত্র ১৪২৪, ১৭ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নারায়ণগঞ্জ প্রমিলা ভলিবল যেন স্বপ্ন

মোহাম্মদ সুমন বাকী : ভলিবল অন্যতম  জনপ্রিয়  ক্রীড়া বাংলাদেশে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে বিভিন্ন সংস্থাগুলোতে এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। সেটা যুগ যুগ ধরে। নেট ও বল এই দু’ টোর সমন্বয়ে ভলিবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। যা দেখা যায় সারা বিশ্বের প্রেক্ষাপটে। তবে লাল সবুজ পতাকা দেশের বিষয়টি আলাদা। এখানে ভলিবল খুবই জনপ্রিয়। সেটা ঠিক। কিন্তু চর্চা চলে দায়ছাড়া ভাবে। অথচ এই খেলার ভবিষ্যাৎ উজ্জল। এমন ধারনা ভলিবল বিশেষজ্ঞদের। যারা এর স্পর্শে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন বছরের পর বছর ধরে। শুধুমাত আর্থিক সমস্যার কারণে পিছেয়ে পড়েছে ক্রীড়াটি। তা সত্য কথা। বাহিনী দলগুলো ভলিবল লড়াইয়ে খুবই শক্তিশালী। যা সকলের বোধগম্য। এ খেলার শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে দাপটের সঙ্গে শরীক হয় বিজিবি, সেনা বাহিনী, আনসার ভিডিপি, নৌ বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস দল। সে কথা বলারাহুল্য। যাদের উদ্ভাসিত নৈপুণ্য মন জিতে নিয়েছে বার বার। তারাই বাংলাদেশের নেট-বলের এই ক্রীড়ার বড় উপহার। এককথায় অভিহিত করা যায় আলোকিত ধারায় চমৎকার। এ সব দলের স্পন্সর নেই। সেটা বাস্তবতার দৃশ্যে শতভাগ সত্য। বিন্দু পরিমান মিথ্যের আভাসটুকু দেখতে পারবেন না কেউ। কি বলেন ? স্পন্সর নেই। তাতে কি? অন্যদিকে রুটিন মাফিক সুবিধা আছে। যা অবশ্যই তুলে ধরা দরকার। তা হচ্ছে বাহিনীর মাসিক বাজেট। সেটা দলেরপ্লেয়ারদের মজবুত আকারে ভিত গড়ে দিয়েছে সব সময়। যা একটি ভরসার পাত্র। তা (বাজেট) আবার বৃদ্ধি পায় খেলাধুলা সংযোগের কারনে। সেটা দেশের পরিস্থিতি বুঝে। এ ছাড়া আর কিছু নয়। ব্যস, সুবিধা এমন বাজেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তা দৃশ্যমান হয়েছে বছরের পর বছর ধরে। যারা স্থায়ী স্পন্সর পায় না। সেটা নতুন করে কলমের কালিতে তুলে না ধরলেও হয়।

এই বাজেটের ওপর ভরসা রেখে ভলিবল খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন। যা ফুটে উঠে ভালোবাসার বন্ধনে জড়িয়ে। ঘুরে ফিরে তা দেখা গেছে স্বচ্ছ পানির ন্যায়ের ধারাতে। সেটা স্থায়িত্ব পায় এ ভুবনে। যা কি নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে? তাই বাহিনী দলগুলোর আধিপত্য ভলিবল রাজ্যে বজায় আছে। এর বিপরীতে দিকে পাত্তা নেই অন্যদের। অর্থ্যাৎ ক্লাব বা জেলা টিমের। এই অবস্থায় বাংলাদেশ পুলিশ পা রাখে নেট- বলের আকর্ষণীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার অঙ্গনে। যাদের পারফরম্যান্স দর্শকের হৃদয় কেড়ে নেয়। সেটা ছন্দের তালে তালে। এমন ধারাতে তারাও শক্তিশালী হয়ে উঠে। সেই জেলা, ক্লাব টিম পিছিয়ে রয়েছে। আর্থিক সমস্যার কারনে। পুরুষ এবং প্রমিলা ভলিবলের ভুবনে।সত্তর আশি দশকের কথা। তা গত শতাব্দীর (উনবিংশ)। তখন দুর্দান্ত দল ছিলো জনপ্রিয় ঢাকা আবাহনী। বিশেষ করে প্রমিলা বিভাগে তাদের নৈপূন্যের  দাপটে ভলিবল কোর্ট আলোকিত হয়ে উঠতো। যারা আইডলের রুপে স্থান পায় বিভিন্ন জেলা টিমের কাছে। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, টেবিল টেনিসে সবুজ ঘেেসর ময়দানের যুদ্ধে বেঁচে থাকলেও ভলিবলে ঢাকা আবাহনী ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিয়েছে। বিংশ শতাব্দীর কোটি কোটি ক্রীড়া পাগল প্রেমীর অভিমত কি এই বিষয়ে?  হ্যাঁ, বিশেষ করে প্রমিলা ভলিবল অঙ্গনে দারুণ টিম, আবাহনী। যা ছিলো উৎসাহ এবং প্রেরনা যোগাবার পারফেক্ট আইডল। কোটি কোটি সমর্থকের দল আবাহনীর জার্সি গায়ে জড়াবে। এমন স্বপ্ন দেখে খেলার জগতে পা রাখে মেয়েরা। সেটা ভলিবলকে ভালোবেসে। তা বলাবাহুল্য। এই পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ  মহাকুমায় ক্রীড়াটির বিচরণ ছিলো দাপটকে পুঁজি করে। সেই সময় পুরুষদের পাশাপাশি মেয়েরা এ ধারায় পারফর্ম ধরে রাকে। যা ঈর্ষণীয় বটে! এমন ক্ষেত্রে মেয়েরা (প্রমিলা) আলোকিত হয় বেশি। অবশ্যই তা উদ্ভাসিত নৈপুণ্যের গুণে। মহাকুমা হতে জেলা হিসেবে উন্নতি পায় নারায়ণগঞ্জ। কোনো ব্যতিক্রম নয়। পূর্বের রূপে অবস্থান করে প্রমিলা ভলিবল দল। দুর্দান্ত নৈপূন্য দেখায় তারা। 

লাল-সবুজ পতাকা দেশের মিডিয়ায় তাদের নিয়ে লেখালেখি হয় দফায় দফায়। আবাহনী প্রমিলা ভলিবল থেকে সরে দাঁড়ালে জেলা পর্যায়ের টিমগুলোর দাপট বেড়ে যায়। যেখানে খুলনা, রাজশাহী আলোকিত নাম। যারা কোর্টের লড়াইয়ে একতরফা দাপট দেখিয়েছে। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা ঘরে তুলেছে। যা পায় ঘুরে-ফিরে। ঢাকা, চট্টগ্রাম জেলা দল পাত্তা পায়নি তাদের কাছে। সেটা অবাক করার মতো কান্ড! ঠিক এ অবস্থায় অন্য একটি সম্ভাবনাময় দলের আগমন ঘটে। যারা সাড়া ফেলে সারা দেশে। প্রমিলা ভলিবল ভুবন জ্বল জ্বল করে। টিমের নাম নারায়ণগঞ্জ জেলা। যাদের পদচারণায় খেলাটির আলোচনা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। স্কুল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ রানার্সআপ হয় তখন। এরপর শিরোপাও জিতে। একই দল জাতীয় চ্যাম্পিয়নশীপে ফাইনালে উঠে। বিভাগীয় পর্যায়ের মাঠের যুদ্ধে কয়েকবার শিরোপা পায়। স্কুল টুর্নামেন্টে তারা তৎকালীন মর্গ্যান গার্লস স্কুল টিমের পক্ষে অংশ নেন। বর্তমানে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কলেজে রূপান্তরিত হয়েছে। যাক সে কথা। আশির দশকে তাদের নৈপুণ্য ছিলো অসাধারণ। স্কুল কমিটির সদস্য, ডোনার হিসেবে নিলু মল্লিক, জানে আলম, নিজাম কমিশনার, দেলোয়ার হোসেন চুন্নু, ডিসি, এসপি যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছেন পদাধিকার বলে। এ ক্ষেত্রে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক এবং নারায়ণগঞ্জ আবাহনী সমর্থক গোষ্ঠীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এম এ বাকী, প্রভাবশালী কর্মকর্তা কে ইউ আকসির, সাবেক ক্রিকেটার খবির আহমেদ, প্রাক্তন ফুটবলার আশরাফ উদ্দিন চুন্নু, জেড ইসমাইল বাবুলসহ অনেকে। প্রমিলা টিমের কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন আবুল হোসেন ও জুলু। সুপার নৈপুণ্য প্রদর্শন করে দেশের প্রমিলা ভলিবলে তারকার তালিকায় নাম লেখান আতিয়া বাকী, পাখী, মাহফুজা, নাহিদা, সাইদা, বিজলী, সবুজরা। এর ফলে তাদের নিয়ে সুপার প্রতিবেদন তৈরী করে বাংলার বানী, ইত্তেফাক সহ অনেক পত্রিকা। পাখী-মাহফুজা জুটি ছিলো দুর্বার। এক কথায় চমৎকার। সেটা পারফরম্যান্সের অপরূপ বাহার। নাহিদা, বিজলীদের প্রচেষ্টায় দল সফল। যারা আন্তঃমহিলা কলেজে প্রতিযোগিতায় সরকারী (নারায়ণগঞ্জ) মহিলা কলেজ টিমকে সাফল্য পাইয়ে দিয়েছে। যা ইতিহাসের পাতায় স্বাক্ষী হয়ে আছে। তা দাপটের সাথে। স্কুল, কলেজ, জেলা টিমের নেতৃত্ব দেন আতিয়া বাকী পাখী এমন সাফল্যের জোয়ারে। একই পথে হাঁটেন নায়লা। যার নেতৃত্বে মর্গ্যান গার্লস স্কুল বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয় ভলিবল প্রতিযোগিতায়। এ সাফল্যের দৃশ্য ফুটে উঠে গত শতাব্দীর নব্বই দশকে। এমন কীর্তি গড়ার ক্ষেত্রে মাহমুদা খান, ববি, জেসমিন, পপি, মুক্তা, মুন্না, পাপিরা বীর দর্পে ভূমিকা রাখে। তখন মর্গ্যান, আমলা পাড়া গার্লস স্কুল, মহিলা কলেজের দাপট ভলিবল কোর্টে চোখে পড়ে। তরুণ সংগঠক এবং বঙ্গসাথী ক্লাবের কর্মকর্তা মতিন বলেছেন অন্য কথা। তার মতে নারায়ণগঞ্জের প্রমিলা ভলিবল এখন স্বপ্ন। তা অতীতের বিশ্লেষণের তুলনায়। বিংশ শতাব্দীর বর্তমান সময়ে যা হারিয়ে গেছে। সেটা স্বীকার করতে হবে সবাইকে। কোথাও টুর্নামেন্ট নেই ধারাবাহিক আয়োজনের মধ্যে দিয়ে। বলেন কি? আসলে মতিনের কথা সত্য। কোথাও প্রমিলা ভলিবলের প্রতিযোগিতা নেই। বর্তমান প্রেক্ষাপটে যা স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। চারদিকে স্পন্সরের অভাব। ব্যক্তিগত ডোনার নাই। মর্গান, আমলাপাড়া গার্লস স্কুল, মহিলা কলেজ, ফায়ার সার্ভিসের মাঠ ফাঁকা তাই। নারায়ণগঞ্জের প্রমিলা ভলিবল ঠাঁই নিয়েছে স্মৃতির পাতায়। সেটা পড়ে আছে অবহেলায়। তা কেন? প্রশ্ন জাগে! এমন নাজুক পরিস্থিতিতে জেলা ক্রীড়া সংস্থা কর্মকর্তাদের ভাবনা স্থান পেয়েছে ঘুমের রাজ্যে!! তা সত্যের বানীতে ফুটে উঠেছে!!! অবশ্যই যা স্পষ্ট আকারে। নারায়ণগঞ্জ প্রমিলা ভলিবল যেন স্বপ্ন। জেলা ক্রীড়া সংস্থা সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ টিটু বলেন কি?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ