ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 April 2018, ২২ চৈত্র ১৪২৪, ১৭ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পরকীয়ায় খুন বাবু সোনা স্ত্রী ও প্রেমিকসহ গ্রেফতার ৫

 

 মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, রংপুর অফিস : অবশেষে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে  রংপুরের এ্যাডভোকেট বাবু সোনার বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করেছে র‌্যাব। মঙ্গলবার গভীর রাতে নগরীর তাজহাট মোল্লাপাড়ার একটি পরিত্যাক্ত বাড়ির খোলা রুমের মাটির নীচ থেকে তার বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে র‌্যাব। এ ঘটনায় তার  স্ত্রী ¯িœগ্ধা সরকার, পরকীয়া প্রেমিক কামরুল ইসলাম, সহকারী মিলন মোহন্তসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

 এ্যাডভোকেট বাবু সোনার লাশ উদ্ধারের পর র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ বুধবার সকালে হেলিকপ্টারে ছুটে আসেন রংপুরে । তিনি স্থানীয় র‌্যাব কর্মকর্তাদের নিকট ঘটনার বিস্তারিত জানার পর দুপুর ১২টায় রংপুর র‌্যাব-১৩ সদর দপ্তর কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন। প্রেস  ব্রিফিংয়ে র‌্যাব ডিজি বলেন, প্রাথমিক তদন্ত মতে স্ত্রী ¯িœগ্ধা সরকার দীপা ভৌমিকের পরকীয়ার জেরে পাবিরারিক অবিশ্বাস, দ্বন্দ্ব, অশান্তির কারণে রংপুর বিশেষ জজ আদালতের পিপি ও আওয়ামীলীগ নেতা রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনাকে গত ২৯ মার্চ রাতেই নিজ শয়ন কক্ষে হত্যা করা হয়।  প্রেস ব্রিফিংএ উপস্থিত ছিলেন পুলিশের রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, র‌্যাব-১৩ ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর আরমিন রাব্বীসহ পুলিশ ও র‌্যাবের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। 

 দুই মাস আগ থেকেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় জানিয়ে র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, দুটি চাঞ্চল্যকর মামলার সরকার পক্ষের কৌশলী এবং বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ এ্যাডভোকেট রথিশ চন্দ্র ভৌমিক গত ৩০ মার্চ সকাল ৬ টা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন মর্মে ওইদিন রাত ১১ টায় আইনশৃংখলা বাহিনীকে জানানো হয়। এরপর থেকেই পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি র‌্যাব-১৩ এবং ঢাকা থেকে র‌্যাবের একটি বিশেষজ্ঞ টিম আইনজীবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিক নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তদন্ত শুরু করেন। পরবর্তীতে তার ভাই সুশান্ত ভৌমিক কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরই ধারাহিকতায় র‌্যাবের গোয়েন্দা টিম তথ্য পেয়ে মঙ্গলবার রাতে বাবু সোনার স্ত্রী ¯িœগ্ধাকে র‌্যাবের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে তার স্ত্রী ¯িœগ্ধা সরকার দীপা বাবু সোনাকে হত্যাকান্ডের সাথে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ও লাশের অবস্থান জানায়। এসময় স্ত্রী ¯িœগ্ধা সরকার দীপা র‌্যাবকে জানায়, পারিবারিক কলহ, পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয়ে সে তার স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এই কাজে তাকে সহযোগিতা করে তার পরকীয়া প্রেমিক কামরুল ইসলাম। এছাড়াও লাশ গুমের মাটি খোরার সাথে কামরুল ইসলাম সহযোগিতা নেয় দুই ছাত্রের। 

 ব্রিফিংয়ে র‌্যাব মহাপরিচালক আরও জানান, আমরা তার স্ত্রী এবং দুই ছাত্রকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছি। কি ধরনের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে তা মেডিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যাবে। আমরা আশাকরি এ ঘটনার সাথে জড়িতের আইনের আওতায় নিয়ে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। 

 এদিকে ডিজির ব্রিফিংশেষে র‌্যাব-১৩, রংপুর এর সহকারী পরিচালক সহকারী পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মর্তুজা এ্যডভোকেট বাবু সোনা হত্যার রহস্য উদঘাটন ও লাশ উদ্ধারের বিষয়ে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেন। এতে বলা হয়, এ্যডভোকেট বাবু সোনা নিখোঁজের ঘটনায় গত ১ এপ্রিল তার ছোটভাই সাংবাদিক সুশান্ত ভৌমিকের দায়েরকৃত মামলার (ধারা ১৬৪/৩৪দন্ডবিধি) সূত্র ধরে গত মঙ্গলবার রাতে বাবু সোনার স্ত্রী দীপা ভৌমিককে র‌্যাব-১৩ সদর দপ্তরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে বাবু সোনার স্ত্রী দীপা ভৌমিক র‌্যাবকে স্বীকারোক্তি দিয়ে জানায়, পারিবারিক কলহ, সন্দেহ এবং পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয়ে তিনি এ্যডভোকেট বাবু সোনাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং এ কাজে তাকে সহযোগিতা করে তার প্রেমিক ও সহকর্মী তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামরুল ইসলাম। দুই মাস আগ থেকেই তারা এই হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা করেছিল। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রী দীপা ভৌমিক বাবু সোনা হত্যাকান্ডের সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে এবং লাশের অবস্থান সম্পর্কে জানায়। 

 র‌্যাব জানায়, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২৯ মার্চ বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার দিকে স্ত্রী দীপা ভৌমিক ভাত ও দুধের সাথে ১০ টি ঘুমের বড়ি খাওয়ান বাবু সোনাকে। এরপর বাড়ির পেছন দরজা দিয়ে শয়ন কক্ষে প্রবেশ করায় প্রেমিক কামরুল ইসলামকে। এক পর্যায়ে বাবু সোনা অচেতন হয়ে পড়লে স্ত্রী দীপা ভৌমিক ও পরকীয়া প্রেমিক কামরুল মিলে বাবু সোনার গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে শয়নকক্ষের আলমিরাতে লাশ রেখে দেয়। পরের দিন ৩০ মার্চ শুক্রবার   ভোর ৫ টায় শয়ন কক্ষ থেকে বের হয়ে যায় কামরুল। সকাল ৯ টায় কামরুল লাশ গুম করার জন্য একটি ভ্যান নিয়ে আসে এবং স্ত্রী আলমিরা পরিবর্তন করার কথা বলে ভ্যানে করে আলমিরাতে থাকা লাশ নিয়ে আগে থেকে মাটি খুরে রাখা সেই বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গিয়ে সকাল  ১১ টার মধ্যে আলমিরা থেকে লাশ নামিয়ে বস্তাতে ভরে পুতে রাখে এবং তাতে মাটি ভরাট করে দেয়। বাড়ি থেকে আলমারি বহন করে ভ্যানে তোলার জন্য তিনজন লোকও ঠিক করে ওই কামরুল মাস্টার।  

 র‌্যাব জানায়, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২৬ মার্চ রাতে তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাবু সোনার স্ত্রী দীপা ভৌমিকের সহকর্মী ও পরকীয়া প্রেমিক কামরুল ইসলাম ৩০০ টাকার বিনিময়ে তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র সবুজ ইসলাম ও রোকনুজ্জামানকে দিয়ে তাজহাট মোল্লাপাড়ায় কামরুলের বড় ভাই খাদেমুল ইসলামের পরিত্যাক্ত বিল্ডিংয়ের খোলা রুমের মেঝের বালু খুরে রাখে। র‌্যাব আরও জানায়, মঙ্গলবার রাতে স্ত্রীর দেখিয়ে দেয়া  ওই স্থান থেকে বাবু সোনার লাশ মাটির নীচ থেকে উদ্ধার করে  ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মেডিকাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। 

এদিকে তদন্তরত সংস্থাগুলোর সূত্রমতে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বাবু সোনাকে হত্যার টার্গেট করে তার স্ত্রী ¯িœগ্ধা সরকার  দীপা ভৌমিক ও পরকীয়া প্রেমিক কামরুল ইসলাম। শুধু তাই নয়, হত্যার পর ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে প্রবাহিত করতে তারা নানামুখি কৌশল নেয়। এজন্য তারা জাপানি নাগরিক কোনিও হোসি ও মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলার রায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের মামলার সাক্ষি এবং ডিমলায় রাজ দেবোত্তর সম্পত্বি নিয়ে বিরোধের প্রসঙ্গকে সামনে রেখে হত্যাকান্ড বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে থাকে। এরই অংশ হিসেবে তারা হত্যাকান্ডের দিন বেছে নেয় ২৯ মার্চ রাতে। ওই রাতেই বাবু সোনার ভাই সাংবাদিক সুশান্ত ভৌমিক অফিসিয়াল কাজে ঢাকায় যান। তদন্ত সূত্রগুলো জানায়, সুশান্ত ভৌমিকের ঢাকায় যাওয়া বিষয়টি বাবু সোনার স্ত্রী তার পরকীয়া প্রেমিককে  নিশ্চিত করেই ওই রাতেই হত্যাকান্ডটি ঘটান। বৃহস্পতিবার রাতে বাবু সোনা বাড়ি ফেরার পর রাতের খাবারের সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। হত্যাকান্ডের পরপরই তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে সীম সরিয়ে ফেলে দীপা ভৌমিক ও তার প্রেমিক। 

 তদন্ত সংস্থাগুলোর সূত্র মতে, হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়ার অন্তত: ২ ঘন্টা আগে দীপা ভৌমিক পরকীয়া প্রেমিক কামরুলকে বাড়ির পেছনে নিয়ে এসে রাখে। শুধু বাবু সোনাকেই নয় তার নবম শ্রেণী পড়–য়া মেয়েকেও দীপা ভৌমিক ৪ টি ঘুমের ট্যাবলেট দুধের সাথে খাইয়ে দিয়ে অচেতন করে রাখে । এবং পরিবারের কেউ যাতে সন্দেহ করতে না পারে সেজন্য আলমিরা পরিবর্তনের নাটক সাজিয়ে ভ্যানে করে লাশ নিয়ে পুতে রাখে। এরপর একই ভ্যানে একটি নতুন আলমিরা নিয়ে এসে শয়ন কক্ষের সেই জায়গায় রেখে পরিবারের লোকজনকে জানায় ওই আলমিরাটা স্কুলে দিলাম। নতুন আলমিরা নিয়ে আসলাম। এরপর বিকেল ৩ টায় সে ঢাকায় অবস্থানরত তার দেবর সাংবাদিক সুশান্ত ভৌমিককে জানায়, বাবু সোনার ফোন বন্ধ। তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। রাতে বিষয়টি জানতে পেরে মিডিয়া কর্মীরা তার বাড়িতে ভীড় জমায়। 

 পুর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঘটনাটিকে জঙ্গি অথবা জামায়াত শিবিরের ওপর চাপিয়ে দিতে এসময় দীপা ভৌমিক গণমাধ্যমকর্মীদের সাক্ষাৎকার দিয়ে জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে গোসল শেষে কাজের কথা বলে নগরীর তাজহাট বাবুপাড়ার বাসা থেকে আমার স্বামী পায়জামা-পাঞ্জাবি পরা এক ব্যক্তির সঙ্গে একটি লাল মোটরসাইকেলে করে চলে যান। যাওয়া সময় বলেছিলেন দুপুর ১২ টার মধ্যেই ফিরে আসবো। কিন্তু দুপুরে ফিরে না আসায় কল দিলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাই। এরপর বিষয়টি আমি আমার দেবর সাংবাদিক সুশান্ত ভৌমিককে জানাই। এরপর থেকে তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। এরপর আমরা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করি। এসময় তিনি সাংবাদিকদের আরও বলেছিলেন আমার স্বামী রংপুরের চাঞ্ছল্যকর জাপানি নাগরিক কোনিও হোসি এবং মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলার সরকারপক্ষের প্রধান কুশলী ছিলেন। ওই দুটি মামলায় জেএমবি জঙ্গিদের ফাঁসির আদেশ হওয়ার পর থেকেই আমার স্বামীকে বিভিন্নভাবে মোবাইলে হুমকি দেয়া হচ্ছিল। ওই রায়ের কারণে জেএমবি জঙ্গিরা আমার স্বামীর প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন। আমার স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার সাথে জেএমবি জঙ্গিরা জড়িত থাকতে পারে। আমি অবিলম্বে আমার স্বামীকে সুস্থভাবে ফিরে পেতে চাই। 

 এরপর তাদের পাতানো ফাঁদ অনুযায়ী শনিবার সকালে সেখানে উপস্থিত একজন কলা ব্যবসায়ীকে দিয়ে সাংবাদিকদের বলানো হয়, সকাল ৬ টার দিকে  বাবু সোনার বাড়ির সামনে পাঞ্জাবি পরা এক ব্যক্তিকে মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষা করতে দেখেছেন। তবে তাকে তিনি চেনেন না। কিছুক্ষণ পর এ্যডভোকেট সাহেব ওই মোটরসাইকেলে চরে আরকে রোড দিয়ে জমিদার বাড়ির দিকে গেছেন বলেও শনিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন ওই কলা ব্যবসায়ী। 

 এদিকে ঘটনা শুনে তড়িঘড়ি করে রাতেই ঢাকা থেকে ফিরে আসেন এ্যডভোকেট বাবু সোনার ছোট ভাই রংপুর প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ, সাংবাদিক রংপুর অফিসের ইনচার্জ সুশান্ত ভৌমিক। শনিবার সকালে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আমি জরুরী কাজে শুক্রবার ঢাকায় গিয়েছিলাম। সেখানে থাকা অবস্থায় খবর পাই আমার বড় ভাই সকালে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। বিষয়টি আমি পুলিশ সুপারকে অবহিত করার পাশাপাশি থানায় জিডি করেছি। 

 তদন্ত সূত্রগুলোর তথ্য মতে, ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এরই মধ্যে শনিবার সকালে চতুর স্ত্রী দীপা ভৌমিক ও পরকীয়া প্রেমিক কামরুল ইসলাম তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক ২ ঘন্টা অবরোধ করে রাখে। এছাড়াও তাদের নিজস্ব কিছু লোক দিয়ে বাবুপাড়া এলাকায় সড়কে টায়ার জালিয়ে বিক্ষোভ করায়। এরপর থেকে নগরীতে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ পেশাজীবী বিভিন্ন সংগঠনের ব্যনারে বাবু সোনার উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ, স্মারকলিপি পেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে থাকে। এসব কর্মসূচিতে এ ঘটনার সাথে জেএমবি জঙ্গি ও জামায়াত শিবির এবং দেবোত্তর সম্পত্তির বিষয়টি আলোকপাত হতে থাকে। 

  তদন্ত সূত্রগুলো আরও জানায়, জঙ্গি, যুদ্ধাপরাধ এবং দেবোত্তর সম্পত্বির মামলার বিষয়টির কারণেই অপহরণ হতে পারে বলে পরকীয়া প্রেমিকের পরিকল্পনা অনুযায়ী স্ত্রী দীপা ভৌমিকের মুখ দিয়ে মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দেয়া হলেও বিষয়টি প্রথমে বুঝতে পারেন নি পরিবারের অন্য সদস্যরা। তদন্ত সূত্রগুলো জানায়, দীপা ভৌমিক ও তার পরকীয়া প্রেমিক কামরুল ইসলাম লাশ গুম করার স্থান হিসেবে বেছে নেন কামরুলের বড় ভাই খাদেমুল ইসলামের পরিত্যাক্ত বাড়ি। ১০ বছর আগে বাড়িটি ছাদ ঢালাই করার পর আর কোন কাজ করেন নি তিনি। চাকরির সুবাধে ঢাকায় অবস্থান করেন তিনি। কামরুল ওই বাড়িতেই লাশ গুম করার সিদ্ধান্ত হিসেবে স্কুলের কয়েকজন ছাত্রকে কৃষি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে বলে গর্ত খুড়িয়ে নেন। এছাড়াও সেখানে তিনি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের কোচিং ক্লাস করাবেন বলেও ছাত্রছাত্রীদের জানান। তদন্তসূত্রগুলোর ধারণা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই কামরুল ও দীপা ওই বাড়িটি সংস্কারের নামে সেখানে মেঝে প্লাস্টার করে নিতো এবং কেউ যাতে বুঝতে না পারে সেজন্য কোচিংও শুরু করার পরিকল্পনা করেছিল। এদিকে তদন্ত সূত্রগুলোর তথ্য মতে, বাবু সোনার সহকারী মিলন মোহন্ত কামরুল ইসলামের সাথে পরকীয়ার বিষয়টি ভালোভাবে জানতো। সেকারণে মিলন মোহন্তকে দীপা ভৌমিক কোনভাবেই চটাতে চাইতেন না। এমনকি মিলন মোহন্ত তার কন্যাকে উত্ত্যক্ত করলেও দীপা ভৌমিক তাতে সায় দিতো বলেও জানায় তদন্তরত সংস্থাগুলোর বিভিন্ন সূত্র। 

তদন্তসূত্রগুলো জানায়, এরই মধ্যে বিভিন্ন সময় দীপা ভৌমিক ও কামরুল ইসলাম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। কিন্তু পুলিশ বাবু সোনার সহকারী মিলন মোহন্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর পরকীয়ার বিষয়টি তদন্তে যোগ হয়। এক পর্যায়ে সোমবার গ্রেফতার করা হয় পরকীয়া প্রেমিক কামরুল ইসলামকে। তার কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ কোন পদ্ধতিতে বিষয়টি নিয়ে কাজ করবে তার কৌশল নির্ধারণ করতে থাকে। এরপর ঘটনাটির সাথে ভিন্ন কিছু আছে মনে করে পরিবারের অন্য সদস্যরা পুলিশকে অবহিত করে। তারা মঙ্গলবার পুলিশ ও র‌্যাব দিয়ে বাড়ির পেছনে গোয়াল ঘরে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি ডোবা ছেচিয়ে নেন। এতে বেশ কিছু আলামত উঠে আসে। এক পর্যায়ে মঙ্গলবার সন্ধায় র‌্যাব নিশ্চিত হয়ে যায়, এ ঘটনা স্ত্রীর পরকীয়ার কারণে ঘটেছে। তারা নিশ্চিত হয়ে দীপা ভৌমিককে তুলে নিয়ে আসলে তিনি স্বীকারোক্তি দেন। স্বীকারোক্তি নিতে বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে র‌্যাব। 

রংপুর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান সাইফ জানান, এ্যডভোকেট বাবু সোনার লাশের সুরুতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। ময়না তদন্ত চলছে। ভিসেরা পরীক্ষার  জন্য আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। তা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ