ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 April 2018, ২২ চৈত্র ১৪২৪, ১৭ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিএনপি ও বিরোধী মতকে দমন করতে দুদককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে সরকার-ব্যারিস্টার মওদুদ

 

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক সরকারের সাথে হাত মিলিয়ে বিএনপির শীর্ষ আট নেতার বিরুদ্ধে ১২৫ কোটি টাকা লেনদেনের যে অভিযোগ করেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। তিনি বলেন,  ভয়-ভীতি, আতঙ্ক এই সরকারের প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য বিএনপি ও বিরোধী মতকে দমন করার জন্য দুদককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে সরকার। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ধ্বংস করাকে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেন সাবেক এই আইনমন্ত্রী। 

গতকাল বুধবার জাতীয প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে অপরাজেয় বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠন। 

সরকার দলীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করে আপনারা নিয়ে যাচ্ছেন সুইজারল্যান্ড, কানাডা, আমেরিকা ও সেকেন্ড হোম মালয়েশিয়াতে।

তিনি বলেন, ৩৭ হাজার কোটি টাকা গত এক বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে। এই টাকা পাচার করেছে সরকারের মদদপুষ্ট মানুষরা। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করলো কারা? তার কোনো তদন্ত হয় না। আপনারা অনুসন্ধান করতে চান, করেন। তা না করে পত্র-পত্রিকায় দেন কেনো? তার মানে আপনাদের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তাই আপনারা পত্র-পত্রিকায় ছাপিয়ে রায় দিতে পারেন। আপনাদের উদ্দেশ্য হলো চরিত্র হনন করা ও রাজনৈতিক নেতাদের শেষ করে দেওয়া। যত চেষ্টাই হোক এগুলো আইন আদালতের বারান্দায় যাবে না। কারণ, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

মওদুদ বলেন, এই দুর্নীতি দমন কমিশন আমরা তৈরি করেছিলাম একটা স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে। কিন্তু এরা এখন সরকারের তল্পিবাহক হিসেবে কাজ করছে। সরকারের সাথে হাত মিলিয়েছে, যে কি করে বিএনপিকে আরও দুর্বল করা যায়। বিএনপির এই আইনজীবী বলেন, দুদক বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ১২৫ কোটি টাকা লেনদেন করার অভিযোগটি প্রচার করেছে শুধু মাত্র নেতাদের চরিত্র হনন করার জন্য। জনগণের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য।

 

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা  বলেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বেগম খালেদা জিয়া বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন। যতদিন তিনি জেলে থাকবেন ততদিন তার জনপ্রিয়তা বাড়বে। কোনোদিনই সেই জনপ্রিয়তার সাথে ম্যাচ করতে আওয়ামী লীগ পারবে না।  

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি বাংলাদেশের মানুষ নিশ্চিত করবে রাজপথে, আদালতে যদি না পারি। আর বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়েই আমরা নির্বাচন করবো। বেগম জিয়াকে ছাড়া বাংলাদেশে কোনো অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না, কোনো নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না।

ব্যারিস্টার মওদুদ এও বলেন, শুধু আইনি লড়াইয়ের ওপর নির্ভর করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে, এমন ধারণা ভুল। তিনি বলেন, আমরা আইনি লড়াই করছি। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত করতে রাজপথে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। খালেদা জিয়ার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে আমাদের প্রশ্ন না করাই ভালো। আগে তার মুক্তি নিশ্চিত করবো তারপর নির্বাচনে অংশ নেবো।

মওদুদ বলেন, এই সরকারের আমলে বিচারের আগে রায় হয়ে যায়। মামলা চলমান অবস্থায় পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বললেন যে, খালেদা জিয়া চোর। আমরা একজন প্রধানমন্ত্রীর কাছে এমন বক্তব্য প্রত্যাশা করি নাই।

ভয়-ভীতি, আতঙ্ক এই সরকারের প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, বিএনপি ও বিরোধী মতকে দমন করার জন্য দুদককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে সরকার। এই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কোনো ক্ষতি করে থাকলে তা হলো- বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ধ্বংস করা হয়েছে। আর নিম্ন আদালত তো চলে সরকারের ম্যাজিস্ট্রি আইনে। দুদক গঠন করা হয়েছিল সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য। আজকে দুদক হয়ে গেছে সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠান। এখন শুধু নির্বাচন কমিশনের ওপর ভরসা করতাম। 

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ফরিদা মনি শহিদুল্লাহ্'র সভাপতিত্বে সভার আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া, শাহবাগ থানা কৃষক দলের সভাপতি এম জাহাঙ্গীর আলম, অপরাজেয় বাংলার সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সিরাজী প্রমুখ।  

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ