ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 April 2018, ২২ চৈত্র ১৪২৪, ১৭ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজশাহীর বিশিষ্ট রাজনীতিক ও কেন্দ্রীয় জামায়াত নেতা  আতাউর রহমানের ইন্তিকাল

 

রাজশাহী অফিস : রাজশাহীর বিশিষ্ট রাজনীতিক, কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমীর ও রাজশাহী মহানগরীর সাবেক আমীর জননেতা মো. আতাউর রহমান গত মঙ্গলবার গভীর রাতে রাজশাহীর নিজ বাসভবনে স্ট্রোকজনিত কারণে ইন্তিকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না লিল্লাহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিলো ৬৫ বছর।

আতাউর রহমানের ইন্তিকালে রাজশাহীর ইসলামী আন্দোলন ও রাজনৈতিক ময়দানে শোকের ছায়া নেমে আসে। গতকাল বুধবার বিকেলে নগরীর তেরখাদা মহিলা কমপ্লেক্সে নামাযে জানাযা শেষে নগরীর হাতেম খান গোরস্থানে লাশ দাফন করা হয়। জানাযায় ইমামতি করেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার সেক্রেটারি অধ্যাপক তাসলীম আলম, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, জামায়াত ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর আমীর প্রফেসর আবুল হাশেম, রাজশাহী মহানগরী আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, জামায়াত ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক খালেদ মাহমুদ, কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কলেজ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম, রাজশাহী মহানগরী শিবির সভাপতি মনিরুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবির সভাপতি লাবীব আব্দুল্লাহ।

এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, বিএনপির রাজশাহী মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শফিকুল হক মিলন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশ শূরার সদস্য মাওলানা আব্দুর রহিম, রাজশাহী মহানগরী নায়েবে আমীর এডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম, পাবনা জেলা আমীর আবু তালেব মন্ডল, নওগাঁ পূর্ব জেলা আমীর- খন্দকার আব্দুর রাকীব, জয়পুরহাট জেলা আমীর ফজলুর রহমান সাঈদ, সিরাজগঞ্জ জেলা আমীর শাহীনুর আলম, নওগাঁ জেলা আমীর অধ্যাপক বেলালুজ্জমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি লতিফুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিশ শূরার সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুস সবুর ফকির ও মোকাররম হোসাইন, কেন্দ্রীয় মজলিশ শূরার সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য নাজিম উদ্দিল মোল্লা প্রমুখ।

দলমত নির্বিশেষে বিপুল সংখ্যক মানুষ নামাজে জানাযায় অংশগ্রহণ করেন। তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র ও তিন কন্যাসহ অসংখ্য স্বজন রেখে যান। তাঁর মেজো জামাতা কারাবন্দী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের বর্তমান সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য।

পরিবারের সূত্রে জানা যায়, আতাউর রহমান মঙ্গলবার পবিত্র কুরআনের তাফসির শুনে রাত ১টার দিকে নগরীর তেরখাদা মহল্লায় নিজ বাসভবনে ফেরেন। রাত পৌনে তিনটার দিকে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তিনি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। পরে রাজশাহীর বাসিন্দা হন। তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। পেশায় রাজশাহী লোকনাথ উচ্চবিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক আতাউর রহমান ২০১২ খ্রিস্টাব্দে অবসর গ্রহণ করেন। সত্তরের দশকে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন এবং পর্যায়ক্রমে শহর জামায়াতের সেক্রেটারি ও পরে দীর্ঘদিন মহানগরী আমীরের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য ও রাজশাহী জোন পরিচালক ছিলেন। সর্বশেষ কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর হিসেবেও কিছুদিন দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কয়েকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বর্তমান সরকারের আমলে তিনি কয়েক দফা গ্রেফতার হন এবং প্রবল নির্যাতনের শিকার হন। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়। রাজশাহীতে তিনি বেশ কয়েকটি স্কুল, এতিমখানা ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

শোক প্রকাশ : জননেতা আতাউর রহমানের ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করেন, জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী জোন পরিচালক অধ্যাপক তাসনীম আলম, মহানগরীর আমীর প্রফেসর আবুল হশেম, নায়েবে আমীর প্রফেসর নজরুল ইসলামও এডভোকেট আবু মোহাম্মাদ সেলিমসহ মহানগর কর্মপরিষদ সদস্যবৃন্দ। শোক বার্তায় নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন ও শোকগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। 

সিটি মেয়রের শোক : জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর বীর মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমানের ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তিনি এক শোক বার্তায় মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ