ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 April 2018, ২২ চৈত্র ১৪২৪, ১৭ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

হাত হারানো রাজিবের চিকিৎসা ব্যয়  দুই বাস মালিককে বহনের নির্দেশ 

 

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীতে দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারানো তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব হোসেনের চিকিৎসা ব্যয় বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনকে বহন করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সেই সঙ্গে রাজীব হোসেনকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ কেনো দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে হাইকোর্ট।

গতকাল বুধবার এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার রুলসহ এ আদেশ দেয়। রুলে যাত্রীদের চলাচলে বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে কার্যকরের নির্দেশ কেনো দেয়া হবে না, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনে আইন সংশোধন ও নতুন করে বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশ কেনো দেয়া হবে না- তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, সড়ক পরিবহন সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ডিএমপি কমিশনারসহ আট বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। 

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৩ এপ্রিল বেলা দেড়টার দিকে রাজধানীর বাংলামোটরের দিক থেকে ফার্মগেটমুখী একটি দ্বিতল বিআরটিসি বাস সার্ক ফোয়ারার কাছে পান্থকুঞ্জের পাশে সিগনালে থেমে ছিল। পরে একই দিক থেকে আসা স্বজন পরিবহনের একটি বাস দ্রুতগতিতে এসে দোতলা বাসের পাশের ফাঁক দিয়ে ঢুকে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় যাত্রী রাজিব হাসানের ডান হাত দ্বিতল বাসের সঙ্গে লেগে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং হাতটি দ্বিতল বাসের সঙ্গে লেগে ঝুলছিল। পরে তাৎক্ষণিকভাবে রাজিবকে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নেয়া হয়।

পরে ওই ঘটনাটি গতকাল বুধবার বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। সেসব প্রতিবেদন সংযুক্ত করে আদালতে রিট করেন আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল। সে রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রুলসহ আদেশ দেন।

দুই বাসের চালক  গ্রেফতার : দুই বাসের চাপে তিতুমীর কলেজের স্নাতকের ছাত্র রাজীব হোসেনের হাত হারানোর ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে শাহবাগ থানা-পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বিআরটিসি বাসের চালক ওয়াহিদ ও স্বজন বাসের চালক খোরশেদ।

শাহবাগ থানার পরিদর্শক(তদন্ত) জাফর আলী গতকাল বুধবার দুপুরে দুই চালককে গ্রেপ্তারের বিষয় নিশ্চিত করেন।

মঙ্গলবার বিআরটিসির একটি দোতলা বাসের পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন রাজধানীর মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের (বাণিজ্য) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন (২১)। হাতটি বেরিয়েছিল সামান্য বাইরে। হঠাৎই পেছন থেকে একটি বাস বিআরটিসির বাসটিকে পেরিয়ে যাওয়ার বা ওভারটেক করার জন্য বাঁ দিক গা ঘেঁষে পড়ে। দুই বাসের প্রবল চাপে রাজীবের হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দু-তিনজন পথচারী দ্রুত তাকে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকেরা চেষ্টা করেও বিচ্ছিন্ন সে হাতটি রাজীবের শরীরে আর জুড়ে দিতে পারেননি। শমরিতা হাসপাতাল সূত্র বলেছে, বিচ্ছিন্ন হওয়া হাতটি জোড়া লাগানো সম্ভব নয়, তার অবস্থা গুরুতর। ওইদিনই তার অস্ত্রোপচার করা হয়।

গতকাল হাইকোর্ট রাজীব হোসেনের চিকিৎসা ব্যয় ওই দুই বাস মালিককে বহন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ নির্দেশ দেন। রুলে ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হাত হারানো রাজীব হোসেনকে কেন এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

গতকাল ‘দুই বাসের টক্করে হাত গেল কলেজছাত্র রাজীবের’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন ছাপানো হয়। এটি যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল রিটটি করেন। রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়।

এদিকে, দুই বাসের চাপায় হাত হারানো তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেনকে (২১) ঢাকা  মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল বিকেলে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে স্বজনরা তাকে নিয়ে আসেন।

রাজীবের মামা জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, ‘রাজীবের চিকিৎসা চলছিল পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসা খুবই ব্যয়বহুল। একদিনে লাখ টাকার উপরে খরচ। অথচ বাবা-মা হারা রাজীব খুবই দরিদ্র। তার পক্ষে সেখানে খরচ চালানো কষ্টকর। এ কারণে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

হাসপাতাল প্রতিনিধি জানান, রাজীবকে অর্থোপেডিক্স বিভাগে ১০১ নম্বর ওয়ার্ডে ইউনিট ১ এ ভর্তি করা হয়েছে। তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছে।

অর্থোপেডিক্স বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. শামসুজ্জামান বলেন, ‘রাজীবকে আপাতত ড্রেসিং করা হয়েছে। তাকে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে তার প্লাস্টিক সার্জারি লাগলে তা করা হবে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ