ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 April 2018, ২২ চৈত্র ১৪২৪, ১৭ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বটিয়াঘাটার লবণাক্ত এলাকায় ভুট্টা চাষে সাফল্য

খুলনা অফিস : খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ১০টি পয়েন্টে হাইব্রিড হিরা ১০৯ জাতের ভুট্টার ব্যাপক চাষের সাথে ব্যাপক সাফল্য এসেছে। উপজেলায় কর্মরত ২১ জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার বিভিন্ন ইউনিয়নে পরিশ্রমের সাফল্যে স্থানীয় কৃষকের ভুট্টা গাছের ক্ষেত বা মোচা দেখে তাদের আনন্দ যেন থামছে না। জানা গেছে, সরকারিভাবে সর্বমোট ১০টি ভুট্টা ব্লক আছে বটিয়াঘাটা উপজেলায়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রাজস্ব খাতের অর্থায়নে প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। হাইব্রিড হিরা ১০৯ জাতের ভুট্টা চাষ করে ফসল ঘরে তুলতে ১২০ দিন সময় লাগে তাছাড়া বিঘা প্রতি খরচ হবে ১০/১১ হাজার টাকা, ভুট্টা উৎপাদন হবে ৩০/৩৫ মণ। যার বাজার দর হিসেবে প্রতি কেজি ২০ টাকা দরে বিক্রি হলে প্রতি বিঘা জমির ভুট্টার ক্ষেত বিক্রি হবে আনুমনিক ৩০/৩৫ হাজার টাকা। ভুট্টা চাষে প্রতিটি কৃষক এতে লাভবান হবে। কয়েকটি ব্লকে সরেজমিন দেখা গেছে, সুরখালী ইউনিয়নে রায়পুর দাখিল মাদরাসার পেছনে ৫০ শতকের একটি প্লটে ভুট্টার ক্ষেতটি দেখলে মনে হবে যেন ছোটখাটো একটা সুন্দরবন। প্রতিদিন দেখার জন্য শত শত নারী পুরুষ ভিড় জমাচ্ছে।

ভুট্টার আবাদ করা ওই প্লটের কৃষক আছাবুর খান, মজিবর গাজী ও আব্দুল হালিম খাঁ জানান, ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি অফিসার সরদার আব্দুল মান্নানের সাথে যোগাযোগ করে আমরা এই ভুট্টা চাষ শুরু করি। তাদের অনুপ্রেরণা ও সরেজমিনে তদারকির আজকের এই সাফল্যের সোনা ফলন।

গঙ্গারামপুর ইউনিয়নে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিষাদ সিন্ধু ও আব্দুল গফ্ফারের নেতৃত্বে দু’টি ব্লকে, আমিরপুর ইউনিয়নে উপ-সহকারী অফিসার মিহির বৈরাগী ও শিউলি রানী বিশ্বাসের নেতৃত্বে দু’টি ব্লকে এবং সুরখালী ইউনিয়নে দায়িত্ব প্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পিন্টু মল্লিক ও জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত সরদার আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি ব্লকে ভুট্টার চাষ করা হয়েছে। গ্রামের কৃষকরা আরও জানান, শুরুর আগে অনেকে বলেছিলো লবণ এলাকা এখানে ভুট্টার আবাদ হবে না কিন্তু কৃষি কর্মকর্তা সব সময় খোঁজখবর বা পরামর্শ দেয়ার কারণে এখন দেখার মতো ভুট্টার গাছ হয়েছে এবং প্রত্যেক গাছে ৪/৫ মোচা এসেছে। আশা করি অন্য ফসলের থেকে অনেক টাকা বেশি বিক্রি হবে এবং অনেক লাভ হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত সরদার আব্দুল মান্নান বলেন, আমাদের ঊর্ধ্বতনদের কথা ঠিকমতো তদারকি করলে সব জায়গায় ভালো ফসল হবে। তার নির্দেশে কৃষকদের ঠিকমত পরামর্শ দিয়েছি আশা করি তারা ব্যাপক লাভবান হবে এবং আগামিতে ভুট্টা চাষ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে। সার্বিক বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুবায়েত আরা বলেন, আমি চাই কৃষকের মুখে হাসি। দায়িত্ব প্রাপ্ত উপ-সহকারী অফিসারদের বলা আছে তাদের কাজ শুধু কৃষকদের পাশে বসে পরামর্শ দেয়া এবং প্রতিনিয়ত ক্ষেত পরিদর্শন করবে যে কারণে লবণাক্ত এলাকায় ব্যাপক ভুট্টার চাষ হয়েছে। আশা করি আগামীতে আরও বেশি কৃষক এই লাভজনক চাষে উৎসাহিত হবে। এছাড়া জলমা ইউনিয়নের উপ-সহকারী অফিসার জিবানন্দ রায়, দিপংকর রায় ও আব্দুল হাই খানের নেতৃত্বে পাঁচটি ব্লকে সফলভাবে ভুট্টার চাষ হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ