ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 April 2018, ২২ চৈত্র ১৪২৪, ১৭ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সৈয়দপুর বিমানবন্দর হচ্ছে ডঃ ওয়াজেদ মিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নাম নিয়ে দেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

 

নীলফামারী সংবাদদাতা : দেশের আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের তালিকায় দেশের সর্ব উত্তরের জনপদ নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর বিমানবন্দরের নাম স্থান পেতে যাচ্ছে। এটি দেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পর সৈয়দপুর বিমানবন্দরটিও উন্নীত হচ্ছে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণার আগেই সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসাবে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসতে পারে বলে সংশি¬ষ্ট মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্রে আভাস মিলছে। তবে এ বিমানবন্দরের সম্ভাব্য নামকরণ হতে পারে আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন পরমাণু বিজ্ঞানী রংপুরের কৃতি সন্তান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার নামে। নামকরণ অনুমোদিত হলে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের নাম হবে ড. ওয়াজেদ মিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বরেণ্য এই বিজ্ঞানীর নামে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের নামকরণে রংপুর বিভাগের বিশিষ্টজনরা সমর্থনও ব্যক্ত করেছেন। তাদের মতে সর্বজন শ্রদ্ধেয় এই ব্যক্তির নামে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের নামকরণ করা হলে দেশের মানুষ খানিকটা হলেও তার ঋণ পরিশোধে মুক্ত হবে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিককরণের বিলবোর্ড সংশি¬ষ্ট মন্ত্রণালয় হতে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের টার্মিনাল চত্বরে লাগানো হয়েছে। এদিকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকরণের ঘোষণা আসতে পারে জেনে এ জনপদে আনন্দের সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। এই বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক হলে পুরোপুরি বদলে যাবে এ জনপদের অর্থনৈতিক দৃশ্যপট। এদিকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাজের প্রস্তুতিমূলক কাজ দেখতে গত ৩১ মার্চ সিভিল এ্যাভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশের (সিসিএবি) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ নাইম হাসান ও সদস্য (অপারেশন এ্যান্ড প্লানিং) এয়ার কমোডোর মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ে একটি পরিদর্শন টিম সরেজমিন বিমানবন্দর পরিদর্শন শেষে ঢাকা ফিরে গেছেন। সংশি¬ষ্ট সূত্র মতে তাদের পরিদর্শনের তালিকায় ছিল, রানওয়ের সম্প্রসারণ ভূমি অধিগ্রহণ, টার্মিনাল ভবন আধুনিকিকরণ, রাতের বেলা নিরাপদে যাত্রীবাহী বিমান উঠানামাকরণে এ্যাপ্রোচ লাইটিং। এর আগে অবকাঠামো নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে উত্তর কোরিয়ার কনসালটিং ফার্মের প্রতিনিধি মিস্টার ঝাং সৈয়দপুর বিমানবন্দরের আশপাশ এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন। অবশ্য রাতের বেলা যাত্রীবাহী বিমান নিরাপদে উঠানামা করার এ্যাপ্রোচ লাইটিংয়ের কাজ শতকরা ৭৫ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশি¬ষ্ট অপর একটি সূত্র জানায়। প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এ কাজ সম্পন্ন হতে চলেছে। এছাড়াও একাধিক যাত্রীবাহী বিমান অবতরণ ও উড্ডয়নে গতি আনতে বিমানবন্দরে আরো একটি এ্যাপ্রোচ রানওয়ে নির্মাণ করতে দরপত্রও আহ্বান করা হয়েছে। একই সঙ্গে জোরে শোরে চলছে রেস্ট হাউস নির্মাণের কাজও। সব মিলে আগামী অর্থ বছরে তথা নির্বাচনী বছরে সৈয়দপুর বিমানবন্দর উন্নয়নে মহা কর্মযজ্ঞ শুরু হবে বলে সংশি¬ষ্ট বিভাগের একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। এটি শুরু হলে সৈয়দপুর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী একটি প্রতিশ্রুতি এ জনপদে বাস্তবায়ন হবে। এ ব্যাপারে সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক শাহীন আহমেদ পরিদর্শন দলের বিমানবন্দর পরিদর্শনের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিমানবন্দরের অবকাঠামো এবং উন্নয়নের কারিগরি দিক পর্যবেক্ষণ করেন তারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ