ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 April 2018, ২২ চৈত্র ১৪২৪, ১৭ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আফ্রিকান অভিবাসীদের নিয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা ভেঙে দিলো ইসরাইল

জোরপূর্বক বিতাড়নের বিরুদ্ধে সমাবেশ করছেন আফ্রিকান অভিবাসীরা

৪ এপ্রিল, রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি : প্রায় ১৬ হাজার অবৈধ আফ্রিকান অভিবাসীকে রুয়ান্ডা ও উগান্ডার বদলে কানাডা, জার্মানি ও ইতালির মতো দেশে পাঠানোর যে সমঝোতা জাতিসংঘের সঙ্গে করেছিল ইসরাইল, তা বাতিল করে দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরেহ দেরি এবং দক্ষিণ তেল আবিবে থাকা আফ্রিকান অভিবাসীদের প্রতিনিধিরা নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকের পরে নেওয়া সিদ্ধান্ত জানাতে নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘ওই সমঝোতা অনুযায়ী কাজ করলে কী কী সুবিধা বা অসুবিধা হতে পারে তা বিবেচনা করার পর সমঝোতাটি বাতিল করেছি।’ এর প্রতিক্রিয়ায় ইউএনইএচসিআর এক বিবৃতিতে তাদের প্রত্যাশার ব্যক্ত করেছে, দেশের জন্যও ভালো হয় আর শরণার্থীদেরও সুব্যবস্থা হয়, এমন একটি সমাধানে পৌঁছাতে ইসরায়েল বিষয়টি নিয়ে আরও চিন্তাভাবনা করবে। 

 সোমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী অফিস জানিয়েছিল, ইসরাইলে থাকা অবৈধ অভিবাসীদের আফ্রিকার দেশগুলোতে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত তারা বাদ দিয়েছে। তার বদলে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশন ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে তাদের চুক্তি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ১৬ হাজার ২৫০ জনকে ইউএনএইচসিআরের অর্থায়নে আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডা ও উগান্ডার বদলে কানাডা, জার্মানি ও ইতালির মতো পশ্চিমা দেশে পাঠানো হবে। তার বদলে আগামী পাঁচ বছরের জন্য বাকি ১৬ হাজার ২৫০ জন অবৈধ আফ্রিকান অভিবাসীকে অস্থায়ী ভিত্তিতে ইসরায়েলে থাকতে দেওয়া হবে। ইউএনএইচসিআরের হিসেবে ইরিত্রিয়ার প্রায় ২৭ হাজার এবং সুদানের প্রায় ৮ হাজার অবৈধ অভিবাসী ইসরায়েলে রয়েছে। এদের বেশিরভাগই মিসর হয়ে ইসরায়েলে ঢুকেছিলেন ২০০৬ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে। তখনও মিসর সীমান্তে ইসরায়েল তার সীমান্তবেড়া নির্মান শেষ করেনি।

ইহুদিদের জন্য নির্ধারিত রাষ্ট্র ইসরায়েল, ইহুদি জাতীয়তাবাদীদের এমন দাবির মুখে অভিবাসীদের নিয়ে চাপ ছিল ইসরায়েল সরকারের ওপর। ক্ষমতাসীন ডানপন্থী সরকার তার সমর্থকদের দাবির মুখে আফ্রিকা থেকে যাওয়া অভিবাসীদের ইসরায়েল থেকে সরিয়ে দেওয়ার কর্মসূচী হাতে নিয়েছিল। স্বয়ং নেতানিয়াহু বলেছিলেন, তিনি আফ্রিকান 'অনুপ্রবেশকারীদের' ইসরায়েলে থাকতে দিতে চান না। গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলী কর্তৃপক্ষ ২০ হাজার আফ্রিকান পুরুষ নাগরিককে নোটিস দিয়েছিল দেশ ছাড়ার জন্য। তাদেরকে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল দুই মাসের। বলা হয়েছিল, তা না হলে তাদেরকে জেলে পাঠানো হবে। অভিবাসীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তারা রুয়ান্ডা ও উগান্ডার মধ্যে কোন দেশে যেতে চায়। যে দেশে যেতে চায় সে দেশে যাওয়ার বিমান টিকেটসহ ৩ হাজার ৫০০ ডলার করে দেওয়া হবে ইসরায়েল ছাড়ার জন্য। কিন্তু আদালতের আদেশে সে প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

উল্লেখ্য, ইসরায়েলে আফ্রিকান অভিবাসীদের সবচেয়ে বড় বসতি দক্ষিণ তেল আবিবে। সেখানে পায় ১৫ হাজার আফ্রিকান অভিবাসী থাকেন। তাদের ওই এলাকায় বেশিরভাগ দোকানের নাম আফ্রিকান ভাষায় লেখা। পরিত্যাক্ত গুদামগুলোকে গির্জায় পরিণত করা হয়েছে। মূলত ইরিত্রিয়ার খ্রিস্টানরা ওই গির্জাগুলোতে যান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ