ঢাকা, বৃহস্পতিবার 5 April 2018, ২২ চৈত্র ১৪২৪, ১৭ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আবারো তৎপর হয়ে উঠেছে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা ॥ পাঁচটি নৈশকোচ ভাঙচুর

মুহাম্মদ আবদুল আলী গুইমারা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি : আতঙ্কের নাম খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার গুইমারা উপজেলার বাইল্যাছড়ি এলাকা। গত কয়েক বছরে গুইমারার বাইল্যাছড়ি যৌথখামার, বুদংপাড়া রাস্তার মাথা, জোড়া ব্রিজ, সাইন বোর্ড ও রাবার বাগানসহ বেশ কয়েকটি স্থানে পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক স্বশস্ত্র সংগঠন (ইউপিডিএফ) এর সন্ত্রাসীরা হত্যা, অপহরণ, গাড়ি ভাংচুর, জ্বালাও-পোড়াওসহ প্রায় অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী কর্মকা- চালিয়েছে। সর্বশেষ গত ২১ শে মার্চ হিল উইমেন্স ফেডারেশনের ডাকা অবরোধ চলাকালে দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে টহল পুলিশের ওপর হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা।

২০১৭ সালের শেষের দিকে সন্ত্রাসীরা যখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলো তখন নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতায় তৎকালীন গুইমারা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহাদাত হোসেন টিটুর নেতৃত্বে পুলিশের একটি টহল দল প্রায় প্রতিরাতেই অভিযান চালিয়ে বেশ ক’জন সন্ত্রাসীকে আটক করতে সক্ষম হয়। পরে আটককৃতদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক প্রায় অর্ধশত সন্ত্রাসীকে আসামী করে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়। এতে করে ঐ এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকা- কিছুটা হলেও কমে আসে। শুধু বাইল্যাছড়িই নয় গুইমারা উপজেলায় সন্ত্রাসীদের কার্যক্রম অনেকটা ঝিমিয়ে পড়ে। এরই মধ্যে ওসি মোঃ শাহাদাত হোসেন টিটু বদলি হয়ে জেলা সদরের দায়িত্ব নেন। দীর্ঘদিন বাইল্যাছড়ি এলাকাটি শান্ত থাকার পর সম্প্রতি আবারো মাথাছাড়া দিয়ে উঠে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা। গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকাগামী ৫টি নৈশকোচে ভাঙচুর চালিয়েছে তারা। বরাবরের মত বাইল্যাছড়ি জোড়া ব্রিজ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

জানা গেছে, সোমবার রাতে খাগড়াছড়ি থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী নৈশকোচগুলো বাইল্যাছড়ি জোড়া ব্রিজ এলাকায় পৌঁছামাত্র আগ থেকে ওৎ পেতে থাকা উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা এস আলম, শান্তি পরিবহন, সৌদিয়া, হানিফ পরিবহনের পাঁচটি বাস ও একটি মাইক্রোবাসসহ বেশ কয়েকটি যানবাহনে ভাঙচুর চালায়।

সন্ত্রাসীদের ছোড়া ইটের আঘাতে এক যাত্রী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বড় ধরনের কোন অপ্রীতিকর ঘটনায় না ঘটলেও সাধারণ যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হঠাৎ করে রাতের অন্ধকারে কেনো বা কি কারণে এ হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে ইউপিডিএফের আধিপত্য বিস্তার ও নিজেদের অবস্থান জানান দেয়ার জন্য পরিকল্পিত ভাবে এ হামলা চালিয়েছে তারা।

এদিকে যাত্রীবাহী নৈশকোচে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মাটিরাঙ্গা জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল কাজী মো. শামশের উদ্দিনসহ সেনা ও পুলিশ সদস্যরা। এ সময় নিরাপত্তাবাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

গুইমারা থানায় সদ্য যোগদানকৃত অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানান, গুইমারা উপজেলার মধ্যে বাইল্যাছড়ি জোড়া ব্রিজ এলাকাটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ও সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত বলে শুনেছি। আমরা সন্ত্রাসীদের দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে ঐ এলাকায় টহল জোরদার করেছি। তবে পুলিশের একার পক্ষে সন্ত্রাসীদের দমন করা সম্ভব নয় জানিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার, জেলা প্রশাসনসহ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

কিশোরীর আত্মহত্যা : খাগড়াছড়ির গুইমারাতে আঁখি আক্তার (১৬) নামে এক কিশোরী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সোমবার বিকালে উপজেলার পশ্চিম বড়পিলাকের দক্ষিণ হাজীপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। সে হাজীপাড়া এলাকায় মোঃ মনছুর আলীর মেয়ে। স্থানীয়রা জানান, কিশোরী আঁখি আক্তার নিজ বাড়িতে তার কক্ষে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

স্বজনরা জানায়, সকাল বেলায় আঁখিসহ তার মা জালিয়াপাড়া ইসলামিক মিশনে ওষুধ আনতে যান। ওষুধ নিয়ে এসে দুপুরে খাওয়া শেষে সে তার কক্ষে বিশ্রাম নিতে যায়। বিকালে তার মা পাশের বাড়ি থেকে ঘরে এসে মেয়ের ঘুম থেকে উঠার জন্য ডাকতে গেলে দেখে সে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

আত্মহত্যার বিষয়টি প্রথমে কিশোরীর মা দেখে কান্নাকাটি করলে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে গুইমারা থানার অফিসার ইনচার্জ গেয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে।

গুইমারা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ গেয়াস উদ্দিন জানান, এ বিষয়ে গুইমারা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ